ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ময়মনসিংহ রাস্তা বন্ধ করে এনসিপির পথসভা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা Logo দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ নারী নিহত; আহত ৪০ Logo ফুলবাড়িয়ায় শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের Logo কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আটক Logo ২০১৮ সালের যুবলীগ নেতা হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি শেখ হাসিনা Logo আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া ছয় সমন্বয়ক মীর জাফর-মাসুদ কামাল Logo সুবর্ণচরে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি, থানায় জিডি Logo উত্তরের ৬ জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক Logo রাঙামাটিতে মায়ের দায়ের কোপে ছেলের মৃত্যু; বাবা-মা আটক Logo রিয়াদে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ

রেকর্ড করা কোরআন তেলাওয়াত শুনলে কি সওয়াব মেলে?

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুন ২০২১
  • / ১০৯৫ বার পড়া হয়েছে

নামাজের পর প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত মন শান্ত রেখে সারাদিন ভালোভাবে কাটাতে সহায়তা করে। অনেকেই কাজের সময় মোবাইল কিংবা রেডিও, টেপ রেকর্ডারসহ ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে রেকর্ড করা কোরআন তেলাওয়াত শোনেন। এভাবে কাজ করার সময় কোরআন তেলাওয়াত শোনার হুকুম কি? শুনলে কি সাওয়াব হবে? নাকি গোনাহ হবে?

আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমের তেলাওয়াত শোনার নিয়ম-পদ্ধতি এভাবে তুলে ধরেছেন-

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪)

আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতে ঘোষণা করেন, কোনো বান্দা যদি কোরআন চুপ থেকে মনোযোগের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত করে তবে আল্লাহ তায়ালা ওই বান্দার প্রতি রহমত নাজিল করেন।

এ আয়াতের আলোকে যে কোনো কর্ম ব্যস্ততার সময় রেডিও, টেপ রেকর্ডার, মোবাইল কিংবা অন্য কোনো ডিভাইসে ধারণ করা কোরআন তেলাওয়াত চুপ থেকে শুনলে তা দোষণীয় নয়। কোরআন শোনার ক্ষেত্রে আল্লাহর তায়ালার নির্দেশের বিরোধীও নয়। বরং কর্মব্যস্ত মানুষকে যথাসাধ্য চুপ থেকে মনোযোগের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত শুনতে হবে। আর তাতে সাওয়াবই হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ সালেহ আল উসাইমিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-‘অমনোযোগী ও উদাসিন অবস্থায় (কোরআন তেলাওয়াতের) টেপ-রেকর্ডার বন্ধ রাখাই উত্তম। কেননা এটা অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যখন তুমি লক্ষ্য করবে যে, লোকেরা তেলাওয়াতের প্রতি মনোযোগী নয়; বরং তারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় ব্যস্ত, তখন তুমি তোমার টেপ-রেকর্ডারে কোরআনের তেলাওয়াত চালানো বন্ধ রাখবে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘টেপ-রেকর্ডারে (রেডিও, মোবাইল, ডিভাইসে ধারণ করা) হলেও কোরআনের তেলাওয়াতে অমনোযোগী ও উদাসিন হওয়া আদব বিরোধী কাজ। সেজন্য আমরা বলব, যখন আপনি কোরআন তেলাওয়াত শোনার জন্য অবসর পাবেন তখন রেকর্ড করা কোরআন তেলাওয়াত শুনুন। আর যখন আপনি ব্যস্ত হয়ে যাবেন তখন বন্ধ রাখুন।’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতুহ)

ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, ‘অনেক মানুষই কোরআনুল কারিমের মর্যাদা সম্মান ও আদব সম্পর্কে উদাসিন। অতএব তেলাওয়াত কোরআন তেলাওয়াতের সময় হাসি-ঠাট্টা, কথাবার্তা ও বিশৃঙ্খলা বর্জন করা জরুরি।’ (আত-তিবয়ান ফি আদাবি হামলাতুল কোরআন)

সুতরাং যে কোনো বৈধ কাজের সময় পবিত্র কোরআনুল কারিমের রেকর্ডকৃত তেলাওয়াত মনোযোগের সঙ্গে শোনা যাবে। আর তাতে সাওয়াবও হবে। কিন্তু বৈধ কাজে ব্যস্ততার সময়ে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ না থাকলে কিংবা উদাসিন থাকলে কোরআন তেলাওয়াতের রেকর্ড শোনাও বৈধ নয়।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে কাজের সময় রেকর্ড বাজিয়ে মনোযোগসহকারে কোরআন তেলাওয়াত শোনার তাওফিক দান করুন। কোরআন তেলাওয়াতের রেকর্ড চলাকালীন সময়ে উদাসিনতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

[irp]

ট্যাগস :

রেকর্ড করা কোরআন তেলাওয়াত শুনলে কি সওয়াব মেলে?

