ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাটোয়ারীর উপর হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টাি বক্তব্য: অস্ত্রের মহড়া

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / ১০১৫ বার পড়া হয়েছে

পাটোয়ারীর উপর হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টাি বক্তব্য: অস্ত্রের মহড়া

আস্থা ডেস্কঃ

আজ শুক্রবার (২২ মে/২৬) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় তার ওপর ডিম নিক্ষেপও করা হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ঝিনাইদহে হামলার ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও এনসিপি’র পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী তার ভেরিফাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, থানায় গিয়েছেন মামলা করার জন্য, পুলিশের বক্তব্য সার্ভার ডাউন হওয়াতে মামলা নিতে সময় লাগছে। এছাড়াও এ নিয়ে সরব হয়েছেন এনসিটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ও ছাত্রদল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে হামলার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও শিবিরকে দায়ী করা হচ্ছে। নাসিরকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করতে চেয়েছিলো? বিষয়টা নাসির উদ্দিনের উপলব্ধি করা উচিত।

সংগঠনির যুক্তি হলো, অস্ত্রধারী দু’জনই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে রয়েছে। বর্তমানে তারা শিবিরের রাজনীতি করে। সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা দাবি করেন যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূলত সেখানে মব ও সংঘাত উসকে দিতে গিয়েছিলেন। ঘটনার সময় পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা দু’জন অস্ত্রধারী সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করে। যারা মূলত ছাত্রশিবিরের নেতা ও কর্মী।

ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী সিয়াম উদ্দিন তুর্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে দেখা গেছে এবং সে স্থানীয় জামায়াত নেতার ছেলে ও শিবির কর্মী এবং আশিক স্থানীয় শিবিরের নেতা হিসেবে দাবি করে। অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার পর এক পক্ষ এটিকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। ছাত্রদল এটিকে সাধারণ জনতার ক্ষোভ এবং পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা “শিবির সন্ত্রাসীদের অস্ত্র প্রদর্শন” হিসেবে দাবি করছে।

অপর দিকে আরেক পোষ্টে এনসিপির উত্তর অঞ্চলের মূর্খ সমন্বয়ক সারজিদ আলম ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা সরাসরি যুক্ত ছিল বলেও দাবী করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ উপস্থিত হয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য না করতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তর্কের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

এসময় হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি’র প্রায় ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই এবং তার ওপর ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দৈনিক আস্থা/এসকে

ট্যাগস :

পাটোয়ারীর উপর হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টাি বক্তব্য: অস্ত্রের মহড়া

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

পাটোয়ারীর উপর হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টাি বক্তব্য: অস্ত্রের মহড়া

আস্থা ডেস্কঃ

আজ শুক্রবার (২২ মে/২৬) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় তার ওপর ডিম নিক্ষেপও করা হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ঝিনাইদহে হামলার ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও এনসিপি’র পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী তার ভেরিফাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, থানায় গিয়েছেন মামলা করার জন্য, পুলিশের বক্তব্য সার্ভার ডাউন হওয়াতে মামলা নিতে সময় লাগছে। এছাড়াও এ নিয়ে সরব হয়েছেন এনসিটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ও ছাত্রদল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে হামলার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও শিবিরকে দায়ী করা হচ্ছে। নাসিরকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করতে চেয়েছিলো? বিষয়টা নাসির উদ্দিনের উপলব্ধি করা উচিত।

সংগঠনির যুক্তি হলো, অস্ত্রধারী দু’জনই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে রয়েছে। বর্তমানে তারা শিবিরের রাজনীতি করে। সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা দাবি করেন যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূলত সেখানে মব ও সংঘাত উসকে দিতে গিয়েছিলেন। ঘটনার সময় পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা দু’জন অস্ত্রধারী সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করে। যারা মূলত ছাত্রশিবিরের নেতা ও কর্মী।

ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী সিয়াম উদ্দিন তুর্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে দেখা গেছে এবং সে স্থানীয় জামায়াত নেতার ছেলে ও শিবির কর্মী এবং আশিক স্থানীয় শিবিরের নেতা হিসেবে দাবি করে। অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার পর এক পক্ষ এটিকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। ছাত্রদল এটিকে সাধারণ জনতার ক্ষোভ এবং পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা “শিবির সন্ত্রাসীদের অস্ত্র প্রদর্শন” হিসেবে দাবি করছে।

অপর দিকে আরেক পোষ্টে এনসিপির উত্তর অঞ্চলের মূর্খ সমন্বয়ক সারজিদ আলম ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা সরাসরি যুক্ত ছিল বলেও দাবী করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ উপস্থিত হয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য না করতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তর্কের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

এসময় হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি’র প্রায় ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই এবং তার ওপর ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দৈনিক আস্থা/এসকে