রংপুরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার আহ্বান প্রশাসনের
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / ১০১০ বার পড়া হয়েছে
রংপুরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার আহ্বান প্রশাসনের
রিয়াজুল হক সাগর/রংপুর প্রতিনিধিঃ
উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিন ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে দেওয়া এক পূর্বাভাস বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাউবোর কুড়িগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে পাউবো। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।
আবহাওয়া সংস্থা সমূহের তথ্যের বরাতে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই নদের পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে এর নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা সংলগ্ন এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদের পানি কমছে। তবে ধরলা ও তিস্তার পানি স্থিতিশীল আছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা এবং আগামী কয়েকদিন বাড়ার পূর্বাভাস বন্যার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন পাউবো কুড়িগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়তে থাকলে অন্য নদীর পানি সহসাই নেমে যেতে পারে না। ফলে বন্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আগামী তিন দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















