ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ ( ভিডিও )
- আপডেট সময় : ০৩:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১
- / ১০৭২ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ তিন বছর আগে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠন করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। দুই বছর মেয়াদি ওই কমিটিতে মাহবুর রহমান রানাকে সভাপতি ও আবু দাউদ রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮৫ জন সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়।
ইতিমধ্যেই ওই কমিটি মেয়াদ পূর্ণ করে অতিরিক্ত ১ বছর পার করেছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে মো. রুকনুজ্জামান রুকনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। আর সেই পদটি এতদিন ব্যবহার করেন মুক্তাগাছা উপজেলার মানকুন ইউনিয়নের মৃত ছোহরাব হোসেনের ছেলে মো: রুকনুজ্জামান রুকন। চলতি বছরের ১২ জুলাই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহারকারী মো. রুকনুজ্জামান রুকনের বাবার মৃত্যু হয়।
তখন একই তারিখে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত একটি প্রেস রিলিজে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ হতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে, হঠাৎ করে চলতি বছরের ৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর থেকে নামের বিভ্রান্তি নিরসণ শিরোনামে আরেকটি প্রেস রিলিজ দেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রুকনুজ্জামান রুকন পদ ব্যবহারকারী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে আরেকজন মো. রুকনুজ্জামান রুকনের ঠিকানা দিয়ে তার পদটি নিশ্চিত করা হয়।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত ওই প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. রুকনুজ্জামান রুকন নাম নির্দেশক ব্যক্তি পরিচয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খানিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। যিনি এই পদ ব্যবহার করবেন তিনি হলেন, মুক্তাগাছা উপজেলার বড়হিংসা বাজার এলাকার ২২২ আজাদ ম্যানসন বাড়ির শফিকুল আজাদের ছেলে মো,. রুকনুজ্জামান রুকন।
এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) সমালোচনাসহ ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল তথ্য দিয়ে ওই পদে একই নামে পদ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে৷ অনেকে আবার এটিকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে আলোচনা করেছেন।
আংশিকুর রহমান আশিক নামে একজন নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে পুরাতন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ রায়হান ইউনিট কমিটি দেওয়ার নামে প্যাডে স্বাক্ষর করে টাকা নিচ্ছেন।
আশিকুর রহমান আশিক লিখেছেন, খামের ভেতর বন্দি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ময়মনসিংহ দঃজেলা শাখা। টাকার কাছে বিক্রি রাজপথের কঠিন শ্রম।
সেখানে মো. জসিম উদ্দিন নামে একজন কমেন্ট করে লিখেছেন, টাকার কাছে বিক্রি রাজনীতি।
রনি খান নামে আরেকজন লিখেছেন, বুক প্যাকেট আর ব্যাংক চেকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ছাত্রদল।
এতদিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহারকারী মো. রুকনুজ্জামান রুকন বলেন, এ পদে স্থানীয় বিএনপির সকল নেতাকর্মী আমাকেই চিনে। সামনে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হবে।
এজন্য স্থানীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আতাত করে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে পদ থেকে সরানো হয়েছে। এখানে নিঃসন্দেহে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। যা হয়ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানেননা।
পদ পাওয়া মো. রুকনুজ্জামান রুকন বলেন, আমি দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সকল প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছি। এছাড়া এই পদটি আগে থেকেই আমার ছিলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রদলের একজন সাবেক সভাপতি বলেন, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় পদ দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এরপরও কেন্দ্রীয় কমিটি অভিযুক্তের পদ সাময়িক স্থগিত করে আবারও ফিরিয়ে দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান রানার মোবাইল নম্বরের একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে, সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ রায়হান জানান, পদ দাবী করা মো. রুকনুজ্জামান রুকন আমাদের দলীয় কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনি। নামের ভুলে তার বাবার মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল শোক জানিয়েছিল।
টাকার বিনিময়ে কাউকে পদ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন কমিটি করার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া এটির সুরহা হয়েছে। তখন কমিটির জন্য টাকা নেইনি। ব্যবসায়িক কাজের টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরে কমিটিগুলোর অনুমোদন হয়েছে।আমি রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছি।
পদ ব্যবহারকারী মো. রুকনুজ্জামান রুকনকে তিন বছর পর হঠাৎ পদ থেকে সরানো প্রসঙ্গে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় টিম প্রধান মাজেদুল ইসলাম রুম্মন বলেন, বিভাগীয় টিমের সাংগঠনিক সকল কর্মকাণ্ডে আমরা ওই ছেলেটিকেই পেয়েছি। কিন্তু এখন কেন বা কি কারণে পদ পরিবর্তন হয়েছে তা আমাদের টিমের কেউ জানি না। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছাত্রদলে কাম্য নয়। আশা করছি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি স্পষ্ট করবে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজনের একই নামের বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো জানিনা। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আরও তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
[irp]













