ইউএনওকে ‘লাথি মেরে বের করে দেওয়ার’ হুমকি বিএনপি নেতার
- আপডেট সময় : ১০:০৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০০২ বার পড়া হয়েছে
ইউএনওকে ‘লাথি মেরে বের করে দেওয়ার’ হুমকি বিএনপি নেতার
আস্থা ডেস্কঃ
‘বিএনপি এমন একটি দল আপনার মতো বহু ইউএনওকে পায়ে লাথি দিয়ে বের করতে পারি।’ নাচোল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলামের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই নেতা ৩নং নাচোল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান।
সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গত সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি, ছাত্রদল ও বঞ্চিত হওয়া সাধারণ আবেদনকারীরা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে উপজেলার সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন।
বক্তব্যে বিএনপি নেতা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের কথার বাইরে গেলে আপনি ১ (এক) ঘণ্টাও অফিস করতে পারবেন না। বিএনপি এমন একটি দল আপনার মতো বহু ইউএনওকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দিতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ তালিকায় আ.লীগের পদধারী নেতা ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানার অপসারণ দাবিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।
নিয়োগ বঞ্চিতরা একত্রিত হয়ে ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, শিক্ষা অফিস ও এলজিইডিসহ প্রধান প্রধান দপ্তরগুলোর গেটে তালা লাগিয়ে দেন।
ওই সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আমানুল্লা আল মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা, কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেহরাব জাকারিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মুকুল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিম এবং ছাত্রদল নেতা নাহিদ ও রোমিওসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাস বলেন, যাচাই-বাছাই ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ফলাফল প্রদান করা হয়। অথচ বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারি দপ্তরগুলোতে বিক্ষোভ করে তালা লাগিয়ে দেয়। স্বাধীন দেশে যে যার মতো বক্তব্য দিচ্ছে, দাবি দাওয়া করছে, আমাদের আর করার কি আছে।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভের পর ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলা জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজখবর নিয়ে দেখব।
আস্থা/এমএইচ



















