ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ছয় মাসে ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলো সরকার Logo প্রাণ ফিরছে লোগাং ইউপি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদে Logo পানছড়িতে ভারতীয় অবৈধ পন্য আটক Logo পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া-রাবিশ ব্যবহার Logo মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo অষ্টগ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলা, ছাত্রদল সভাপতিসহ আহত ৬ Logo পানছড়িতে খালেদা জিয়ার স্বরণে স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত Logo ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা, সারাদেশে বাধাহীন ‘মব’-২০২৫ Logo সড়ক পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর বাবার বাড়ি খাগড়াছড়ি

বরগুনায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২
  • / ১০৮৯ বার পড়া হয়েছে

ববরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনায় আদালত অবমাননার দায়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে অন্যের রেকর্ডকৃত জমিতে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তালতলীর সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুণ’গো’, সার্ভেয়ার ও বড় বড়বগী ইউনিয়নের তহসিলদারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (৭ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আতিকুল হক।

জানা যায়, তালতলীতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) পদটি শূন্য থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালতলী উপজেলার বড় বগি মৌজার ৩৯৯৩ ও ৪০০০ দাগের ৪ একর কৃষি জমি ১৯৬৪-৬৫ সালে মৌলবী লতিফ ও সিদ্দিকুর রহমান নামে দুজন ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয় সরকার। পরে ১৯৮১ সালে ওই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রেকর্ডিয় জমি থেকে বদলুর আলম বাবুলসহ কয়েকজনের কাছে ২ একর ৬৭ শতাংশ বিক্রি করেন তারা।

কেনা সেই জমি গত ৪০ বছরধরে ভোগ করে আসছেন উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের সফিজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে বদরুল আলম। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হোসেন অফিসার ওই জমিতে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করেন। কোন প্রকার নোটিশ ও উচ্ছেদের কাগজপত্র ছাড়াই প্রথমে রেকর্ডি সম্পত্তি দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
এরপর গত ২৫ জানুয়ারি আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন বদলুর আলম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওই ৫ জনকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলেন। আদালতের লিখিত নোটিশ অন্য তিনজন গ্রহণ করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাওসার হোসেন তা গ্রহণ করেননি।

আদালত ওই জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোন প্রকার কাজ না করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই জমিতেই আদালতের আদেশ অমান্য করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ শুরু করেন ইউএনও কাওসার হোসেন।

এরপর গত ৪ মার্চ আমতলী সহকারী জজ আদালতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাওছার হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুণ’গো’, সার্ভেয়ার ও তহসিলদারে বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চায়।

এবিষয়ে মামলার বাদী বদলুর আলম বলেন, আমাদের বন্দোবস্তের জমিতে ইউএনও কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই দখল নিয়েছেন। এরপরে আশ্রায়নের ঘর নির্মাণ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আমি আদালতে মামলা করি। আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও তিনি সেই আদেশ ইউএনও মানেনি। এ জন্য পরে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আতিকুল হক বলেন, ইউএনও কাওসার হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নোটিশ করেছেন।

এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওছার হোসেন বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জানিনা। তাই আমি কিছু বলতে পারবো না।

ট্যাগস :

বরগুনায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২

ববরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনায় আদালত অবমাননার দায়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে অন্যের রেকর্ডকৃত জমিতে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তালতলীর সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুণ’গো’, সার্ভেয়ার ও বড় বড়বগী ইউনিয়নের তহসিলদারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (৭ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আতিকুল হক।

জানা যায়, তালতলীতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) পদটি শূন্য থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালতলী উপজেলার বড় বগি মৌজার ৩৯৯৩ ও ৪০০০ দাগের ৪ একর কৃষি জমি ১৯৬৪-৬৫ সালে মৌলবী লতিফ ও সিদ্দিকুর রহমান নামে দুজন ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয় সরকার। পরে ১৯৮১ সালে ওই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রেকর্ডিয় জমি থেকে বদলুর আলম বাবুলসহ কয়েকজনের কাছে ২ একর ৬৭ শতাংশ বিক্রি করেন তারা।

কেনা সেই জমি গত ৪০ বছরধরে ভোগ করে আসছেন উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের সফিজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে বদরুল আলম। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হোসেন অফিসার ওই জমিতে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করেন। কোন প্রকার নোটিশ ও উচ্ছেদের কাগজপত্র ছাড়াই প্রথমে রেকর্ডি সম্পত্তি দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
এরপর গত ২৫ জানুয়ারি আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন বদলুর আলম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওই ৫ জনকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলেন। আদালতের লিখিত নোটিশ অন্য তিনজন গ্রহণ করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাওসার হোসেন তা গ্রহণ করেননি।

আদালত ওই জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোন প্রকার কাজ না করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই জমিতেই আদালতের আদেশ অমান্য করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ শুরু করেন ইউএনও কাওসার হোসেন।

এরপর গত ৪ মার্চ আমতলী সহকারী জজ আদালতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাওছার হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুণ’গো’, সার্ভেয়ার ও তহসিলদারে বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চায়।

এবিষয়ে মামলার বাদী বদলুর আলম বলেন, আমাদের বন্দোবস্তের জমিতে ইউএনও কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই দখল নিয়েছেন। এরপরে আশ্রায়নের ঘর নির্মাণ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আমি আদালতে মামলা করি। আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও তিনি সেই আদেশ ইউএনও মানেনি। এ জন্য পরে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আতিকুল হক বলেন, ইউএনও কাওসার হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নোটিশ করেছেন।

এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওছার হোসেন বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জানিনা। তাই আমি কিছু বলতে পারবো না।