ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাত-পা বেঁধে পিটুনির পর চোখে ঢালা হলো চুনের পানি

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০০১ বার পড়া হয়েছে

হাত-পা বেঁধে পিটুনির পর চোখে ঢালা হলো চুনের পানি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গরু চুরির অভিযোগে ৩ জনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তাঁদের চোখে ঢালা হয় চুনের পানি। গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার ৯ সেস্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পালইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার গভীর রাতে দোয়ারাবাজারের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে তিনি স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে গরু খুঁজতে বের হন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে দিয়ে দুটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন সোনাই মিয়া (২৫)। এ সময় মুসল্লিদের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জুরাপানি গ্রামের বাসিন্দা সোনাইকে আটক করেন।

স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গরু চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন বলে জানান। তাঁরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউরি গ্রামের আবু বক্কর ওরফে বাক্কার (৩৫) এবং একই উপজেলার পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০)।

বৃহস্পতিবার সকালে দোয়ারাবাজারের পালইছড়া গ্রামে
মারধরের একপর্যায়ে একজন পানি পান করার অনুরোধ জানান।

পরে স্থানীয় লোকজন বক্কর ও নিজামকে মসজিদের সামনে ধরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেন এসে গরু দুটি তাঁর বলে শনাক্ত করেন। এরপর অভিযুক্ত তিনজনকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকান থেকে চুন নিয়ে এসে পানিতে গুলিয়ে তাঁদের চোখে ঢেলে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ সদস্যরা গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ৩ জনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের দোয়ারাবাজার উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ জনের চোখের আঘাতই গুরুতর। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনাটির আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

হাত-পা বেঁধে পিটুনির পর চোখে ঢালা হলো চুনের পানি

আপডেট সময় : ১০:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাত-পা বেঁধে পিটুনির পর চোখে ঢালা হলো চুনের পানি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গরু চুরির অভিযোগে ৩ জনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তাঁদের চোখে ঢালা হয় চুনের পানি। গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার ৯ সেস্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পালইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার গভীর রাতে দোয়ারাবাজারের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে তিনি স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে গরু খুঁজতে বের হন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে দিয়ে দুটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন সোনাই মিয়া (২৫)। এ সময় মুসল্লিদের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জুরাপানি গ্রামের বাসিন্দা সোনাইকে আটক করেন।

স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গরু চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন বলে জানান। তাঁরা হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউরি গ্রামের আবু বক্কর ওরফে বাক্কার (৩৫) এবং একই উপজেলার পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০)।

বৃহস্পতিবার সকালে দোয়ারাবাজারের পালইছড়া গ্রামে
মারধরের একপর্যায়ে একজন পানি পান করার অনুরোধ জানান।

পরে স্থানীয় লোকজন বক্কর ও নিজামকে মসজিদের সামনে ধরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেন এসে গরু দুটি তাঁর বলে শনাক্ত করেন। এরপর অভিযুক্ত তিনজনকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকান থেকে চুন নিয়ে এসে পানিতে গুলিয়ে তাঁদের চোখে ঢেলে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ সদস্যরা গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ৩ জনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের দোয়ারাবাজার উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ জনের চোখের আঘাতই গুরুতর। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনাটির আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

আস্থা/এমএইচ