ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিবিতে ১০০ কোটি টাকার আবদার করেছিলেন আসিফ নজরুল!

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / ১০১২ বার পড়া হয়েছে

বিসিবিতে ১০০ কোটি টাকার আবদার করেছিলেন আসিফ নজরুল!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিসিবি নাকি মধুর হাড়ি? কি আছে এই ক্রিকেট বোর্ডে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া পালাবদলের পরম্পরা এখনও চলমান। এরই মাঝে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে নিয়ে স্টার প্লেতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিসিবির সাবেক সহ-সভাপতি ও পরিচালক ফারুক আহমেদ। ক্ষমতার শেষ কালে আচমকাই বিসিবি’র কাছে ১০০ কোটি টাকার অনুদান চান তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড; কারও কাছে এটা যেমন আবেগের জায়গা, কেউ আবার এতে খুঁজে পান অর্থের ভাণ্ডার। দেশে তো বটেই বিশ্ব মানচিত্রেও বিসিবি দাঁড়িয়ে আছে অন্যতম ধনী প্রতিষ্ঠান হয়ে, তাই মধুর সন্ধানে এখানে সময় সময় আবির্ভাব ঘটে মুখে ‘ক্রিকেট উন্নয়ন’ নাড়া লাগানো অতিথি পাখিদের।

আসিফ মাহমুদ থেকে আসিফ নজরুল- অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দুই ব্যক্তির হাতে ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানচিত্র, কিন্তু চার চোখ যেন আটকে ছিল ওই বিসিবিতেই।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ১৬ মাস দায়িত্ব পালনের পর, নির্বাচনের তাড়নায় ছেড়ে দেন উপদেষ্টা পদ। এরপরই এক আসিফের চেয়ারে এসে বসেন ভিন্ন আসিফ। দায়িত্ব পালন করেন ২ মাসের বেশি।

কিন্তু ওই যে বলে না, গাছ কাটতে বছর লাগে না, লাগে শুধু ধারালো সরঞ্জাম। বিসিবি’র সেই রূপক গাছের ওপর, আসিফ নজরুল যেন কাজ করেছেন ধারালো অস্ত্র হয়েই। ক্রিকেটারদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম আর পরিকল্পনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছিলেন এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে। তেমনি ক্রিকেট বোর্ডকে বলি বানিয়ে ক্ষমতার শেষ কালে, এক শত কোটি টাকা অনুদান দেয়ার মতো অবাস্তব চাপ দিয়েছিলেন ক্ষমতার চেয়ারে বসে।

অবশ্য সরাসরি এতো বড় আর্থিক লেনদেন না করে তৎকালীন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ভিন্ন প্রস্তাবও দেয়ার কথাও জানান বিসিবির সাবেক পরিচালক ফারুক আহমেদ।

এ বিষয়ে তিনি স্টার প্লেকে বলেন, ‘এটা (টাকা) ইচ্ছে করলে আমরা দিতে পারি না। কারণ প্রথম কথা হলো, দুই-তিনজন চাইলে পারমিশন দিতে পারে না; এটা ২৫ জনের একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট যদি একটা বোর্ড হয়, যদি কাউকে হেল্প করে। আরেকটা ডিসিপ্লিন যদি ইমপ্রুভ করতে পারে, আরেকটা ইনস্টিটিউশন যদি ভালো যায়। আমরা সবাই চাই, বাট ওকে টাকাটা দিয়ে দিতে হবে। আমি কখনোই চিন্তা করি নাই। যেটা খুব একটা ভালো কাজ হবে।’

আপনাদের প্রপোজাল কী ছিল প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘১০০ কোটি টাকা বিকেএসপিকে একেবারে দিয়ে দেয়া। আমাদের তৎকালীন স্পোর্টস অ্যাডভাইজার আসিফ নজরুল দিয়ে দিতে বলেন।’

