ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৭ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১০৩৩ বার পড়া হয়েছে

৪৭ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

৪৭ বছর পর দেশে আবারও ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’। এজন্য ‘গ্রাম সরকার আইন,২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। খসড়ায় প্রতি ওয়ার্ডে একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবকের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুবক প্রতিনিধি, পল্লী চিকিৎসক, নিকাহ রেজিস্ট্রার ও সমবায় সমিতির সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক এবং যেকোনো ধরনের জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত গ্রাম সরকার। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘গ্রাম সরকার আইন,২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, আইনের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার থাকবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নামের পর ওয়ার্ড নম্বরের সূচকে গ্রাম সরকারের নাম হবে। গ্রাম সরকার একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। আইনের বিধান সাপেক্ষে এর স্থাবর ও অস্থাবর উভয় ধরনের সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকবে।

প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারে প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য। ১৫ সদস্যের গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর। এই আইনের অধীন গ্রাম সরকার ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হবে। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১)-এ সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে গণ্য হবে না।

খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গ্রাম সরকার প্রধান হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারের উপদেষ্টা হবেন। ১৫ সদস্যতে গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকও থাকবেন। আর সদস্য হিসেবে থাকবেন দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুইজন, একজন পুরুষ ও একজন নারী; দুইজন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক, একজন যুবক প্রতিনিধি এবং একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য (যদি থাকে)। কোনো এক বা একাধিক শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারদের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ। খসড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক, যেকোনো ধরনের জুয়াসহ অপরাধ সংঘটনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব বিষয়ে প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার দায়িত্ব থাকবে গ্রাম সরকারের। গ্রামে শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখার উদ্যোগও নেবে গ্রাম সরকার। এ উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করতে পারবে তারা। তাদের লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে।

গ্রামের রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে গ্রাম সরকার। চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয়াদিও পর্যালোচনা করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রসারে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহযোগিতা করবে। পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচিসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে।
মাঠপর্যায়ে এসব কর্মসূচিতে কর্মরত কর্মচারীদের কাজ সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন দেয়ার কথাও রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে গ্রাম সরকার। প্রয়োজনে নিজস্ব তত্ত্বাবধানেও ব্যবস্থা নিতে পারবে। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত থাকবে গ্রাম সরকার। এ বিষয়ে সংকট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

প্রথম সভা থেকে গণনা করে গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমবায় সমিতি গঠন,ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা, মৎস্য চাষ ও পশুপালন সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণে জনগণকে উৎসাহিত করার দায়িত্বও থাকবে। নারী, যুব, তরুণ, প্রবীণ ও শিশুসহ গ্রামীণ জনগণের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে গ্রাম সরকার। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৮০ সালে ‘গ্রাম সরকার’ নামে একটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরে ২০০৩ সালে এ বিষয়ে আইন করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। রহিত হওয়া গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩ অনুযায়ী, একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের কথা ছিল।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

৪৭ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার

আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

৪৭ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

৪৭ বছর পর দেশে আবারও ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’। এজন্য ‘গ্রাম সরকার আইন,২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। খসড়ায় প্রতি ওয়ার্ডে একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবকের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুবক প্রতিনিধি, পল্লী চিকিৎসক, নিকাহ রেজিস্ট্রার ও সমবায় সমিতির সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নয়, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক এবং যেকোনো ধরনের জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত গ্রাম সরকার। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘গ্রাম সরকার আইন,২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, আইনের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার থাকবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নামের পর ওয়ার্ড নম্বরের সূচকে গ্রাম সরকারের নাম হবে। গ্রাম সরকার একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। আইনের বিধান সাপেক্ষে এর স্থাবর ও অস্থাবর উভয় ধরনের সম্পত্তি অর্জন, অধিকারে রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকবে।

প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারে প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য। ১৫ সদস্যের গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর। এই আইনের অধীন গ্রাম সরকার ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংগঠন হবে। তবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১)-এ সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে গণ্য হবে না।

খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গ্রাম সরকার প্রধান হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারের উপদেষ্টা হবেন। ১৫ সদস্যতে গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকও থাকবেন। আর সদস্য হিসেবে থাকবেন দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুইজন, একজন পুরুষ ও একজন নারী; দুইজন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক, একজন যুবক প্রতিনিধি এবং একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য (যদি থাকে)। কোনো এক বা একাধিক শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারদের কমপক্ষে ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হচ্ছে গ্রাম পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ। খসড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক, যেকোনো ধরনের জুয়াসহ অপরাধ সংঘটনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব বিষয়ে প্রতিবেদন ইউনিয়ন পরিষদে দেয়ার দায়িত্ব থাকবে গ্রাম সরকারের। গ্রামে শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখার উদ্যোগও নেবে গ্রাম সরকার। এ উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করতে পারবে তারা। তাদের লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে।

গ্রামের রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে গ্রাম সরকার। চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয়াদিও পর্যালোচনা করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রসারে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহযোগিতা করবে। পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচিসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে।
মাঠপর্যায়ে এসব কর্মসূচিতে কর্মরত কর্মচারীদের কাজ সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন দেয়ার কথাও রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয়জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে গ্রাম সরকার। প্রয়োজনে নিজস্ব তত্ত্বাবধানেও ব্যবস্থা নিতে পারবে। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত থাকবে গ্রাম সরকার। এ বিষয়ে সংকট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

প্রথম সভা থেকে গণনা করে গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমবায় সমিতি গঠন,ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা, মৎস্য চাষ ও পশুপালন সম্পর্কে গ্রামের মানুষকে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণে জনগণকে উৎসাহিত করার দায়িত্বও থাকবে। নারী, যুব, তরুণ, প্রবীণ ও শিশুসহ গ্রামীণ জনগণের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে গ্রাম সরকার। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৮০ সালে ‘গ্রাম সরকার’ নামে একটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরে ২০০৩ সালে এ বিষয়ে আইন করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। রহিত হওয়া গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩ অনুযায়ী, একজন গ্রাম সরকার প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্যের সমন্বয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের কথা ছিল।

আস্থা/এমএইচ