আপডেট সময় : ১০:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুন ২০২১

নামাজের পর প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত মন শান্ত রেখে সারাদিন ভালোভাবে কাটাতে সহায়তা করে। অনেকেই কাজের সময় মোবাইল কিংবা রেডিও, টেপ রেকর্ডারসহ ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে রেকর্ড করা কোরআন তেলাওয়াত শোনেন। এভাবে কাজ করার সময় কোরআন তেলাওয়াত শোনার হুকুম কি? শুনলে কি সাওয়াব হবে? নাকি গোনাহ হবে?

আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমের তেলাওয়াত শোনার নিয়ম-পদ্ধতি এভাবে তুলে ধরেছেন-

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪)

আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতে ঘোষণা করেন, কোনো বান্দা যদি কোরআন চুপ থেকে মনোযোগের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত করে তবে আল্লাহ তায়ালা ওই বান্দার প্রতি রহমত নাজিল করেন।

এ আয়াতের আলোকে যে কোনো কর্ম ব্যস্ততার সময় রেডিও, টেপ রেকর্ডার, মোবাইল কিংবা অন্য কোনো ডিভাইসে ধারণ করা কোরআন তেলাওয়াত চুপ থেকে শুনলে তা দোষণীয় নয়। কোরআন শোনার ক্ষেত্রে আল্লাহর তায়ালার নির্দেশের বিরোধীও নয়। বরং কর্মব্যস্ত মানুষকে যথাসাধ্য চুপ থেকে মনোযোগের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত শুনতে হবে। আর তাতে সাওয়াবই হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ সালেহ আল উসাইমিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-‘অমনোযোগী ও উদাসিন অবস্থায় (কোরআন তেলাওয়াতের) টেপ-রেকর্ডার বন্ধ রাখাই উত্তম। কেননা এটা অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যখন তুমি লক্ষ্য করবে যে, লোকেরা তেলাওয়াতের প্রতি মনোযোগী নয়; বরং তারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় ব্যস্ত, তখন তুমি তোমার টেপ-রেকর্ডারে কোরআনের তেলাওয়াত চালানো বন্ধ রাখবে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘টেপ-রেকর্ডারে (রেডিও, মোবাইল, ডিভাইসে ধারণ করা) হলেও কোরআনের তেলাওয়াতে অমনোযোগী ও উদাসিন হওয়া আদব বিরোধী কাজ। সেজন্য আমরা বলব, যখন আপনি কোরআন তেলাওয়াত শোনার জন্য অবসর পাবেন তখন রেকর্ড করা কোরআন তেলাওয়াত শুনুন। আর যখন আপনি ব্যস্ত হয়ে যাবেন তখন বন্ধ রাখুন।’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতুহ)

ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, ‘অনেক মানুষই কোরআনুল কারিমের মর্যাদা সম্মান ও আদব সম্পর্কে উদাসিন। অতএব তেলাওয়াত কোরআন তেলাওয়াতের সময় হাসি-ঠাট্টা, কথাবার্তা ও বিশৃঙ্খলা বর্জন করা জরুরি।’ (আত-তিবয়ান ফি আদাবি হামলাতুল কোরআন)

সুতরাং যে কোনো বৈধ কাজের সময় পবিত্র কোরআনুল কারিমের রেকর্ডকৃত তেলাওয়াত মনোযোগের সঙ্গে শোনা যাবে। আর তাতে সাওয়াবও হবে। কিন্তু বৈধ কাজে ব্যস্ততার সময়ে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ না থাকলে কিংবা উদাসিন থাকলে কোরআন তেলাওয়াতের রেকর্ড শোনাও বৈধ নয়।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে কাজের সময় রেকর্ড বাজিয়ে মনোযোগসহকারে কোরআন তেলাওয়াত শোনার তাওফিক দান করুন। কোরআন তেলাওয়াতের রেকর্ড চলাকালীন সময়ে উদাসিনতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

[irp]