ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোরআনের সুরা ব্যবহার করে ইসরাইলের এ কেমন বিদ্রুপ

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মে ২০২১
  • / ১০৬০ বার পড়া হয়েছে

কোরআনের সুরা ব্যবহার করে ইসরাইলের এ কেমন বিদ্রুপ

ফিলিস্তিনিদের ওপর বৃষ্টির মত বোমাবর্ষণ করছে ইসরাইলি বিমান। আর এই ছবিতে যুক্ত করা হয়েছে পবিত্র কোরআনের সুরা ফিল।

ইসরাইলের আরবি ভাষার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের এমন একটি পোস্টের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন মুসলিমরা। ওই টুইটার পোস্টে গাজায় চলমান বোমাবর্ষণকে ন্যায্যতা দিতে কোরআন শরিফের একটি সুরা তুলে ধরা হয়েছে।

মিডল ইস্ট আই তাদের খবরে উল্লেখ করেছে, এর মধ্য দিয়ে কোরআনের আয়াতে মক্কার কাবাকে রক্ষা করা পাখির ঝাঁক হিসেবে নিজেদের দাবি করেছে ইসরাইল। আর যুদ্ধের হাতি হিসেবে হামাসকে তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ এমন টুইট করে বিশ্বের ১শ ৮০ কোটি মুসলিমকে অপমান করেছে।

ফিল অর্থ হলো হাতি। সুরা ফিলে প্রাক-ইসলামিক যুগে আরব ইতিহাসের একটি অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এ সুরায় হস্তিবাহিনীর ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। যুদ্ধের হাতি নিয়ে একটি বাহিনী মক্কার কাবা আক্রমণ করতে গেলে পাখির ঝাঁক পাথর ফেলে তাদের পরাজিত করে।

মঙ্গলবার সকালে ইসরাইলের আরবি ভাষার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে টুইট বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। এতে কোরআনের ১০৫তম সুরা ফিলের আয়াতের সঙ্গে ইসরাইলি বিমান হামলায় একটি ভবন থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ওঠা একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

ফলো-আপ টুইটার পোস্টে বলা হয়, এটি হলো মিথ্যাবাদীতার বিরুদ্ধে ন্যায়ের পথে থাকা মানুষদের সমর্থনে ঈশ্বরের সহযোগিতা করার সামর্থ্যের একটি নমুনা। বিশেষ করে যখন ইরানের হয়ে কাজ করা হামাস এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। আইডিএফ (ইসরাইলি সেনাবাহিনী) গাজায় হামাস সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এই বিষয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের পক্ষ থেকে টুইটার অ্যাকাউন্টটি পরিচালনকারী ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে টুইট দুটিতে কী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে আরবি ভাষায় কোরআনের আয়াতসহ ইসরাইলের টুইটটি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির এমন বক্তব্য পবিত্র কোরআনের অবমাননা ছাড়া কিছুই নয়।

প্রখ্যাত পাকিস্তানি-আমেরিকান ইসলামিক স্কলার ড. ইয়াসির কাজি বলেন, এটি কোরআন ও মানুষের পবিত্রতা নষ্ট করার মতো বিদ্রুপ।

অপর একজন প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ইসরাইলের আরবি ভাষার টুইটার অ্যাকাউন্টে গাজায় বোমাবর্ষণ নিয়ে কোরআনের আয়াত ব্যবহারের চেয়ে জঘন্য ও অমানবিক আর কিছু হতে পারে না। আমাদের পবিত্র গ্রন্থের আয়াত তোমাদের অসুস্থ ও প্যাঁচানো নান্দনিকতায় ব্যবহারের মতো কিছু না।

[irp]

ট্যাগস :

কোরআনের সুরা ব্যবহার করে ইসরাইলের এ কেমন বিদ্রুপ

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মে ২০২১

কোরআনের সুরা ব্যবহার করে ইসরাইলের এ কেমন বিদ্রুপ

ফিলিস্তিনিদের ওপর বৃষ্টির মত বোমাবর্ষণ করছে ইসরাইলি বিমান। আর এই ছবিতে যুক্ত করা হয়েছে পবিত্র কোরআনের সুরা ফিল।

ইসরাইলের আরবি ভাষার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের এমন একটি পোস্টের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন মুসলিমরা। ওই টুইটার পোস্টে গাজায় চলমান বোমাবর্ষণকে ন্যায্যতা দিতে কোরআন শরিফের একটি সুরা তুলে ধরা হয়েছে।

মিডল ইস্ট আই তাদের খবরে উল্লেখ করেছে, এর মধ্য দিয়ে কোরআনের আয়াতে মক্কার কাবাকে রক্ষা করা পাখির ঝাঁক হিসেবে নিজেদের দাবি করেছে ইসরাইল। আর যুদ্ধের হাতি হিসেবে হামাসকে তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ এমন টুইট করে বিশ্বের ১শ ৮০ কোটি মুসলিমকে অপমান করেছে।

ফিল অর্থ হলো হাতি। সুরা ফিলে প্রাক-ইসলামিক যুগে আরব ইতিহাসের একটি অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এ সুরায় হস্তিবাহিনীর ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। যুদ্ধের হাতি নিয়ে একটি বাহিনী মক্কার কাবা আক্রমণ করতে গেলে পাখির ঝাঁক পাথর ফেলে তাদের পরাজিত করে।

মঙ্গলবার সকালে ইসরাইলের আরবি ভাষার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে টুইট বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। এতে কোরআনের ১০৫তম সুরা ফিলের আয়াতের সঙ্গে ইসরাইলি বিমান হামলায় একটি ভবন থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি ওঠা একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

ফলো-আপ টুইটার পোস্টে বলা হয়, এটি হলো মিথ্যাবাদীতার বিরুদ্ধে ন্যায়ের পথে থাকা মানুষদের সমর্থনে ঈশ্বরের সহযোগিতা করার সামর্থ্যের একটি নমুনা। বিশেষ করে যখন ইরানের হয়ে কাজ করা হামাস এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চায়। আইডিএফ (ইসরাইলি সেনাবাহিনী) গাজায় হামাস সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এই বিষয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের পক্ষ থেকে টুইটার অ্যাকাউন্টটি পরিচালনকারী ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে টুইট দুটিতে কী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে আরবি ভাষায় কোরআনের আয়াতসহ ইসরাইলের টুইটটি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির এমন বক্তব্য পবিত্র কোরআনের অবমাননা ছাড়া কিছুই নয়।

প্রখ্যাত পাকিস্তানি-আমেরিকান ইসলামিক স্কলার ড. ইয়াসির কাজি বলেন, এটি কোরআন ও মানুষের পবিত্রতা নষ্ট করার মতো বিদ্রুপ।

অপর একজন প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ইসরাইলের আরবি ভাষার টুইটার অ্যাকাউন্টে গাজায় বোমাবর্ষণ নিয়ে কোরআনের আয়াত ব্যবহারের চেয়ে জঘন্য ও অমানবিক আর কিছু হতে পারে না। আমাদের পবিত্র গ্রন্থের আয়াত তোমাদের অসুস্থ ও প্যাঁচানো নান্দনিকতায় ব্যবহারের মতো কিছু না।

[irp]