ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ককটেল-বাসে আগুন-নতুন উগ্রবাদী সংগঠন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

ককটেল-বাসে আগুন-নতুন উগ্রবাদী সংগঠন

মোফাজ্জল হোসেনঃ

রাজধানীতে টানা ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মধ্যে পরিত্যক্ত স্থান থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই রাজধানীর একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে, তাদের একটি অংশ ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর আবারও উগ্রবাদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখনই পরিস্থিতিকে উগ্রবাদের উত্থান হিসেবে দেখার মতো তথ্য নেই। সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর নজরদারি চলছে।

মানবাধিকারকর্মীরাও সতর্ক করে বলছেন, কয়েকজনকে গ্রেফতার বা কিছু বোমা উদ্ধারের ঘটনা থেকেই বড় ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে পরপর কয়েকটি ঘটনা, নতুন সংগঠন তৈরির অভিযোগ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে অবস্থান করে তাদের একটি অংশ সম্ভাব্য উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করছিল। পরে তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর মধ্যেই শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রোববারও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ঘটনাগুলো আলাদা হলেও পরপর দুদিনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করে আলোচনা করছিলেন। সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে।

তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১১ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১২ জনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ফার্মগেটের মসজিদ থেকে উগ্রবাদের অভিযোগে কয়েকজনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ নতুন কোনও বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “গত প্রায় দুই বছরে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কতটা কার্যকরভাবে নজরদারিতে ছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

আটক ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে নূর খান লিটন বলেন, শুক্রবার যাদের আটক করা হয়েছে, তারা ঠিক কোন কারণে বা কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি তদন্ত করছে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, তাদের কোনও না কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে আমরা এখন একটি নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই তদন্তের ফল আসার আগে ঢালাও বা অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

আরেক মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির মনে করেন, উগ্রবাদের ক্ষেত্রে সতর্ক ও প্রমাণনির্ভর মূল্যায়ন জরুরি। শুক্রবার কয়েকজনকে গ্রেফতার করা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। কিন্তু শুধু গ্রেফতারের ঘটনা থেকেই দেশে উগ্রবাদ ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া সমীচীন হবে না।

তাদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক যোগাযোগ, অর্থায়ন, অনলাইন কার্যক্রম ও নেটওয়ার্কের তথ্য তদন্তের মাধ্যমে সামনে এলে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক নাগরিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করাও উগ্রবাদ প্রতিরোধের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি। আমাদেরকে এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

শুধু মসজিদ থেকে আটকের ঘটনাই নয়, এর আগে কয়েকটি বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘ছাতা বোমা’ এবং আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত ব্যাগে ‘প্রেশারকুকার বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে সাভারে একটি সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে সাভারের একটি ভাড়া বাসা থেকে একাধিক পাইপ বোমা, রাসায়নিক পদার্থ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি মসজিদের মাঠ থেকেও একটি শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। বরিশাল আদালত চত্বরেও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দাবি, কয়েকটি বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কিছু যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সাভারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যারা ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও একজনকে খুঁজছে সিটিটিসি।

দেশে উগ্রবাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনও লক্ষণ নেই। তবে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিজস্ব ডাটাবেইস ব্যবহার করে সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

ককটেল-বাসে আগুন-নতুন উগ্রবাদী সংগঠন

আপডেট সময় : ০১:০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ককটেল-বাসে আগুন-নতুন উগ্রবাদী সংগঠন

মোফাজ্জল হোসেনঃ

রাজধানীতে টানা ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মধ্যে পরিত্যক্ত স্থান থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই রাজধানীর একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে, তাদের একটি অংশ ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর আবারও উগ্রবাদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখনই পরিস্থিতিকে উগ্রবাদের উত্থান হিসেবে দেখার মতো তথ্য নেই। সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর নজরদারি চলছে।

মানবাধিকারকর্মীরাও সতর্ক করে বলছেন, কয়েকজনকে গ্রেফতার বা কিছু বোমা উদ্ধারের ঘটনা থেকেই বড় ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে পরপর কয়েকটি ঘটনা, নতুন সংগঠন তৈরির অভিযোগ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে অবস্থান করে তাদের একটি অংশ সম্ভাব্য উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করছিল। পরে তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর মধ্যেই শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রোববারও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ঘটনাগুলো আলাদা হলেও পরপর দুদিনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করে আলোচনা করছিলেন। সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে।

তাদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১১ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১২ জনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ফার্মগেটের মসজিদ থেকে উগ্রবাদের অভিযোগে কয়েকজনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ নতুন কোনও বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “গত প্রায় দুই বছরে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কতটা কার্যকরভাবে নজরদারিতে ছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

আটক ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে নূর খান লিটন বলেন, শুক্রবার যাদের আটক করা হয়েছে, তারা ঠিক কোন কারণে বা কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি তদন্ত করছে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, তাদের কোনও না কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে আমরা এখন একটি নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই তদন্তের ফল আসার আগে ঢালাও বা অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

আরেক মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির মনে করেন, উগ্রবাদের ক্ষেত্রে সতর্ক ও প্রমাণনির্ভর মূল্যায়ন জরুরি। শুক্রবার কয়েকজনকে গ্রেফতার করা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। কিন্তু শুধু গ্রেফতারের ঘটনা থেকেই দেশে উগ্রবাদ ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া সমীচীন হবে না।

তাদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক যোগাযোগ, অর্থায়ন, অনলাইন কার্যক্রম ও নেটওয়ার্কের তথ্য তদন্তের মাধ্যমে সামনে এলে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক নাগরিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করাও উগ্রবাদ প্রতিরোধের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি। আমাদেরকে এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

শুধু মসজিদ থেকে আটকের ঘটনাই নয়, এর আগে কয়েকটি বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘ছাতা বোমা’ এবং আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত ব্যাগে ‘প্রেশারকুকার বোমা’ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে সাভারে একটি সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে সাভারের একটি ভাড়া বাসা থেকে একাধিক পাইপ বোমা, রাসায়নিক পদার্থ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি মসজিদের মাঠ থেকেও একটি শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। বরিশাল আদালত চত্বরেও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দাবি, কয়েকটি বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কিছু যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সাভারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়ার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যারা ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও একজনকে খুঁজছে সিটিটিসি।

দেশে উগ্রবাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনও লক্ষণ নেই। তবে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিজস্ব ডাটাবেইস ব্যবহার করে সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আস্থা/এমএইচ