জুলাই জাদুঘরের সকল ভাস্কর্য সরাতে হবে- হেফাজত
- আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০২৩ বার পড়া হয়েছে
জুলাই জাদুঘরের সকল ভাস্কর্য সরাতে হবে- হেফাজত
স্টাফ রিপোর্টারঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ।
জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ সব ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় অবিলম্বে জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য উচ্ছেদ ও অপসারণের জোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যে কোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারও নেই।’
হেফাজতের নেতৃদ্বয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামী বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এ ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে—এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।’
তারা স্পষ্ট জানান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতিরক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।
ভাস্কর্য নামক এ অশুভ সংস্কৃতি পরিহার করে ইতিহাসকে চিরসংরক্ষিত রাখতে কঠোরভাবে শরিয়তসম্মত দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে প্রথমটি আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিসমূহ সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়টি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে নির্মম গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না। কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এ ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















