জবিতে সংবাদ সংগ্রহে করতে গেলে ৬ সাংবাদিক আহত
- আপডেট সময় : ১২:১৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০৩৩ বার পড়া হয়েছে
জবিতে সংবাদ সংগ্রহে করতে গেলে ৬ সাংবাদিক আহত
স্টাফ রিপোর্টারঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন ছয় সাংবাদিক।পরে তাদেরকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তারা হামলার শিকার হয়।
আহত সাংবাদিকরা হলেন, আজকালের খবরের কামরুজ্জামান কায়েস, আমার সংবাদের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা স্ট্রিমের রজব আল ফাহিম, বাংলা ট্রিবিউনের সোহায়েল আহমেদ, প্রাইম বাংলাদেশের মোহন খন্দকার এবং আরও একজন সাংবাদিক।
গুরুতর আহত সাংবাদিক কামরুজ্জামান কায়েস বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে নিউজ কাভার করছিলাম। রফিক ভবনের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিল। সেটি ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার আমাকে ডেকে নেয়। এরপর আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। মাথায় আঘাত করা হয়। আমার একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল আমি সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম।”
দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার আহত সাংবাদিক মামুন বলেন, ক্যাম্পাসে নিউজ কভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হলাম। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে গালাগালি করা হয়েছে। আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে, এমনকি প্রেসকার্ডও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
আমার সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম, কোনো পক্ষ নিতে নয়। কিন্তু আমাদের ওপরই হামলা হলো। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও মারধর করা হয়েছে এবং ফোন তল্লাশি করা হয়েছে।”
বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক সোহাইল আহম্মেদ বলেন“কয়েকজন মিলে আমাদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তারা হামলা চালায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে সাংবাদিকরা অন্তত স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”
ঢাকা স্টিমের সাংবাদিক রজব আল ফাহিম বলেন,আমাকে অতর্কিতভাবে হামলা করেছে ছাত্রদল।মাথায়,পিঠে ও ঘাড়ে সবখানে লাটি দিয়ে এলোপাতাড়ি মেরেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরা ছবি, ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলায় তারা আহত হন। পাশাপাশি কয়েকজনের মোবাইল ফোন ও সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতারা।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















