ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে-পার্বত্য মন্ত্রী

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০১০ বার পড়া হয়েছে

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে-পার্বত্য মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবস আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চল। আমরা যারা এই অঞ্চলে বাস করি, সারা দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর সহানুভূতি, চিন্তাধারা ও উপলব্ধি যেন ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয় এটাই আমার আহ্বান।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা এই ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, আমাদেরও উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে রাষ্ট্রের সংবিধান, নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান অবস্থায় এসেছি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তি, দল বা শুধু রাষ্ট্র এককভাবে কিছু করতে পারবে না। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সব জাতিসত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষ করে গণমাধ্যম—সবার সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখনী শুধু দেশের ভেতর নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। তাই বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র বিষয়। এটি অর্জনে প্রয়োজন অভিন্ন লক্ষ্য, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমন্বিত প্রয়াস।

সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ছয় মাসে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন, সেগুলো জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবার উচিত এসব উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, আমি ১৯৮৬ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং পরবর্তীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সাত বছর দায়িত্বে ছিলাম। সে সময়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে সমতা বজায় রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

সবশেষে তিনি বলেন, “আমি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও বৈষম্যমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। আমাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সময়ই বলে দেবে (টাইম উইল স্পিক)। এককভাবে কেউ কিছু করতে পারে না ,সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সমন্বিত টিমওয়ার্কই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়।

আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে-পার্বত্য মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে-পার্বত্য মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবস আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চল। আমরা যারা এই অঞ্চলে বাস করি, সারা দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর সহানুভূতি, চিন্তাধারা ও উপলব্ধি যেন ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয় এটাই আমার আহ্বান।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা এই ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, আমাদেরও উচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে রাষ্ট্রের সংবিধান, নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান অবস্থায় এসেছি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এখানে কোনো ব্যক্তি, দল বা শুধু রাষ্ট্র এককভাবে কিছু করতে পারবে না। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সব জাতিসত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষ করে গণমাধ্যম—সবার সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখনী শুধু দেশের ভেতর নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। তাই বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র বিষয়। এটি অর্জনে প্রয়োজন অভিন্ন লক্ষ্য, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমন্বিত প্রয়াস।

সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ছয় মাসে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন, সেগুলো জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবার উচিত এসব উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, আমি ১৯৮৬ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং পরবর্তীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সাত বছর দায়িত্বে ছিলাম। সে সময়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে সমতা বজায় রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

সবশেষে তিনি বলেন, “আমি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হিসেবে সকলকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও বৈষম্যমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। আমাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সময়ই বলে দেবে (টাইম উইল স্পিক)। এককভাবে কেউ কিছু করতে পারে না ,সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সমন্বিত টিমওয়ার্কই হচ্ছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়।

আস্থা/এমএইচ