মুরাদনগরে ৮দিন ধরে অবরুদ্ধ ২ পরিবার
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০০৫ বার পড়া হয়েছে
মুরাদনগরে ৮দিন ধরে অবরুদ্ধ ২ পরিবার
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরে রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ীর মাঝখানে বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় ৮ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে ২টি পরিবারের নারী শিশুসহ সদস্যরা।
গত ২৫শে আগস্ট মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের বড়বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার ঘোড়াশাল গ্রামের আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল ইসলাম, মহসিন মিয়ার সাথে তাদের প্রতিবেশি জিয়া উদ্দিন ও দেলোয়ার মাষ্টারের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে ২৫শে আগস্ট রাতে জিয়া উদ্দিন গংদের অনুসারীরা রাতের আঁধারে বাড়ীর মাঝে বেড়া দিয়ে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ সকলকে ৮দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহসিন মিয়া বলেন, আমার পূর্ব পুরুষ থেকে পরিবার প্রায় ১শ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি কিন্তু আমার প্রতিবেশী জিয়া উদ্দিন আমার বাড়ি ভেঙে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে।
এখন সে আমার চারদিকে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখছে। আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমি অসহায় হওয়ায় কোন কিছু করতে পারতেছি না। তারা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ী দখল করতে রাতের আঁধারে এই কাজ করেছে।
মহসিন মিয়ার স্ত্রী বলেন, এই সন্ত্রাস বাহিনী রাতের আধারে আমাদের ঘরের চারপাশে বেড়া দিয়ে আমাদের বন্দি করে রেখেছে। আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখে তারা গাছ কেটে নিয়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে, বাথরুম ভেঙে দিয়েছে । আমরা খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি।
শ্রমিকদল নেতা আমানুল ইসলাম বলেন, আমাদের সম্পত্তি রক্ষা করতে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত ১৩ই আগস্ট তারিখে ১৪৫ ধারা জারি করলে ২৫ তারিখে রাতের আঁধারে আওয়ামীলীগ নেতা জিয়াউদ্দিন এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের পুরো বাড়ি বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে দখল করে ফেলে।
অতীতে অনেকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে কিন্তু এটার কোন সমাধান করতে পারে নাই। আমাদের দলিল থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসী জিয়া উদ্দিনের শাস্তি চাই।
এব্যাপারে জানতে জিয়া উদ্দিন ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেন মাষ্টারের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাকিব হাসান খান বলেন, এই বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আস্থা/এমএইচ

















