ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক আটক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ১০১০ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোণায় শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক আটক

চিকিৎসকের পরীক্ষায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসক ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দিলে তা সবার নজরে আসে।

সোরহার হোসেন/নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় আলোচিত ১১ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর সদস্যরা আটক করে বলে জানিয়েছেন মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।

এর আগে ওই মাদ্রাসার ১১ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলাটি করেন শিক্ষার্থীর মা।

শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেয়ার জোর চেষ্টা চালায়। টাকা দিয়ে মীমাংসাও করতে চেয়েছিলেন বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।

কিন্তু শিশুটির মা তাতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এখনও সেই মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে যায়।

কিন্তু গত শুক্রবার মদন উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে তার মা নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকের পরীক্ষায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করলে তা সবার নজরে আসে।

শিশুটির চিকিৎসক ও ময়মনসিংহের নারী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সায়মা আক্তার বলেন, গত বছরের নভেম্বরের দিকে মাদ্রাসা ছুটির পর শিক্ষক শিশুটিকে বাড়ি যেতে দেননি। তিনি তাকে মাদ্রাসার বারান্দা ও তার ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলেন। পরে এক পর্যায়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাতবার ওই শিক্ষক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে চিকিৎসক জানান।

তিনি বলেন, এ সময় শিশুটিকে প্রচণ্ড ভয় দেখানো হয়। তাকে বলা হয়, এই ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার নানীকে মেরে ফেলা হবে। সিলেটে গিয়ে তার মাকেও মেরে ফেলা হবে। এভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।

চিকিৎসক বলেন, মেয়েটি তার মায়ের সঙ্গে এখানে আসার সময় প্রচণ্ড ভীত ছিল। এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিল। কোনো কথা বলছিল না। ট্রমাটাইজ অবস্থায় ছিল। আমি তাকে একটি কলম আর চকলেট দেই। জিজ্ঞাস করি, মা তোমার সমস্যা কী? তখন সে বলে, ম্যাডাম পেটটা ভার ভার লাগে, ভিতরে কী যেন লড়ে।

মেয়েটির সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলার পর সে শুধু দুইবার ‘হুজুর’ শব্দটি বলেছে। তারপর থেকে সে আর কিছু বলতে চায়নি। আমরা পরীক্ষা করে দেখি সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

চিকিৎসক শিশুটির সিজার বা স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে জটিলতার কথাও বলেছেন। কারণ, শিশুটির শরীরের তুলনায় বাচ্চার আকার বড়। এটি শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শিশুটির মা বলেন, রাতে মেয়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর সময় আমার নজরে আসে মেয়ের পেট কিছুটা উঁচু। তখন খটকা লাগে এবং তাকে ডাক্তারের কাছে যাই। তখন ডাক্তার বলেন, মেয়ে গর্ভবতী।

তিনি বলেন, বিষয়টা জানাজানি হলে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর টাকা দেওয়ার লোভ দেখায়। বিষয়টি সমাধান করতে বলে। আমি রাজী হই নাই। আমি বলি, গ্রামের মানুষ আছে। সবাইকে নিয়ে যা করার করব। পরে মামলা করি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। সাগরের দ্রুত আটক চাই।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোষ্টে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সঠিক তদন্তের আবেদন করেছেন।

ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মামলা করেছি। আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করেছি। এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৪ এর সদস্যরা তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এখনও আসামি র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করবে তারা।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

নেত্রকোণায় শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক আটক

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নেত্রকোণায় শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক আটক

চিকিৎসকের পরীক্ষায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসক ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দিলে তা সবার নজরে আসে।

সোরহার হোসেন/নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় আলোচিত ১১ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর সদস্যরা আটক করে বলে জানিয়েছেন মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।

এর আগে ওই মাদ্রাসার ১১ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলাটি করেন শিক্ষার্থীর মা।

শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে ধামাচাপা দেয়ার জোর চেষ্টা চালায়। টাকা দিয়ে মীমাংসাও করতে চেয়েছিলেন বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।

কিন্তু শিশুটির মা তাতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এখনও সেই মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে যায়।

কিন্তু গত শুক্রবার মদন উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে তার মা নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকের পরীক্ষায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করলে তা সবার নজরে আসে।

শিশুটির চিকিৎসক ও ময়মনসিংহের নারী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সায়মা আক্তার বলেন, গত বছরের নভেম্বরের দিকে মাদ্রাসা ছুটির পর শিক্ষক শিশুটিকে বাড়ি যেতে দেননি। তিনি তাকে মাদ্রাসার বারান্দা ও তার ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলেন। পরে এক পর্যায়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাতবার ওই শিক্ষক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে চিকিৎসক জানান।

তিনি বলেন, এ সময় শিশুটিকে প্রচণ্ড ভয় দেখানো হয়। তাকে বলা হয়, এই ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার নানীকে মেরে ফেলা হবে। সিলেটে গিয়ে তার মাকেও মেরে ফেলা হবে। এভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।

চিকিৎসক বলেন, মেয়েটি তার মায়ের সঙ্গে এখানে আসার সময় প্রচণ্ড ভীত ছিল। এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিল। কোনো কথা বলছিল না। ট্রমাটাইজ অবস্থায় ছিল। আমি তাকে একটি কলম আর চকলেট দেই। জিজ্ঞাস করি, মা তোমার সমস্যা কী? তখন সে বলে, ম্যাডাম পেটটা ভার ভার লাগে, ভিতরে কী যেন লড়ে।

মেয়েটির সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলার পর সে শুধু দুইবার ‘হুজুর’ শব্দটি বলেছে। তারপর থেকে সে আর কিছু বলতে চায়নি। আমরা পরীক্ষা করে দেখি সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

চিকিৎসক শিশুটির সিজার বা স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে জটিলতার কথাও বলেছেন। কারণ, শিশুটির শরীরের তুলনায় বাচ্চার আকার বড়। এটি শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শিশুটির মা বলেন, রাতে মেয়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর সময় আমার নজরে আসে মেয়ের পেট কিছুটা উঁচু। তখন খটকা লাগে এবং তাকে ডাক্তারের কাছে যাই। তখন ডাক্তার বলেন, মেয়ে গর্ভবতী।

তিনি বলেন, বিষয়টা জানাজানি হলে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর টাকা দেওয়ার লোভ দেখায়। বিষয়টি সমাধান করতে বলে। আমি রাজী হই নাই। আমি বলি, গ্রামের মানুষ আছে। সবাইকে নিয়ে যা করার করব। পরে মামলা করি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। সাগরের দ্রুত আটক চাই।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোষ্টে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সঠিক তদন্তের আবেদন করেছেন।

ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মামলা করেছি। আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করেছি। এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৪ এর সদস্যরা তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এখনও আসামি র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছে। পরে থানায় হস্তান্তর করবে তারা।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