দুশ্চিন্তা তাড়া করছে কর্মকর্তাদের
- আপডেট সময় : ০৯:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১০৫৫ বার পড়া হয়েছে
দুশ্চিন্তা তাড়া করছে কর্মকর্তাদের
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আর মাত্র ৮ দিন পরই। একই দিনে হবে জুলাই সনদ ইস্যুতে গণভোট। শেষ মুহূর্তে এসে এই দুই ভোটের ফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা, পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন নিজেদের পেশাগত ভাবমূর্তিতে কোনো দাগ না লাগিয়ে বিতর্কমুক্তভাবে সবকিছু সম্পন্নের প্রচেষ্টায়। যদিও ভোট কারচুপির অভিযোগ এবারের নির্বাচনেও পিছু ছাড়বে না এমন আশঙ্কা তাড়া করে ফিরছে তাদের।
এ ছাড়া কখন কোন অভিযোগে বদলি কিংবা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হতে হয়, রয়েছে এমন ভয়ও। সবমিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দিনভর ভোটগ্রহণ এবং তারপর ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে ভর করা অজানা শঙ্কা কাটছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাঠ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমনই চিত্র।
সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট গ্রহণ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অধীনে পাতানো তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
২০১৪ সালের ভোটে দায়িত্ব পালনকারী অনেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ভোটে দায়িত্বপালনকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডিসিদের ওএসডি করা হয়। তারা কর্মজীবনে আদৌ ফিরতে পারবেন কি না, সেটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। এসব কর্মকর্তার পদোন্নতিও মেলেনি।
কেউ কেউ বলছেন, ২০১৮-এর নির্বাচন পরিচালনাকারী ডিসিদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেবে সরকার। এসব কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় আনার ফলে এবারের নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা অনেক বেশি সতর্ক।
তারা দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা থেকে এখন পর্যন্ত বিরত রয়েছেন। যদিও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ধাপে অনেক ডিসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। তখন সরকারের তরফ থেকে তাদের সতর্ক করা হয়। ফলে তারা নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছেন। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে কর্মকর্তারা ফেঁসে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাদের মধ্যে এক ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার জন্য আমাদের বারবার বলা হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও বারবার এ ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বারবার সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা দেওয়ার ফলে তাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, ভোটে অনিয়ম হলে তাদের দায় নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকার পাশের একটি বড় জেলার ডিসি বলেন, ‘ভোটে নানা হিসাব-নিকাশ আছে। প্রার্থীরা সবাই চান আমরা যেন তাদের পক্ষে থাকি। এটা তো সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে। ফলে ভোটের ফল যাদের বিপক্ষে যাবে, তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবে। এটা পুরোনো সংস্কৃতি। এজন্য বাড়তি দুশ্চিন্তা আছে।
রিটানিং কর্মকর্তা হিসেবে কী কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেন। আবার কর্মকর্তাদের নামে তারা অভিযোগ দিচ্ছেন। ফলে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের ভয়ে কাবু অনেক কর্মকর্তা।
এবারের ভোট বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এই ডিসি আরও বলেন, ‘এজন্য বাড়তি টেনশন (দুশ্চিন্তা) কাজ করছে। তবে গাড়ি যেহেতু চালাতে নেমেছি, এত কিছু ভেবে লাভ নেই। দুর্ঘটনার ভয় পেলে চলবে না। আমাদের গন্তব্যে পৌঁছতেই হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডিসি-ইউএনওরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন নির্বাচন ছাড়া অন্য কাজ তেমন একটা নেই। তারা ভোটকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এবার ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি থাকায় সুষ্ঠুভাবে ভোটের কার্যক্রম শেষ করা পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তা চিন্তিত।


















