কর কমিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির ছায়া বাজেট দিল জামায়াত
- আপডেট সময় : ০৫:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / ১০০১ বার পড়া হয়েছে
কর কমিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির ছায়া বাজেট দিল জামায়াত
স্টাফ রিপোর্টার:
কর ছাড় কমিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২৭’ নামে এই ছায়া বাজেট তুলে ধরেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
এতে অটোমেশন, করজাল বৃদ্ধিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরে (টিআইএন) রূপান্তরের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা দিলেও করপোরেট ট্যাক্স কমানো, করযোগ্য আয়সীমা বৃদ্ধি করে সাড়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছায়া বাজেটে উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা ৫১ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। ঘাটতি জিডিপির ২ দশমিক ৫১ শতাংশ বা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
জ্বালানির দামের আকস্মিক পরিবর্তনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশ। এ থেকে উত্তরণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস, কর হার যৌক্তিকীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প খাতে পরিষেবার দাম স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে এ ছায়া বাজেটে।
জামায়াত বলছে, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৭, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধাপে ধাপে ১৪ শতাংশে উন্নীত করতে দলটি কর ফাঁকি রোধ এবং করজাল সম্প্রসারণে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের এনআইডিকে টিআইএন নম্বরে রূপান্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করযোগ্য আয় না থাকলেও প্রত্যেক ব্যক্তিকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যাতে করযোগ্য কোনো ব্যক্তি করের আওতার বাইরে না থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত হবে। বর্তমানে ৪০ লাখ নাগরিক রিটার্ন দাখিল করেন। এই সংখ্যাকে পৌনে ১৩ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
ভ্যাট আয় বৃদ্ধিতে জামায়াত পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও সব পণ্যের বিক্রয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরের সার্ভারে রেকর্ডিংয়ের জন্য কম্পিউটারাইজড সিস্টেম চালুর প্রস্তাব করেছে জামায়াত।
এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং সৎভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ ‘ঝুঁকি ভাতা’ বা প্রণোদনা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থনীতি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত তথ্য দিয়ে জামায়াত এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে বার্ষিক কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব করেছে।
শিক্ষা ব্যয়কে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে আয়করে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জামায়াত। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো পরিবারের আয় সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি হয়, সেই পরিবারের কোনো সদস্য, পোষ্যের বার্ষিক শিক্ষায় ব্যয় ৫০ হাজার টাকা বেশি হলে, তা আয়কর থেকে বাদ যাবে। দুই পরিবারের আয় যদি সমান হয়, তাহলে যে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি, তারা পোষ্যপ্রতি বছরে ৫০ হাজার টাকা কর রেয়াত করার প্রস্তাব করেছে জামায়াত। দেশের দুই হাজার ডিগ্রি কলেজকে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শিক্ষা খাতে গবেষণায় জিপিডির দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা সহায়তা তহবিল থেকে জাকাত পাওয়ার যোগ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা অনুদান এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসে ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ছায়া বাজেটে।
চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বাংলাদেশিরা বছরে বিদেশে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যান জানিয়ে জামায়াতের বাজেটে দেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আটটি বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেকার ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশীদের ডেটাবেজ তৈরি করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে ছায়া বাজেটে। কৃষিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হেক্টরপ্রতি কৃষি উৎপাদন অস্ট্রেলিয়া, তুরস্কের অন্তত অর্ধেকে উন্নীত করতে গবেষণায় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বয়স্ক, বিধবা, মা ও শিশু এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা চলতি অর্থবছর থেকেই মাসে এক হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে জামায়াত। ধাপে ধাপে তা তিন হাজার টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা জানিয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















