আজ খাগড়াছড়িতে হত্যাযজ্ঞের ৩৭ বছর
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৩৭ বার পড়া হয়েছে
আজ খাগড়াছড়িতে হত্যাযজ্ঞের ৩৭ বছর
আতিকুর রহমান আতিকঃ
১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই কালো রাতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় নেমে আসে এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত খুনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধারা বাঙালি অধ্যুষিত শত শত গ্রামে একযোগে হামলা চালায়।
তাইন্দং, তবলছড়ি, বর্ণাল, বেলছড়ি, আমতলি, গোমতি, মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রামে আগুন, লুটপাট, হত্যা ও নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নিরস্ত্রনারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ৮৫৩ মানুষকে নির্মমভাবে প্রাণ হারায়, হাজারো পরিবার এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে যায়। বহু মানুষ আহত, অপহৃত ও নিখোঁজ হয়। সেই রক্তাক্ত ঘটনার সাক্ষীরা আজও আতঙ্ক নিয়ে স্মরণ করেন সেই রাতকে।
খাগড়াছড়িতে ঘটে যাওয়া পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও দিঘীনালা গণহত্যার ৩৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও বিচার মেলেনি আজও।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস এর সামরিক শাখা শান্তিবাহিনীর গেরিলা সন্ত্রাসীরা বাঙালি গ্রামে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। যার ফলে আহত ও নিহত হয়েছিলো বহু বাঙালি।
পরবর্তীতে নিরাপত্তার জন্য বহু বাঙালি পরিবারকে গুচ্ছগ্রামে স্থানান্তর করা হলেও তারা হারিয়ে ফেলে নিজেদের ভিটেমাটি, জমি ও স্বাভাবিক জীবন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি আজও এক বেদনাবিধুর ও রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে আছে।
শান্তি বাহিনীর অব্যাহত হুমকির মুখে সেসব গ্রামের উপজাতীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শরণার্থী হয়ে ভারতে যেতে বাধ্য হয়। যারা ভারতে যেতে রাজি হয়নি শান্তিবাহিনী তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায়।
নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতেই মূলত উপজাতিদের হুমকি দিয়ে ভারতে শরণার্থী হতে বাধ্য করে তারা। পানছড়িতে হত্যাকান্ড পরিচালনার মূল টার্গেট ছিল, পাহাড় থেকে বাঙালিদের অস্তিত্ব ধূলিসাৎ করা।
দৈনিক আস্থা/আরর



















