ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফার খসড়া প্রকাশ
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / ১০১৪ বার পড়া হয়েছে
ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফার খসড়া প্রকাশ
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্যে চুক্তির সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এই চুক্তির আওতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা ১৪ দফার এই খসড়া চুক্তির রূপরেখা প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত নথিতে নিরাপত্তা, হুরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক ইস্যু এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, এতে নিচের বিধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:-
১. সামরিক অভিযান বন্ধ: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে হুমকি বা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে।
২. সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা: উভয় পক্ষ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলবে।
৩. চূড়ান্ত চুক্তির সময়সীমা: ওয়াশিংটন ও তেহরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, যা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বাড়ানো যেতে পারে।
৪. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং তা ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির পর ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের কাছাকাছি এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে।
৫. হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থা: পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের সুবিধা দেবে ইরান এবং মাইন অপসারণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবে। এছাড়া ওমান ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে আলোচনা করবে তেহরান।
৬. পুনর্গঠন প্যাকেজ: আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের জন্য ন্যূনতম ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: একটি সম্মত সময়সূচির আওতায় জাতিসংঘ, আইএইএ বোর্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞাসহ ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
৮. পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করবে ইরান। উভয় পক্ষ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং পারমাণবিক সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করবে।
৯. আলোচনার সময় স্থিতাবস্থা: চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন থেকে বিরত থাকবে।
১০. তেল রপ্তানিতে ছাড়: ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানির অনুমতি দিয়ে অবিলম্বে ছাড়পত্র জারি করবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
১১. জব্দ করা সম্পদ অবমুক্তকরণ: ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ ও আটকে থাকা তহবিল এবং সম্পদ অবমুক্ত করবে, যার প্রক্রিয়া আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
১২. তদারকি ব্যবস্থা: সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত পরিপালন তদারকির জন্য একটি যৌথ নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
১৩. চূড়ান্ত আলোচনা: যুদ্ধবিরতি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং জব্দ করা সম্পদের মতো মূল বিধানগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
১৪. জাতিসংঘের অনুমোদন: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিটি অনুমোদন করা হবে।
এই অঞ্চলে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত ও উত্তেজনার পর উভয় দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর মীমাংসার কাঠামো হিসেবে এই খসড়া চুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ






















