ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo পাওনা টাকা আদায়ে গিয়েছিলেন লিটু: দাবি স্ত্রীর Logo বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলো পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে Logo যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকের বাকবিতণ্ডা: জরুরি সভা স্থগিত Logo ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছে ৫০ নারী-পুরুষ Logo কুড়িগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মন্দির সভাপতি আটক Logo টাঙ্গাইলে সাত দিনে পাঁচ খুন Logo ফেস দ্যা পিপলের সম্পাদক সাইফুরসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই Logo ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়: অভিযুক্ত আটক Logo এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল Logo আদালতে হাজিরা দিতে এসে পাজেপ সাবেক চেয়ারম্যানসহ আটক-২

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কেন শেখাবেন?

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১
  • / ১৮২১ বার পড়া হয়েছে

শিশুদের জন্যও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা প্রয়োজন। আমাদের চারপাশে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প বাণিজ্য, কৃষি সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির সহায়তায় কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেশাজীবী প্রযুক্তিবিদরা প্রতিদিন তাদের নতুন  আবিস্কার সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ভোক্তা সেসব প্রযুক্তির সুযোগ নিচ্ছে ও উপকৃত হচ্ছে। কাজেই প্রতিদিন এই প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া আমাদের অনেক কাজ করা কঠিন। এক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং মূল ভূমিকা রাখে। কোনো একটি কাজ সম্পাদনে যন্ত্রপাতিকে নির্দেশ দিতে ব্যবহার হয় সফটওয়্যার।

সফটওয়্যার হচ্ছে যন্ত্রের বোধগম্য ভাষা দিয়ে তৈরি কিছু নির্দেশনা। আর এই ভাষা দিয়ে যন্ত্রের জন্য নির্দেশনা তৈরির শিক্ষাকেই বলা হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং।

সাধারণত কলেজ ইউনিভার্সিটি পাস করে কম্পিউটার প্রোগ্রামার বা প্রযুক্তিবিদ হতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিশুদের পক্ষে কীভাবে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হওয়া সম্ভব, শিশুদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষায় কীভাবে উৎসাহী করা যায়, কখন থেকে এই শিক্ষা শুরু করতে হবে এবং শিশুদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা কতটা জরুরি- এই সব প্রশ্ন আমাদের মনে আসতেই পারে।

স্কুল থেকে শুরু করে সন্তানের সব শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রথমত বাবা মায়ের। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি যেকোনো শিক্ষা অল্প বয়সে শুরু করা ভালো। শিশুদের বয়স ও মেধার দিকে লক্ষ্য রেখে সহজ ও ছোট আকারে পাঠদান করতে হয়। তবে শিশু শিক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো আনন্দের সাথে শিক্ষাদান। পাশাপাশি প্রাপ্ত জ্ঞানটি ব্যবহারিক কাজে লাগানো। এতে শিক্ষাদান অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং শিশুদের জন্য জ্ঞানার্জন করা আনন্দের হয়। মনে রাখাও সহজ হয়।

স্বভাবগতভাবে শিশুরা সবসময়ই কৌতুহলী। নতুন কিছু পেলে, অন্যকে কিছু করতে দেখলে সেটা নিজে করার ইচ্ছা তাদের মধ্যে দেখা যায়। কাজেই তাদের এই কৌতুহল সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাদান করলে সহজেই শিশুদের অন্য সব জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং যতটা কঠিন মনে করি আসলে ততটা কঠিন নয়। শিশুদের কাছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সহজে পরিচিত করে দিলেই কিন্তু তাদের কৌতুহলি মন এ সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী হবে। এ সুযোগে তাদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মূল বিষয়গুলো শিখিয়ে দেওয়া যায়। ফলে হাতের যেই স্মার্ট ফোনটিতে সারাক্ষণ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে সেটা কীভাবে কাজ করে তা জানতে পারবে। এভাবে চারপাশে থাকা সব প্রযুক্তি নিয়ে আপনার সন্তান সরাসরি এবং অনুসন্ধিৎসু মনে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে।

