ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল আ. লীগ নেতার বাড়ি, লুটপাটের পর আগুন

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ১০০২ বার পড়া হয়েছে

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল আ. লীগ নেতার বাড়ি, লুটপাটের পর আগুন

আস্থা ডেস্কঃ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা/কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে পটুয়াখালীর মির্জাগ‌ঞ্জের কাঠালতলী বাজা‌রের পা‌শে এ ঘটনা ঘ‌টে। ওই বাড়ির লোকজন ঢাকাতে থাকায় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। ফলে কারোর আহতের ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু)।

তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন মিজানুর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি বাড়ির বাহিরে আছেন। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা। পরে তারা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিজানুর রহমান লাভলু কাজী সপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যান। তার মা বাড়িতে একা বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকালে অসুস্থ হয়ে তার মা একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে একতলা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল লুট করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।‌

কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, তার বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন। ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর পরে ছয় কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাদের কাছ থেকে মোবাইলফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি জানান, তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে । গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী ফেসবুকে বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি ফেসবুকে দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়ে পাওয়া যায়নি।

লাভলু কাজী অভিযোগ করে বলেন, জমি কিনে আমি বাড়ি করেছি। কী কারণে আমার বাড়ি ভাঙা হয়েছে জানি না । যারা আমার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাদের সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই। (পটুয়াখালী-১ আসনের) সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।

দেশের বাইরে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। ২০০৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য রেজিস্ট্রি করা জমি দখল করে চেয়ারম্যান বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। জমি বা বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমার বা আমাদের কোনও আগ্রহ নেই।’

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল আ. লীগ নেতার বাড়ি, লুটপাটের পর আগুন

আপডেট সময় : ০১:৩২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল আ. লীগ নেতার বাড়ি, লুটপাটের পর আগুন

আস্থা ডেস্কঃ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা/কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে পটুয়াখালীর মির্জাগ‌ঞ্জের কাঠালতলী বাজা‌রের পা‌শে এ ঘটনা ঘ‌টে। ওই বাড়ির লোকজন ঢাকাতে থাকায় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। ফলে কারোর আহতের ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু)।

তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন মিজানুর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি বাড়ির বাহিরে আছেন। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা। পরে তারা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিজানুর রহমান লাভলু কাজী সপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যান। তার মা বাড়িতে একা বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকালে অসুস্থ হয়ে তার মা একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে একতলা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল লুট করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।‌

কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, তার বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন। ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর পরে ছয় কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাদের কাছ থেকে মোবাইলফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি জানান, তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে । গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

ঘটনার সময় লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী ফেসবুকে বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি ফেসবুকে দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়ে পাওয়া যায়নি।

লাভলু কাজী অভিযোগ করে বলেন, জমি কিনে আমি বাড়ি করেছি। কী কারণে আমার বাড়ি ভাঙা হয়েছে জানি না । যারা আমার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাদের সঙ্গে আমার কোনও বিরোধ নেই। (পটুয়াখালী-১ আসনের) সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।

দেশের বাইরে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। ২০০৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য রেজিস্ট্রি করা জমি দখল করে চেয়ারম্যান বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। জমি বা বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমার বা আমাদের কোনও আগ্রহ নেই।’

দৈনিক আস্থা/এমএইচ