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিকেএসপির নামেই ২০ কোটি টাকার একটা ফিক্স ডিপোজিট করে ওখান থেকে যে ইনকামটা আসতো, ইনকামটা আপনি দিয়ে দিতেন। কেন? আপনি জানেন। অনেক সময় বিকেএসপির সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ড হ্যান্ড ইন হ্যান্ড কাজ করেছে। ওদের আমরা দুইটা মাঠ ইউজ করি। কিছু ফ্যাসিলিটি ইউজ করি, প্র্যাকটিস করি। আমি থাকা অবস্থায় একটা বাস দিয়েছি ২৯ সিটের। তার সঙ্গে একটা লাগেজ ভ্যান দিয়েছি। যেটা এক কোটি টাকার উপরে।’

তিনি বলেন, ‘এরকমভাবে হতে পারতো। আমি যেটা বললাম- ১০-২০ কোটি টাকার একটা ফান্ড দিয়ে দিলে ক্রিকেট বোর্ডেরই থাকবে। কিন্তু এটার যে ইনকাম সেটা বিকেএসপিতে যেতে পারতো। যাতে করে তারা সারা বছর কিছু না কিছু প্রোগ্রাম করতে পারতো। আমরা ২০ কোটি টাকা ফান্ডটা যদি দেই, মাসিক কমপক্ষে ১৮ লাখ টাকা পাবেন আপনি। বছর গেলে সেটা সাড়ে তিন কোটি টাকা আপনার এসে যাবে। আমি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলাম এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’

নিজেদের আয়ত্তে অর্থ রেখে বিসিবি’র ফিক্সড ডিপোজিট করার পরিকল্পনায় রাজি হননি আসিফ নজরুল। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের উন্নয়ন প্রকল্পে ২ কোটি টাকা তুলে দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি সাদিক কাইয়ুমদের হাতে।

বিষয়টি উল্লেখ করে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় আসিফ নজরুলের সঙ্গে, দিনের পর দিন বারম্বার ম্যাসেজ কিংবা কল দিয়েও কোনো উত্তর পায়নি স্টার প্লে।

তাই প্রশ্ন থেকে যায়, কোন পরিকল্পনায় বিকেএসপি’র মতো একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নামে শত কোটি টাকা বরাদ্ধ চেয়েছিলেন আসিফ নজরুল? তৎকালীন বিসিবি’র মতো সেই রহস্যও চলে গেছে চুপিসারে, সবাইকে অবাক করে!

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

বিসিবিতে ১০০ কোটি টাকার আবদার করেছিলেন আসিফ নজরুল!

আপডেট সময় : ১২:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

বিসিবিতে ১০০ কোটি টাকার আবদার করেছিলেন আসিফ নজরুল!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিসিবি নাকি মধুর হাড়ি? কি আছে এই ক্রিকেট বোর্ডে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া পালাবদলের পরম্পরা এখনও চলমান। এরই মাঝে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে নিয়ে স্টার প্লেতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিসিবির সাবেক সহ-সভাপতি ও পরিচালক ফারুক আহমেদ। ক্ষমতার শেষ কালে আচমকাই বিসিবি’র কাছে ১০০ কোটি টাকার অনুদান চান তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড; কারও কাছে এটা যেমন আবেগের জায়গা, কেউ আবার এতে খুঁজে পান অর্থের ভাণ্ডার। দেশে তো বটেই বিশ্ব মানচিত্রেও বিসিবি দাঁড়িয়ে আছে অন্যতম ধনী প্রতিষ্ঠান হয়ে, তাই মধুর সন্ধানে এখানে সময় সময় আবির্ভাব ঘটে মুখে ‘ক্রিকেট উন্নয়ন’ নাড়া লাগানো অতিথি পাখিদের।

আসিফ মাহমুদ থেকে আসিফ নজরুল- অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দুই ব্যক্তির হাতে ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানচিত্র, কিন্তু চার চোখ যেন আটকে ছিল ওই বিসিবিতেই।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ১৬ মাস দায়িত্ব পালনের পর, নির্বাচনের তাড়নায় ছেড়ে দেন উপদেষ্টা পদ। এরপরই এক আসিফের চেয়ারে এসে বসেন ভিন্ন আসিফ। দায়িত্ব পালন করেন ২ মাসের বেশি।

