৭৫ দোকান ঘিরে টানাপোড়েন, অনিশ্চয়তায় ৩শ পরিবারের জীবিকা
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / ১০০৫ বার পড়া হয়েছে
৭৫ দোকান ঘিরে টানাপোড়েন, অনিশ্চয়তায় ৩শ পরিবারের জীবিকা
মোঃ আরিফ হোসেন/খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে জেলা পরিষদের নির্মিত ৭৫টি দোকান ঘরকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দোকান অপসারণের আশঙ্কায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ইজারাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হলে ৩শ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে চুকনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যতীন কাশেম সড়কের দুই পাশে খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৭৫টি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়।
জেলা পরিষদের দাবি, সরকারি বিধি অনুসরণ করেই এসব দোকান ব্যবসায়ীদের ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন কয়েকটি দোকানের মালিক আদালতে মামলা করে অভিযোগ করেন, সরকারি এসব দোকান নির্মাণের ফলে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে দোকানগুলো অপসারণের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করেছে চুকনগর বাজার বণিক সমিতি।
দোকান অপসারণের খবরে উদ্বিগ্ন ইজারাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সরকারি নিয়ম মেনেই দোকান নিয়েছেন। এসব দোকানের ওপর নির্ভর করেই শত শত মানুষের পরিবার চলছে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যক্তি স্বার্থে একটি মহল দোকানগুলো অপসারণের চেষ্টা করছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইদুর ইসলাম বলেন, তিনি ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবির পক্ষেই রয়েছেন। তবে দোকান অপসারণের অভিযোগ নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
জেলা পরিষদের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ফরহাদ হোসেন বাবু বলেন, তিনি কেবল বকেয়া ইজারার অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে ৬৯ জন ইজারাপ্রাপ্ত দোকান ব্যবসায়ী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছেন, যোগসাজশের মাধ্যমে দোকানগুলো অপসারণের চেষ্টা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস. এম. মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, দোকানগুলোর সব ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে এবং বৈধভাবে ইজারা নেওয়া ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে চুকনগর বাজারের শত শত পরিবার।



















