ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেঙ্গে যাচ্ছে ১১ দলীয় জোট

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ

পার্লামেন্টারি বোর্ডে আলোচনার ছাড়াই বিল ইস্যুতে এনসিপি চিঠি জমা দিয়েছে এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভিত বাড়াতে তারা মূলত ‘বিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ এবং পদবঞ্চিত-বহিষ্কৃত বিএনপির নেতাকর্মীদের টার্গেট করছে। অন্য দলের নেতাদেরও দলে টানা হবে।

এতে একসঙ্গে চলার পথে ব্যত্যয় ঘটেছে। ফলে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে আদর্শিক ও কৌশলগত ফাটল ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ভেঙ্গে যাচ্ছে! স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’তে থাকা না থাকা নিয়েও জোটের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

কার্যক্রম আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দলে যোগদানের ব্যাপারে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে এনসিপি। রূপরেখায় বলা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে সক্রিয় ছিল, গণহত্যার মামলার আসামি—এমন কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাধারণকারী ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগের লোকজন শুধু দলে যোগ দিতে পারবে। দলে যোগদান করতে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী যোগাযোগ করছে। তবে এনসিপি আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের লোকদের প্রাধান্য দেবে।

১১ দলীয় জোটের একাধিক নেতা বলছেন, ক্লিন ইমেজের নেতা বা সাধারণ সমর্থক দলে এলে কারও আপত্তি নেই। কারণ দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একটা প্রভাব রয়েছে। তাদের লোকজন দলে যোগদান করলে দুর্বল হয়ে যাবে আওয়ামী লীগ।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, অতীতে বিএনপিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন। এখনো দিচ্ছেন। অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। তাই আদর্শ মেনে দলে এলে কোনো সমস্যা নেই। তবে দলে কারা প্রবেশ করছে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

সূত্র জানায়, জোট গঠনের ৫ মাসের মধ্যে দলগুলোর মধ্যে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জোটের বেশিরভাগ দলই জামায়াতের সঙ্গে থাকতে চায় না। আবার বের হয়েও যেতে পারছে না। কারণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি বিএনপি সরকার ভালোভাবে নিচ্ছে না। শুধু রাজপথের আন্দোলনের জন্য জোট টিকে আছে। আগামী দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে হয়তো এই জোট না থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া জোটের কর্মসূচিসহ অন্য সব সিদ্ধান্ত প্রথমে একাই নেয় জামায়াত। পরে তা শরিক ১১ দলের ওপর চাপিয়ে দেয়।

সূত্রমতে, গত ৯ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিলে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিলে এনসিপির সংসদ সদস্যরা লিখিতভাবে সমর্থন জানালে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে দলটি। জোটের অভ্যন্তরেও নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া জামায়াতের আপত্তি সত্ত্বেও সারা দেশে ছাত্রশিবিবের নেতাকর্মীদের একটা অংশ এনসিপিতে যোগদান করছে। জামায়াত মনে করে, এখানেও এনসিপি তাদের আপত্তি আমলে নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেলারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের সংসদ সদস্যরা কীভাবে সংসদে ভূমিকা রাখবে তার জন্য পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে। সেখানে আলোচনা করেই সব বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; কিন্তু বিল ইস্যুতে এনসিপি আলোচনা ছাড়াই চিঠি জমা দিয়েছে। এতে একসঙ্গে চলার পথে বত্যয় ঘটেছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, সংসদে মুক্তিযোদ্ধা বিলে এনসিপির সমর্থন স্বাভাবিক বিষয়। কারণ জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে যেভাবে গণহত্যা করেছে, তাদের লোকজন সমর্থন দিয়েছে। ঠিক একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছে, গণহত্যাকে সমর্থন করেছে।

এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে জোট না থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ছে। কয়েকজন বাদে বর্তমানে বেশিরভাগ নেতাই এককভাবে চলতে চান। ফলে ধীরে ধীরে জোট থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত সরকারের ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’তে থাকতে চায় জামায়াত। এতে এনসিপির আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি জোট রাখার পক্ষে, কিন্তু জামায়াতের আগ্রহ এখানে কম।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব দল একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি দলই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় সমঝোতা হয়েছে। প্রতিটি দল সাংগঠনিকভাবে মজবুত হওয়ার জন্য স্বতন্ত্র। গণতন্ত্র ও দেশের প্রয়োজনে আবার সব দল এক হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের সব দল আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেবে। তফশিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত হবে জোট না এককভাবে করা হবে। এর বাইরে জোটের ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘আমরা তো ১১ দলীয় ঐক্য আর নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন করেছি। তাই আমরা আর জামায়াতের সঙ্গে নেই।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ভেঙ্গে যাচ্ছে ১১ দলীয় জোট

