যুক্তরাষ্ট্রে নারী ভোটাধিকারের স্বীকৃতি
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০০২ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে নারী ভোটাধিকারের স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক ১৯২০ সালের ১৮ ও ২৬ আগস্ট স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগ্রাম, প্রতিবাদ এবং আন্দোলনের পর মার্কিন সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুমোদিত হয়। পরবর্তীকালে একই বছরের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইনব্রিজ কোল আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংশোধনী প্রত্যয়ন করেন।
এ সংশোধনীর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নারীদের ভোটাধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। লিঙ্গভিত্তিক ভোটাধিকার বৈষম্যের অবসান ঘটে।
১৮৪৮ সালে নিউইয়র্কের সেনেকা ফলসে অনুষ্ঠিত প্রথম নারী অধিকার সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠিতভাবে নারী ভোটাধিকার আন্দোলনের সূচনা হয়। শতাব্দীব্যাপী সংগ্রামে এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যান্টন, সুসান বি অ্যান্টনি, লসি স্টোনের পরবর্তী প্রজন্মের অ্যালিস পল ও ক্যারি চ্যাপম্যান ক্যাটের মতো নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৮৭৮ সালে আমেরিকান সংবিধানে ভোটাধিকারের প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে ‘সুসান বি অ্যান্টনি সংশোধনী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯১৯ সালের ৪ জুন মার্কিন কংগ্রেসের সেনেটে সংশোধনী প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পাঠানো হয়।
সংবিধান সংশোধন কার্যকর করতে মোট ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। ১৯২০ সালের ১৮ আগস্ট টেনিসি অঙ্গরাজ্য ৩৬তম রাজ্য হিসেবে ১৯তম সংশোধনীটি অনুমোদন করে।
টেনিসি আইনসভার তরুণ প্রতিনিধি হ্যারি বার্ন তার মায়ের চিঠি পেয়ে শেষ মুহূর্তে সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেন, যা ইতিহাস সৃষ্টি করে। ১৮ আগস্টের অনুমোদনের পর ২৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আইনটি প্রত্যয়ন লাভ করে। এ কারণেই আমেরিকায় প্রতি বছর ২৬ আগস্টকে ‘উইমেনস ইকুয়ালিটি ডে’ বা নারী সমতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
১৯তম সংশোধনীটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো অঙ্গরাজ্য লিঙ্গের ভিত্তিতে মার্কিন নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রদান থেকে কাউকে বঞ্চিত করতে বা খর্ব করতে পারবে না।
এ সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকান নারী আইনগতভাবে ভোটাধিকার লাভ করেন। ১৯২০ সালের নভেম্বর মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আমেরিকার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক ও বর্ণবাদী বাধার কারণে কৃষ্ণাঙ্গ এবং সংখ্যালঘু নারীদের সার্বিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আরও কয়েক দশক সংগ্রাম করতে হয়েছিল, তবুও এ সংশোধনী ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক। এটি আমেরিকান সমাজ ও রাজনীতির মানচিত্রে নারীদের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
আস্থা/এমএইচ

















