ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দিতে হবে নতুন চার্জ

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০২১ বার পড়া হয়েছে

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দিতে হবে নতুন চার্জ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর নতুন করে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসোএনএ) চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ০.০০৫ বা ভারতীয় আধা রুপি হারে এ চার্জ দিতে হবে।

বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) থেকে আলাদা হিসেবে যুক্ত হবে এসএনএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তির সই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এই চুক্তি করার বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তবে ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ১ ভারতীয় পয়সা হারে এই চার্জ দাবি করেছিলো। ‘পরে বিপিডিবি দরকষাকষি করে চার্জের হার প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি বা আধা পয়সায় নির্ধারণ করেছে।

ভারতের বিদ্যুৎ বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই চুক্তি করতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষর বিলম্বিত হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, চার্জের পরিমাণ ছোট হলেও ভারত থেকে দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর মোট আর্থিক প্রভাব বড় হবে।

বিপিডিবির লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) কাছে এসএনএ চার্জ নির্ধারণের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত এই চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বর্তমানে প্রযোজ্য চার্জের হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে ভুটান ও নেপালের আগে থেকেই এসএনএ চুক্তি রয়েছে এবং বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এসএনএ চার্জ করছে। বাংলাদেশের জন্যও একই হার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরো সক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে আমদানি হলে, এক ঘন্টায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি হবে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি হারে এর জন্য এসএনএ চার্জ দিতে হবে ৫ হাজার ৮শ রুপি।

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তি সহজ করতে ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে।

এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২শ ৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩শ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১শ ৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২শ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২শ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে।

এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪শ ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির।

নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মূল বিদ্যুৎমূল্যের পাশাপাশি এসএনএ চার্জও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দিতে হবে নতুন চার্জ

আপডেট সময় : ১১:১০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দিতে হবে নতুন চার্জ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর নতুন করে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসোএনএ) চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ০.০০৫ বা ভারতীয় আধা রুপি হারে এ চার্জ দিতে হবে।

বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) থেকে আলাদা হিসেবে যুক্ত হবে এসএনএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তির সই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এই চুক্তি করার বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তবে ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ১ ভারতীয় পয়সা হারে এই চার্জ দাবি করেছিলো। ‘পরে বিপিডিবি দরকষাকষি করে চার্জের হার প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি বা আধা পয়সায় নির্ধারণ করেছে।

ভারতের বিদ্যুৎ বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই চুক্তি করতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষর বিলম্বিত হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, চার্জের পরিমাণ ছোট হলেও ভারত থেকে দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এর মোট আর্থিক প্রভাব বড় হবে।

বিপিডিবির লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) কাছে এসএনএ চার্জ নির্ধারণের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত এই চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বর্তমানে প্রযোজ্য চার্জের হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে ভুটান ও নেপালের আগে থেকেই এসএনএ চুক্তি রয়েছে এবং বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এসএনএ চার্জ করছে। বাংলাদেশের জন্যও একই হার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরো সক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে আমদানি হলে, এক ঘন্টায় ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি হবে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি হারে এর জন্য এসএনএ চার্জ দিতে হবে ৫ হাজার ৮শ রুপি।

বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তি সহজ করতে ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে।

এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২শ ৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩শ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১শ ৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২শ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২শ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে।

এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪শ ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির।

নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মূল বিদ্যুৎমূল্যের পাশাপাশি এসএনএ চার্জও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।

আস্থা/এমএইচ