আপডেট সময় : ০১:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ

পার্লামেন্টারি বোর্ডে আলোচনার ছাড়াই বিল ইস্যুতে এনসিপি চিঠি জমা দিয়েছে এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভিত বাড়াতে তারা মূলত ‘বিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ এবং পদবঞ্চিত-বহিষ্কৃত বিএনপির নেতাকর্মীদের টার্গেট করছে। অন্য দলের নেতাদেরও দলে টানা হবে।

এতে একসঙ্গে চলার পথে ব্যত্যয় ঘটেছে। ফলে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে আদর্শিক ও কৌশলগত ফাটল ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ভেঙ্গে যাচ্ছে! স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’তে থাকা না থাকা নিয়েও জোটের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

কার্যক্রম আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দলে যোগদানের ব্যাপারে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে এনসিপি। রূপরেখায় বলা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে সক্রিয় ছিল, গণহত্যার মামলার আসামি—এমন কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাধারণকারী ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগের লোকজন শুধু দলে যোগ দিতে পারবে। দলে যোগদান করতে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী যোগাযোগ করছে। তবে এনসিপি আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের লোকদের প্রাধান্য দেবে।

১১ দলীয় জোটের একাধিক নেতা বলছেন, ক্লিন ইমেজের নেতা বা সাধারণ সমর্থক দলে এলে কারও আপত্তি নেই। কারণ দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের একটা প্রভাব রয়েছে। তাদের লোকজন দলে যোগদান করলে দুর্বল হয়ে যাবে আওয়ামী লীগ।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, অতীতে বিএনপিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন। এখনো দিচ্ছেন। অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। তাই আদর্শ মেনে দলে এলে কোনো সমস্যা নেই। তবে দলে কারা প্রবেশ করছে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

সূত্র জানায়, জোট গঠনের ৫ মাসের মধ্যে দলগুলোর মধ্যে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জোটের বেশিরভাগ দলই জামায়াতের সঙ্গে থাকতে চায় না। আবার বের হয়েও যেতে পারছে না। কারণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি বিএনপি সরকার ভালোভাবে নিচ্ছে না। শুধু রাজপথের আন্দোলনের জন্য জোট টিকে আছে। আগামী দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে হয়তো এই জোট না থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া জোটের কর্মসূচিসহ অন্য সব সিদ্ধান্ত প্রথমে একাই নেয় জামায়াত। পরে তা শরিক ১১ দলের ওপর চাপিয়ে দেয়।

সূত্রমতে, গত ৯ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বিলে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই বিলে এনসিপির সংসদ সদস্যরা লিখিতভাবে সমর্থন জানালে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে দলটি। জোটের অভ্যন্তরেও নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া জামায়াতের আপত্তি সত্ত্বেও সারা দেশে ছাত্রশিবিবের নেতাকর্মীদের একটা অংশ এনসিপিতে যোগদান করছে। জামায়াত মনে করে, এখানেও এনসিপি তাদের আপত্তি আমলে নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেলারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের সংসদ সদস্যরা কীভাবে সংসদে ভূমিকা রাখবে তার জন্য পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে। সেখানে আলোচনা করেই সব বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; কিন্তু বিল ইস্যুতে এনসিপি আলোচনা ছাড়াই চিঠি জমা দিয়েছে। এতে একসঙ্গে চলার পথে বত্যয় ঘটেছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, সংসদে মুক্তিযোদ্ধা বিলে এনসিপির সমর্থন স্বাভাবিক বিষয়। কারণ জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে যেভাবে গণহত্যা করেছে, তাদের লোকজন সমর্থন দিয়েছে। ঠিক একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছে, গণহত্যাকে সমর্থন করেছে।

এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে জোট না থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ছে। কয়েকজন বাদে বর্তমানে বেশিরভাগ নেতাই এককভাবে চলতে চান। ফলে ধীরে ধীরে জোট থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত সরকারের ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’তে থাকতে চায় জামায়াত। এতে এনসিপির আপত্তি রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি জোট রাখার পক্ষে, কিন্তু জামায়াতের আগ্রহ এখানে কম।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব দল একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি দলই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় সমঝোতা হয়েছে। প্রতিটি দল সাংগঠনিকভাবে মজবুত হওয়ার জন্য স্বতন্ত্র। গণতন্ত্র ও দেশের প্রয়োজনে আবার সব দল এক হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের সব দল আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেবে। তফশিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত হবে জোট না এককভাবে করা হবে। এর বাইরে জোটের ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘আমরা তো ১১ দলীয় ঐক্য আর নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচন করেছি। তাই আমরা আর জামায়াতের সঙ্গে নেই।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