প্রাণের খোঁজে মঙ্গলগ্রহে রোবট, অনুসন্ধান চালাবে দুই বছর

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮ টা ৫৫ মিনিটে পারসিভেরান্স নামে মহাকাশযানটি মঙ্গলে অবতরণের সংকেত পান নাসার প্রকৌশলীরা। ৭ মাসে পৃথিবী থেকে ৪৭ কোটি মাইল পাড়ি দিয়ে মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছে জেজিরো নামে বিশাল এক গহ্বরে অবতরণ করে নাসার মহাকাশযানটি। এতে বাধভাঙা উল্লাস ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে।

নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক স্টিভ জার্কজিক জানান, টিমের ঐ গৌরবউজ্জল অর্জনে আনন্দিত আমাদের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গল মিশনের সকলকে অভিবাদন জানিয়েছেন তিনি।

এরই মধ্যে মঙ্গল পৃষ্ঠের দুটি ছবিও তুলে পাঠিয়েছে রোবটটি। ক্যামেরার লেন্সে মঙ্গলের ধুলোর আবরণও লক্ষ করা গেছে। যে বিশেষ খাদে রোবটটি অবতরণ করেছে, শত কোটি বছর আগে সেই জেজিরোতে একটি বিরাট হ্রদ ছিলো এমন ধারণা বিজ্ঞানীদের।

নাসার সহযোগি প্রশাসক থমাস জুরবুচেন জানান, জেজেরোতে পাথর খুড়ে নানা নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করবে এ রোবট। শতাব্দী ধরে মানব মনে ঘুরপাক খাওয়া নানা প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হবে।

নাসার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ববি ব্রাউন বলেন, এটি ৩০ টি পর্যন্ত নমুনা ধারণে সক্ষম এবং এটি অনেকটা রিলে রেসের লাঠির মতো। নমুনা সংগ্রহের পর এটি সংরক্ষণ করবে এবং আর্থ রিটান অরবিটার এই ধারকটিকে ৩ বার সিল করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

৬ চাকার রোবটটি দু বছর মঙ্গলে থাকবে। সৌরজগতে পৃথিবীর নিকট প্রতিবেশী লাল গ্রহে আগে প্রাণের অস্তিত্ব ছিলো কিনা, পাথুরে ভূমিতে খননকাজ লাগিয়ে সে সর্ম্পকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহর প্রচেষ্টা চালাবে যানটি।

এ পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহে ১৪ বার অবতরণের চেষ্টা হলে সফল হয় ৮ টি মিশন। পারসিভেরান্সের মধ্য দিয়ে মঙ্গল গ্রহে এক টন ওজনের দ্বিতীয় রোভার রোবট পাঠালো নাসা। এর আগে ২০১২ সালে প্রথমবার রোভার কিউরিসিটিকে মঙ্গলে পাঠানো হয়। সেটি নেমেছিলো গ্রহটির আরেকটি খাদে।