ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

সেনবাগে মাদক সেবনে বাঁধা: ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতা আটক

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ১০২৪ বার পড়া হয়েছে

সেনবাগে মাদক সেবনে বাঁধা: ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতা আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ৪ কিশোরের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন হয়েছে। গুরুতর আহত আরও তিন কিশোর বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মোঃ শাহজাহানের ছেলে।

গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি মাদক কারবারি ও শান্তিরহাট জিয়া স্মৃতি সংসদের সাবেক সভাপতি এবং স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হারুন মিয়া (৩৫)’কে পুলিশ আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হারুনসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসা ও সেবন করে আসছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে স্থানীয় তরুণরা এক মাদকসেবীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এলাকায় মাদকবিরোধী পাহারা শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাতে মাদককারবারি হারুন, জাহাঙ্গীর, মমিন ও আবুল খায়েরের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় তরুণদের ওপর হামলা চালায়।

হারুনের এলোপাতাড়ি কোপে চার কিশোরই গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৬ বছর বয়সী পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ফাহিম সেনবাগে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ওই সময় নানাবাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে ফাহিমকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালীর সেনবাগ থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম আবদুর রহিম সরকার বলেন, একজনকে পুলিশ আটক করেছে। বাকি আসামিদের আটকের জনঢ অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের করা হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কার্যকলাপে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের আটক করতে সেনবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

সেনবাগে মাদক সেবনে বাঁধা: ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতা আটক

আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সেনবাগে মাদক সেবনে বাঁধা: ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, বিএনপি নেতা আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ৪ কিশোরের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন হয়েছে। গুরুতর আহত আরও তিন কিশোর বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মোঃ শাহজাহানের ছেলে।

গতকাল বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি মাদক কারবারি ও শান্তিরহাট জিয়া স্মৃতি সংসদের সাবেক সভাপতি এবং স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হারুন মিয়া (৩৫)’কে পুলিশ আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হারুনসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসা ও সেবন করে আসছিল। ঘটনার কিছুদিন আগে স্থানীয় তরুণরা এক মাদকসেবীকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এলাকায় মাদকবিরোধী পাহারা শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার রাতে মাদককারবারি হারুন, জাহাঙ্গীর, মমিন ও আবুল খায়েরের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় তরুণদের ওপর হামলা চালায়।

হারুনের এলোপাতাড়ি কোপে চার কিশোরই গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৬ বছর বয়সী পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ফাহিম সেনবাগে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ওই সময় নানাবাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে ফাহিমকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালীর সেনবাগ থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম আবদুর রহিম সরকার বলেন, একজনকে পুলিশ আটক করেছে। বাকি আসামিদের আটকের জনঢ অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের করা হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কার্যকলাপে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের আটক করতে সেনবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