ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে মারামারি সাথিয়া

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৯৯৭ বার পড়া হয়েছে

নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে মারামারি সাথিয়া

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাঁথিয়া আসনের (পাবনা-১) জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নামাজ পড়ানোর কেন্দ্র করে পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভিতরে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার জামাতের আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতকর্মীদের দায়ী করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের বিরুদ্ধে মসজিদের ক্ষমতা প্রদর্শনের পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তাছাড়া হট্টগোল চলাকালে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি শুক্রবারে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে মসজিদে আসেন। খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী/সমর্থকরা বাধা দেন।

এসময় মসজিদের ভেতরেই জামায়াত, শিবির কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্বে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিএনপির একদল নেতাকর্মী এসে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। এ সময় হামলায় আহত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির সাঁথিয়া পৌরসভার সভাপতি আবু দাউদ ফকির, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান, শিবিরের সাবেক উপজেলা সভাপতি শিখন মোল্লা, পৌর যুবজামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম ফকির, জামায়াত নেতা কুতুবউদ্দিন মোল্লা, মাইকেল হোসেন সাদ্দামসহ বেশ কয়েকজন।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ করিম বলেন, দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারেও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি পারে নাই। আজ আবারও ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিলো। এসে ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিচ্ছু বলেনি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করে। এসময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল ঘুষি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশ সবাইকে থামালে পরে মসজিদের ইমাম দিয়েই নামাজ হয়।

এই ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুম্মাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা করবে জন্য যাওয়া হয়নি। পরে আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের ওখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কার খবর ছিল পুলিশের কাছে। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মারধর বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে মারামারি সাথিয়া

আপডেট সময় : ১২:১৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে মারামারি সাথিয়া

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাঁথিয়া আসনের (পাবনা-১) জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নামাজ পড়ানোর কেন্দ্র করে পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভিতরে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার জামাতের আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতকর্মীদের দায়ী করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের বিরুদ্ধে মসজিদের ক্ষমতা প্রদর্শনের পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তাছাড়া হট্টগোল চলাকালে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি শুক্রবারে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে মসজিদে আসেন। খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী/সমর্থকরা বাধা দেন।

এসময় মসজিদের ভেতরেই জামায়াত, শিবির কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্বে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিএনপির একদল নেতাকর্মী এসে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। এ সময় হামলায় আহত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির সাঁথিয়া পৌরসভার সভাপতি আবু দাউদ ফকির, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান, শিবিরের সাবেক উপজেলা সভাপতি শিখন মোল্লা, পৌর যুবজামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম ফকির, জামায়াত নেতা কুতুবউদ্দিন মোল্লা, মাইকেল হোসেন সাদ্দামসহ বেশ কয়েকজন।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ করিম বলেন, দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারেও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি পারে নাই। আজ আবারও ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিলো। এসে ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিচ্ছু বলেনি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করে। এসময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল ঘুষি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে পুলিশ সবাইকে থামালে পরে মসজিদের ইমাম দিয়েই নামাজ হয়।

এই ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুম্মাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা করবে জন্য যাওয়া হয়নি। পরে আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের ওখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কার খবর ছিল পুলিশের কাছে। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মারধর বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