শিশুদের কি চিন্তা ভাবনা করবে, তার চেয়ে কীভাবে চিন্তা ভাবনা করবে সে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিশুদের একটি সমস্যা নানাভাবে সমাধান করার পদ্ধতি শেখায়। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং দিয়ে নানা রকম পরীক্ষা নীরিক্ষা ও ভুল থেকে শিশুরা শিক্ষা লাভ করে নিজেদের নানা সমস্যার সমাধান বের করতে পারবে এবং এতে শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

শিশু কালে আমরা ভাষা শিখি মনের ভাব প্রকাশ করি। এই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষাও ছোট বয়সেই অর্জন করা সহজ। প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা আমাদের যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগের কাজটি করতে সাহায্য করে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিশুদের যৌক্তিক ও গোছানো চিন্তা ভাবনা করতে শেখায়। গানিতিক সূত্রকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সৃজনশীল সমাধান করে গনিতের ব্যবহারিক দিকটি আকর্ষণীয় ও আনন্দের করে তোলে।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং যৌথভাবে কাজ করে সমস্যা সমাধানেও উদ্বুদ্ধ করে। এতে শিশুদের মধ্যে সহযোগী মনোভাব তৈরি হয় এবং সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে শেখায়। এই দক্ষতা জীবনের অন্যান্য সময়ে সুফলদায়ক। শিশুরা বুঝতে পারে সঠিক উত্তর পেতে সঠিক প্রশ্নটি জানতে হয়।

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে কম্পিউটার শিক্ষা সংযুক্ত করছে। শুধু পেশাগত প্রয়োজন ছাড়াও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময়ের জন্য শিশুদের নানা ভাবে কাজে লাগে। যেকোনো সমস্যা বুঝতে পারা, যেকোনো কিছুতে সহযোগিতা, বিকল্প সমাধান নির্বাচন, যৌক্তিক চিন্তা ভাবনা, সৃজনশীলতা, ঘটনা ও এর প্রভাব, গণিত ইত্যাদি বিষয়ে শিশুরা আরও দক্ষ হয়ে উঠে।

প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। প্রাতিষ্ঠানিক অথবা ব্যক্তিগত যেভাবেই হোক সব অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষার ব্যবস্থা করে এর সুফল পেতে আজই উৎসাহিত করা।

ট্যাগস :

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কেন শেখাবেন?

আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১

শিশুদের জন্যও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা প্রয়োজন। আমাদের চারপাশে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প বাণিজ্য, কৃষি সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির সহায়তায় কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেশাজীবী প্রযুক্তিবিদরা প্রতিদিন তাদের নতুন  আবিস্কার সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ভোক্তা সেসব প্রযুক্তির সুযোগ নিচ্ছে ও উপকৃত হচ্ছে। কাজেই প্রতিদিন এই প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া আমাদের অনেক কাজ করা কঠিন। এক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং মূল ভূমিকা রাখে। কোনো একটি কাজ সম্পাদনে যন্ত্রপাতিকে নির্দেশ দিতে ব্যবহার হয় সফটওয়্যার।

সফটওয়্যার হচ্ছে যন্ত্রের বোধগম্য ভাষা দিয়ে তৈরি কিছু নির্দেশনা। আর এই ভাষা দিয়ে যন্ত্রের জন্য নির্দেশনা তৈরির শিক্ষাকেই বলা হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং।

সাধারণত কলেজ ইউনিভার্সিটি পাস করে কম্পিউটার প্রোগ্রামার বা প্রযুক্তিবিদ হতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিশুদের পক্ষে কীভাবে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হওয়া সম্ভব, শিশুদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষায় কীভাবে উৎসাহী করা যায়, কখন থেকে এই শিক্ষা শুরু করতে হবে এবং শিশুদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা কতটা জরুরি- এই সব প্রশ্ন আমাদের মনে আসতেই পারে।

স্কুল থেকে শুরু করে সন্তানের সব শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব প্রথমত বাবা মায়ের। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি যেকোনো শিক্ষা অল্প বয়সে শুরু করা ভালো। শিশুদের বয়স ও মেধার দিকে লক্ষ্য রেখে সহজ ও ছোট আকারে পাঠদান করতে হয়। তবে শিশু শিক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো আনন্দের সাথে শিক্ষাদান। পাশাপাশি প্রাপ্ত জ্ঞানটি ব্যবহারিক কাজে লাগানো। এতে শিক্ষাদান অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং শিশুদের জন্য জ্ঞানার্জন করা আনন্দের হয়। মনে রাখাও সহজ হয়।

স্বভাবগতভাবে শিশুরা সবসময়ই কৌতুহলী। নতুন কিছু পেলে, অন্যকে কিছু করতে দেখলে সেটা নিজে করার ইচ্ছা তাদের মধ্যে দেখা যায়। কাজেই তাদের এই কৌতুহল সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাদান করলে সহজেই শিশুদের অন্য সব জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং যতটা কঠিন মনে করি আসলে ততটা কঠিন নয়। শিশুদের কাছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সহজে পরিচিত করে দিলেই কিন্তু তাদের কৌতুহলি মন এ সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী হবে। এ সুযোগে তাদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মূল বিষয়গুলো শিখিয়ে দেওয়া যায়। ফলে হাতের যেই স্মার্ট ফোনটিতে সারাক্ষণ খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে সেটা কীভাবে কাজ করে তা জানতে পারবে। এভাবে চারপাশে থাকা সব প্রযুক্তি নিয়ে আপনার সন্তান সরাসরি এবং অনুসন্ধিৎসু মনে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে।

শিশুদের কি চিন্তা ভাবনা করবে, তার চেয়ে কীভাবে চিন্তা ভাবনা করবে সে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিশুদের একটি সমস্যা নানাভাবে সমাধান করার পদ্ধতি শেখায়। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং দিয়ে নানা রকম পরীক্ষা নীরিক্ষা ও ভুল থেকে শিশুরা শিক্ষা লাভ করে নিজেদের নানা সমস্যার সমাধান বের করতে পারবে এবং এতে শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

শিশু কালে আমরা ভাষা শিখি মনের ভাব প্রকাশ করি। এই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষাও ছোট বয়সেই অর্জন করা সহজ। প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা আমাদের যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগের কাজটি করতে সাহায্য করে। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিশুদের যৌক্তিক ও গোছানো চিন্তা ভাবনা করতে শেখায়। গানিতিক সূত্রকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সৃজনশীল সমাধান করে গনিতের ব্যবহারিক দিকটি আকর্ষণীয় ও আনন্দের করে তোলে।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং যৌথভাবে কাজ করে সমস্যা সমাধানেও উদ্বুদ্ধ করে। এতে শিশুদের মধ্যে সহযোগী মনোভাব তৈরি হয় এবং সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে শেখায়। এই দক্ষতা জীবনের অন্যান্য সময়ে সুফলদায়ক। শিশুরা বুঝতে পারে সঠিক উত্তর পেতে সঠিক প্রশ্নটি জানতে হয়।

বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে কম্পিউটার শিক্ষা সংযুক্ত করছে। শুধু পেশাগত প্রয়োজন ছাড়াও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময়ের জন্য শিশুদের নানা ভাবে কাজে লাগে। যেকোনো সমস্যা বুঝতে পারা, যেকোনো কিছুতে সহযোগিতা, বিকল্প সমাধান নির্বাচন, যৌক্তিক চিন্তা ভাবনা, সৃজনশীলতা, ঘটনা ও এর প্রভাব, গণিত ইত্যাদি বিষয়ে শিশুরা আরও দক্ষ হয়ে উঠে।

প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। প্রাতিষ্ঠানিক অথবা ব্যক্তিগত যেভাবেই হোক সব অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিক্ষার ব্যবস্থা করে এর সুফল পেতে আজই উৎসাহিত করা।