ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক অসন্তোষে পোশাকশিল্পে ক্ষতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে

শ্রমিক অসন্তোষে পোশাকশিল্পে ক্ষতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

আস্থা ডেস্কঃ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা আন্দোলনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প।

কয়েক দিনের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষে বন্ধ রাখতে হয়েছে শত শত কারখানা। ব্যাহত হয়েছে শত শত কোটি টাকার রফতানি কার্যক্রম। পাশাপাশি কারখানা, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় সরাসরি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর আন্দোলনের কারণে ৫শ ২৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে প্রায় ৩ কোটি ডলারের রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয় (যা প্রায় ৩শ ৭৩ কোটি টাকা)।

পরদিন ২ নভেম্বর ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের ৬শ ৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় আরও প্রায় ৪ কোটি ডলারের রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। টানা দুই দিনে রফতানি কার্যক্রমে মোট প্রভাব পড়ে প্রায় ৭ কোটি ডলার (যা ৮শ ৫০ কোটি টাকা)।

অন্যদিকে, গাজীপুরে গত ৬ দিনের আন্দোলনে প্রায় ৮শ ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

উৎপাদন বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সময় মতো পণ্য জাহাজীকরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দায়বদ্ধতা পূরণ কঠিন হবে। প্রয়োজনে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হলে পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ও ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকেরা সকালে কারখানায় এলেও আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় ৪ কোটি ডলারের রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় সরাসরি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটে দেশের পোশাক শিল্প এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সহিংসতায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় সভা হবে। সেখানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নিজেদের মজুরি প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেবে। নিরপেক্ষ সদস্যও একটি প্রস্তাব দেবেন। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দ্রুত সুপারিশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ এবং জানুয়ারি থেকে নতুন হারে বেতন দেওয়ার বিষয়ে মালিক পক্ষের প্রতিনিধির সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।

মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ কত হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মূল দাবি কতটা পূরণ হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যারা কারখানায় কাজ করতে চান, তাঁদের কর্মস্থল, বাসা ও যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

শ্রমিক অসন্তোষে পোশাকশিল্পে ক্ষতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০১:১৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষে পোশাকশিল্পে ক্ষতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা

আস্থা ডেস্কঃ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা আন্দোলনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প।

কয়েক দিনের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষে বন্ধ রাখতে হয়েছে শত শত কারখানা। ব্যাহত হয়েছে শত শত কোটি টাকার রফতানি কার্যক্রম। পাশাপাশি কারখানা, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় সরাসরি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর আন্দোলনের কারণে ৫শ ২৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে প্রায় ৩ কোটি ডলারের রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয় (যা প্রায় ৩শ ৭৩ কোটি টাকা)।

পরদিন ২ নভেম্বর ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের ৬শ ৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় আরও প্রায় ৪ কোটি ডলারের রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। টানা দুই দিনে রফতানি কার্যক্রমে মোট প্রভাব পড়ে প্রায় ৭ কোটি ডলার (যা ৮শ ৫০ কোটি টাকা)।

অন্যদিকে, গাজীপুরে গত ৬ দিনের আন্দোলনে প্রায় ৮শ ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

উৎপাদন বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সময় মতো পণ্য জাহাজীকরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দায়বদ্ধতা পূরণ কঠিন হবে। প্রয়োজনে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হলে পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ও ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিকেরা সকালে কারখানায় এলেও আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় ৪ কোটি ডলারের রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় সরাসরি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটে দেশের পোশাক শিল্প এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সহিংসতায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় সভা হবে। সেখানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নিজেদের মজুরি প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেবে। নিরপেক্ষ সদস্যও একটি প্রস্তাব দেবেন। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দ্রুত সুপারিশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ এবং জানুয়ারি থেকে নতুন হারে বেতন দেওয়ার বিষয়ে মালিক পক্ষের প্রতিনিধির সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।

মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ কত হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মূল দাবি কতটা পূরণ হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যারা কারখানায় কাজ করতে চান, তাঁদের কর্মস্থল, বাসা ও যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আস্থা/এমএইচ