ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo কর কমিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির ছায়া বাজেট দিল জামায়াত Logo নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক করে আনন্দিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo আবারও ইসলামী ব্যাংকে দখলকারী চক্রের দৃষ্টি পড়েছে : বিরোধীদলীয় নেতা Logo প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ : অধ্যাপক ডোনার Logo পুশ ইনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেবে জামায়াত জোট Logo পুলিশ হত্যা করেছি–ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo সন্ত্রাসীদের হামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী রবিন নিহত Logo একনেকে অনুমোদন পায়নি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প Logo ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

রাজশাহীতে মাইজভান্ডারীর দরবারে হামলা-ভাঙচুর

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১২৫৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে মাইজভান্ডারীর দরবারে হামলা-ভাঙচুর

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর পবা উপজেলায় মাইজভান্ডারীর একটি দরবারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার ( ৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফে’ এ ভাঙচুর করা হয়।

এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান ভান্ডারী প্রায় ১৫ বছর আগে বাড়ির পাশে নিজের জায়গাতে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’ করেন। তিনি তার ভক্তদের কাছে ‘পীর’ হিসেবে পরিচিত।

এ দরবার শরীফে প্রতিবছর ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এবার বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আয়োজন ছিল। জুমার নামাজের পর হামলার শঙ্কায় দুই গাড়ি পুলিশ নিয়ে ছিলেন পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। তবুও উত্তেজিত জনতা হামলা চালায়।

খানকার পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারী বলেন, কয়েকদিন ধরেই এলাকার কিছু লোক আমাদের অনুষ্ঠানে বাধা দিচ্ছিল। অনুষ্ঠান বন্ধ করতে গতরাতে তারা পবা থানায় গিয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে জানি না। জুমার নামাজের পর তারা এক হয়ে খানকা শরীফে হামলা চালায়। ভক্তরা আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম মোস্তফা বিএনপির পুরোনো লোক। তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না তা আমার জানা নেই। খানকা ভাঙার দরকার কি? যার যেটা বিশ্বাস, সে সেটা করবে। বিএনপি হলেও কারও ছাড় নেই।

জামায়াতে ইসলামীর পবা উপজেলার আমীর আযম আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দলের লোকের কাজ নাই তো, তারা গেছে খানকা ভাঙতে! আমরা নিজেদের কাজই করে শেষ করতে পারছি না।

বিষয়টি নিয়ে পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, গতরাতে থানায় অনেক মানুষই এসেছিল খানকার বিষয়ে। আমি সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। তারপরও একটু উৎকণ্ঠা থাকায় পুলিশ গিয়েছিল। পুলিশ একটু দূরেই ছিল। তখনই উত্তেজিত জনতা এটা করে ফেলে। মানুষ এত বেশি, অল্প কয়েকজন পুলিশের কিছু করার ছিল না। এখন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দেখা হবে।

থানায় কোনো অভিযোগ করবেন না বলে জানিয়েছেন পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারী বলেন, আমি অভিযোগ করব না। আমি মানবধর্ম করি, আমার কাছে সবাই আসে। সবাইকে মাফ করে দিলাম। আল্লাহও যেন তাদের মাফ করে দেন। তারা ভেঙে খুশি হয়েছে, হোক।

ট্যাগস :

রাজশাহীতে মাইজভান্ডারীর দরবারে হামলা-ভাঙচুর

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে মাইজভান্ডারীর দরবারে হামলা-ভাঙচুর

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর পবা উপজেলায় মাইজভান্ডারীর একটি দরবারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার ( ৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফে’ এ ভাঙচুর করা হয়।

এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান ভান্ডারী প্রায় ১৫ বছর আগে বাড়ির পাশে নিজের জায়গাতে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’ করেন। তিনি তার ভক্তদের কাছে ‘পীর’ হিসেবে পরিচিত।

এ দরবার শরীফে প্রতিবছর ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এবার বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আয়োজন ছিল। জুমার নামাজের পর হামলার শঙ্কায় দুই গাড়ি পুলিশ নিয়ে ছিলেন পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। তবুও উত্তেজিত জনতা হামলা চালায়।

খানকার পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারী বলেন, কয়েকদিন ধরেই এলাকার কিছু লোক আমাদের অনুষ্ঠানে বাধা দিচ্ছিল। অনুষ্ঠান বন্ধ করতে গতরাতে তারা পবা থানায় গিয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে জানি না। জুমার নামাজের পর তারা এক হয়ে খানকা শরীফে হামলা চালায়। ভক্তরা আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম মোস্তফা বিএনপির পুরোনো লোক। তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না তা আমার জানা নেই। খানকা ভাঙার দরকার কি? যার যেটা বিশ্বাস, সে সেটা করবে। বিএনপি হলেও কারও ছাড় নেই।

জামায়াতে ইসলামীর পবা উপজেলার আমীর আযম আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দলের লোকের কাজ নাই তো, তারা গেছে খানকা ভাঙতে! আমরা নিজেদের কাজই করে শেষ করতে পারছি না।

বিষয়টি নিয়ে পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, গতরাতে থানায় অনেক মানুষই এসেছিল খানকার বিষয়ে। আমি সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। তারপরও একটু উৎকণ্ঠা থাকায় পুলিশ গিয়েছিল। পুলিশ একটু দূরেই ছিল। তখনই উত্তেজিত জনতা এটা করে ফেলে। মানুষ এত বেশি, অল্প কয়েকজন পুলিশের কিছু করার ছিল না। এখন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দেখা হবে।

থানায় কোনো অভিযোগ করবেন না বলে জানিয়েছেন পীর আজিজুর রহমান ভান্ডারী বলেন, আমি অভিযোগ করব না। আমি মানবধর্ম করি, আমার কাছে সবাই আসে। সবাইকে মাফ করে দিলাম। আল্লাহও যেন তাদের মাফ করে দেন। তারা ভেঙে খুশি হয়েছে, হোক।