স্বামীকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করলো স্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:২০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / ১০১৪ বার পড়া হয়েছে
স্বামীকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করলো স্ত্রী
শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে দেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন স্ত্রী আসমা আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ৯৯৯-এ ফোন দেয় এবং পুলিশ এসে আসমা আক্তারকে আটক করে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের হাত-পা উদ্ধার করা হয়।
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী পড়ে যান। আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ



















