ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়হান হত্যা: এবার মুখ খুললেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার

News Editor
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০
  • / ১১৪২ বার পড়া হয়েছে

 সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় একে একে বেরিয়ে আসছে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য। মুখ খুলতে শুরু করেছেন এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে। এর আগে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বক্তব্য দিয়েছিলেন সিএনজি চালক। এবার রায়হানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার দিনের বর্ণণা দিলেন সুইপার সুলাই লাল। 

রোববার (১১ অক্টোবর) রায়হানকে সুস্থ অবস্থায় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার সুলাই লাল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুইপার সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার ঘর থেকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নেওয়া হয়। ওই রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দরজায় শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখি ছেলেটি (রায়হান) দরজা ধাক্কা (ধাক্কায় জোড়াতালির ছিটকানি ছুটে যায়) দিয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মনে মনে ভয় পেলাম। এতো রাতে আমার দরজা ঠেলে কে এলো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কে ভাই আপনি? তখন দেখলাম ছেলেটি নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, কথাও বলতে পারছে না। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে হাজির। পুলিশ বাসায় ঢুকে রায়হানকে ধরে। কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না এবং আমাকে বলছিল- আমি ছিনতাইকারী না। আমিও ভয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না।

রায়হানের নখ উপড়ানো, শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত

সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন শুনি ছেলেটি নাকি ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছে। শুনে মনটা খুব খারাপ হলো। তবে এখানে কোনো গণপিটুনি হয় নাই, আমি নিশ্চিত।

এদিন কাস্টঘরেও কোনো গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেলেনি গণপিটুনির কোনো প্রমাণ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাস্টঘরের সুইপার সুলাই লালের বক্তব্য এমনই।

এদিকে চাঁদা না পেয়ে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী।

রায়হান হত্যা: এবার মুখ খুললেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার

আপডেট সময় : ০৯:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০

 সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় একে একে বেরিয়ে আসছে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য। মুখ খুলতে শুরু করেছেন এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে। এর আগে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বক্তব্য দিয়েছিলেন সিএনজি চালক। এবার রায়হানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার দিনের বর্ণণা দিলেন সুইপার সুলাই লাল। 

রোববার (১১ অক্টোবর) রায়হানকে সুস্থ অবস্থায় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সুইপার সুলাই লাল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুইপার সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার ঘর থেকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নেওয়া হয়। ওই রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দরজায় শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তাকিয়ে দেখি ছেলেটি (রায়হান) দরজা ধাক্কা (ধাক্কায় জোড়াতালির ছিটকানি ছুটে যায়) দিয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মনে মনে ভয় পেলাম। এতো রাতে আমার দরজা ঠেলে কে এলো? আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কে ভাই আপনি? তখন দেখলাম ছেলেটি নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, কথাও বলতে পারছে না। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে হাজির। পুলিশ বাসায় ঢুকে রায়হানকে ধরে। কিন্তু সে যেতে চাচ্ছিল না এবং আমাকে বলছিল- আমি ছিনতাইকারী না। আমিও ভয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না।

রায়হানের নখ উপড়ানো, শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত

সুলাই লাল বলেন, ছেলেটিকে আমার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন শুনি ছেলেটি নাকি ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছে। শুনে মনটা খুব খারাপ হলো। তবে এখানে কোনো গণপিটুনি হয় নাই, আমি নিশ্চিত।

এদিন কাস্টঘরেও কোনো গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক তদন্তেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেলেনি গণপিটুনির কোনো প্রমাণ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাস্টঘরের সুইপার সুলাই লালের বক্তব্য এমনই।

এদিকে চাঁদা না পেয়ে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী।