মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১২৫০ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি
আস্থা ডেস্কঃ
যৌথ সামরিক মহড়ার নামে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সামরিক বিমান ও সেনা সদস্যদের উপস্থিতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দল দুটির পক্ষ থেকে এই মহড়া দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকাসহ পুরো দুনিয়ার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করে এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ার পেছনে বিরাট ভূরাজনৈতিক দুরভিসন্ধি লুকিয়ে থাকে, যা সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উপর বিরাট এক হুমকি।
তারা বলেন, ‘অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল ২৫-৩’ নামের এই যৌথ মহড়ার আওতায় বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অনুমোদন দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমিত এখতিয়ারের বাইরে চলে গিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তার পরিপন্থী। কারণ চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অঞ্চলে, গভীর সমুদ্রে মার্কিন বাহিনী বহু আগে থেকেই সামরিক ঘাঁটি করার জন্য লোভের দৃষ্টি ফেলে রেখেছে। উপরন্তু মায়ানমার সীমান্ত এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিরাট সমস্যা বিদ্যমান। সেই সঙ্গে এখানে দেশের তিন বাহিনীর অনেক গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর স্থাপনা রয়েছে।
তাই এ রকম একটি এলাকায় মার্কিনের এই সামরিক উপস্থিতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে এই মহড়ার মধ্য দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার ইন্দো-প্যাসিফিক সামরিক কৌশলের সঙ্গে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলতে তৎপর রয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে মার্কিন-বাংলাদেশ যৌথ মহড়া, ইমিগ্রেশন ছাড়া মার্কিন সেনাদের প্রবেশ, কক্সবাজার বিমান ঘাঁটিতে গোপন সভা, বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর মাকিন সেনা ও বিমান বাহিনীর ১২০ জন সদস্য ইউএস বিমানবাহিনীর নিজস্ব ১৩০ জি সুপার হারকিউলিস বিমানে বাংলাদেশে আসে এবং ১৪ সেপ্টেম্বর ইউএস-বাংলা বিমানে কক্সবাজার যায়।
তাদের কারো ইমিগ্রেশন বা পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয়নি। যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারে করিডর প্রদান, তুরস্ককে সমরাস্ত্র কারখানার অনুমোদন এবং আরাকান, বান্দরবান, ভারতের মিজোরাম-নাগাল্যান্ড নিয়ে মার্কিনিদের নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার কথা বহুল আলোচিত হচ্ছিল, তখন মার্কিন সেনাদের এহেন তৎপরতা বাংলাদেশ ও ভূ-রাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের।
শুধু তা-ই নয়, গভীর রাতে কক্সবাজার বিমান ঘাঁটিতে এক গোপন বৈঠকে তারা মিলিত হয় এবং বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। কক্সবাজারে রেডিসন ব্লু নামে যে হোটেলে তারা অবস্থান করে সেখানে আগে থেকেই ৮৫টি কক্ষ বুকিং দিয়ে রাখা হয়, অথচ মার্কিন সেনাদের কারো নাম হোটেলের রেজিস্টারে এন্ট্রি করা হয়নি।
এই মহড়া দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের সেনা সদর দপ্তর আইএসপিআর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
