কিন্তু ওই যে বলে না, গাছ কাটতে বছর লাগে না, লাগে শুধু ধারালো সরঞ্জাম। বিসিবি’র সেই রূপক গাছের ওপর, আসিফ নজরুল যেন কাজ করেছেন ধারালো অস্ত্র হয়েই। ক্রিকেটারদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম আর পরিকল্পনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছিলেন এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে। তেমনি ক্রিকেট বোর্ডকে বলি বানিয়ে ক্ষমতার শেষ কালে, এক শত কোটি টাকা অনুদান দেয়ার মতো অবাস্তব চাপ দিয়েছিলেন ক্ষমতার চেয়ারে বসে।

অবশ্য সরাসরি এতো বড় আর্থিক লেনদেন না করে তৎকালীন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ভিন্ন প্রস্তাবও দেয়ার কথাও জানান বিসিবির সাবেক পরিচালক ফারুক আহমেদ।

এ বিষয়ে তিনি স্টার প্লেকে বলেন, ‘এটা (টাকা) ইচ্ছে করলে আমরা দিতে পারি না। কারণ প্রথম কথা হলো, দুই-তিনজন চাইলে পারমিশন দিতে পারে না; এটা ২৫ জনের একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট যদি একটা বোর্ড হয়, যদি কাউকে হেল্প করে। আরেকটা ডিসিপ্লিন যদি ইমপ্রুভ করতে পারে, আরেকটা ইনস্টিটিউশন যদি ভালো যায়। আমরা সবাই চাই, বাট ওকে টাকাটা দিয়ে দিতে হবে। আমি কখনোই চিন্তা করি নাই। যেটা খুব একটা ভালো কাজ হবে।’

আপনাদের প্রপোজাল কী ছিল প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘১০০ কোটি টাকা বিকেএসপিকে একেবারে দিয়ে দেয়া। আমাদের তৎকালীন স্পোর্টস অ্যাডভাইজার আসিফ নজরুল দিয়ে দিতে বলেন।’

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বিকেএসপির নামেই ২০ কোটি টাকার একটা ফিক্স ডিপোজিট করে ওখান থেকে যে ইনকামটা আসতো, ইনকামটা আপনি দিয়ে দিতেন। কেন? আপনি জানেন। অনেক সময় বিকেএসপির সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ড হ্যান্ড ইন হ্যান্ড কাজ করেছে। ওদের আমরা দুইটা মাঠ ইউজ করি। কিছু ফ্যাসিলিটি ইউজ করি, প্র্যাকটিস করি। আমি থাকা অবস্থায় একটা বাস দিয়েছি ২৯ সিটের। তার সঙ্গে একটা লাগেজ ভ্যান দিয়েছি। যেটা এক কোটি টাকার উপরে।’

তিনি বলেন, ‘এরকমভাবে হতে পারতো। আমি যেটা বললাম- ১০-২০ কোটি টাকার একটা ফান্ড দিয়ে দিলে ক্রিকেট বোর্ডেরই থাকবে। কিন্তু এটার যে ইনকাম সেটা বিকেএসপিতে যেতে পারতো। যাতে করে তারা সারা বছর কিছু না কিছু প্রোগ্রাম করতে পারতো। আমরা ২০ কোটি টাকা ফান্ডটা যদি দেই, মাসিক কমপক্ষে ১৮ লাখ টাকা পাবেন আপনি। বছর গেলে সেটা সাড়ে তিন কোটি টাকা আপনার এসে যাবে। আমি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলাম এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’

নিজেদের আয়ত্তে অর্থ রেখে বিসিবি’র ফিক্সড ডিপোজিট করার পরিকল্পনায় রাজি হননি আসিফ নজরুল। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের উন্নয়ন প্রকল্পে ২ কোটি টাকা তুলে দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি সাদিক কাইয়ুমদের হাতে।

বিষয়টি উল্লেখ করে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় আসিফ নজরুলের সঙ্গে, দিনের পর দিন বারম্বার ম্যাসেজ কিংবা কল দিয়েও কোনো উত্তর পায়নি স্টার প্লে।

তাই প্রশ্ন থেকে যায়, কোন পরিকল্পনায় বিকেএসপি’র মতো একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নামে শত কোটি টাকা বরাদ্ধ চেয়েছিলেন আসিফ নজরুল? তৎকালীন বিসিবি’র মতো সেই রহস্যও চলে গেছে চুপিসারে, সবাইকে অবাক করে!

দৈনিক আস্থা/এমএইচ