ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অশান্ত বান্দরবা‌ন, দুই মাসে ১৮ খুন

Md Elias
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২
  • / ১০৭৮ বার পড়া হয়েছে

অশান্ত বান্দরবা‌ন, দুই মাসে ১৮ খুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

তিন পার্বত্য জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) মধ্যে সবচেয়ে ‘শান্ত’ বান্দরবান। কিন্তু এই শান্ত জেলাটি আর শান্ত থাকেনি।হঠাৎ করে অশান্ত হয়ে উঠেছে। দুই মাসে খুন হয়েছেন ১৮জন। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

সূত্র মতে জানা গেছে, গত ৩রা জানুয়ারি থেকে ৬ই মার্চ পর্যন্ত পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপের আঞ্চলিক সংগঠনের সদস্যসহ ১৮জন নিহত হয়েছে। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড গুলো পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

৩রা জানুয়ারি লামা উপজেলার রূপসীপাড়ার অংহ্লা পাড়ায় শ্বশুরবা‌ড়ি‌তে বেড়া‌তে এসে রাতে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয় রাঙ্গামাটির রাজস্থলীর বাঙ্গালহালীয়ার বাসিন্দা মংক্যচিং মার্মা (৩৫)। ৬ই জানুয়ারি সদর উপজেলার রাজ‌বিলায় রেথোয়াই মারমা‌র স্ত্রী সিংয়ানু মারমাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা ক‌রে দুর্বৃত্তরা। ২রা ফেব্রুয়ারি বান্দরবা‌নের রুমা জোনের (২৮ বীর) রাইক্ষিয়াং লেক সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের টহল দল‌কে লক্ষ্য ক‌রে জেএসএস (সন্তু) দ‌লের সদস্যরা গুলি চালায়। এতে সেনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নিহত হন। আত্মরক্ষার্থে সেনা সদস্যরা পাল্টা গুলি চালা‌য়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জেএসএস মূল দ‌লের তিন সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবুপাড়ায় বাবা ও চার ছেলেকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তির আরেক ছেলে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। নিহতরা হলেন, আবুপাড়ার পাড়াপ্রধান কারবারী ল্যাংরুই ম্রো (৬০) এবং তার চার ছেলে রুংথুই ম্রো (৪০), লেংরুং ম্রো (৩৭), মেনওয়াই ম্রো (৩৫) ও রিংরাও ম্রো (২৫)।

এ ঘটনায় আবুপাড়ার ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে পাড়াপ্রধান ও তার চার ছেলেকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় তারা। প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার ক‌রে‌ তারা জানায়, ‘স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ’ ও তন্ত্রমন্ত্রের গুজব ছড়িয়ে তাদেরকে হত্যা করে।

২৬শে ফেব্রুয়ারি রোয়াংছ‌ড়ি‌ উপজেলায় বাড়ির পাশে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন জেএসএসের সাবেক সদস্য ও নতুন পাড়ার নিসামং মারমার ছেলে মং‌চিং শৈ (৪০)। ৪ঠা মার্চ জুম ক্ষেত থেকে ফেরার পথে মিষ্টি কুমড়া চুরির অপবাদ দি‌য়ে এক নারীকে (৪৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। একই দিন নোয়াপতং ইউনিয়নের মহিলা কারবারি পাড়া এলাকার ঝিরি থেকে থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৫ মার্চ তারাছা ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় জেএসএস (সন্তু) সশস্ত্র গ্রুপের নেতা অনুমং মারমা‌কে (৫০) গুলি ক‌রে হত্যা করা হয়।

৫ই মার্চ রুমা উপজেলার পাইন্দু‌ সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের দুই পক্ষের গোলাগু‌লিতে চার জন নিহত হয়। পরদিন সকালে রোয়াংছ‌ড়ির মংবাতং এলাকার সাঙ্গু নদীর তীরে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) জেলা সেক্রেটারি উবামং মারমা বলেন, দিন দিন অশান্ত হ‌য়ে উঠছে পাহাড়। আমরা এমন পরিবেশ বান্দরবানে দেখ‌তে চাই না। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়া জরুরি।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার জে‌রিন আখতার জানান, বান্দরবা‌নের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়। সবাইকে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তার বিষয়‌টি চিন্তা ক‌রে চল‌তে হবে। বান্দরবানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন, সামাজিক কুসংস্কারসহ বিভিন্ন কারণে এসব অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।

[irp]

ট্যাগস :

অশান্ত বান্দরবা‌ন, দুই মাসে ১৮ খুন

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২

অশান্ত বান্দরবা‌ন, দুই মাসে ১৮ খুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

তিন পার্বত্য জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) মধ্যে সবচেয়ে ‘শান্ত’ বান্দরবান। কিন্তু এই শান্ত জেলাটি আর শান্ত থাকেনি।হঠাৎ করে অশান্ত হয়ে উঠেছে। দুই মাসে খুন হয়েছেন ১৮জন। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

সূত্র মতে জানা গেছে, গত ৩রা জানুয়ারি থেকে ৬ই মার্চ পর্যন্ত পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপের আঞ্চলিক সংগঠনের সদস্যসহ ১৮জন নিহত হয়েছে। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড গুলো পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

৩রা জানুয়ারি লামা উপজেলার রূপসীপাড়ার অংহ্লা পাড়ায় শ্বশুরবা‌ড়ি‌তে বেড়া‌তে এসে রাতে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয় রাঙ্গামাটির রাজস্থলীর বাঙ্গালহালীয়ার বাসিন্দা মংক্যচিং মার্মা (৩৫)। ৬ই জানুয়ারি সদর উপজেলার রাজ‌বিলায় রেথোয়াই মারমা‌র স্ত্রী সিংয়ানু মারমাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা ক‌রে দুর্বৃত্তরা। ২রা ফেব্রুয়ারি বান্দরবা‌নের রুমা জোনের (২৮ বীর) রাইক্ষিয়াং লেক সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের টহল দল‌কে লক্ষ্য ক‌রে জেএসএস (সন্তু) দ‌লের সদস্যরা গুলি চালায়। এতে সেনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নিহত হন। আত্মরক্ষার্থে সেনা সদস্যরা পাল্টা গুলি চালা‌য়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জেএসএস মূল দ‌লের তিন সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবুপাড়ায় বাবা ও চার ছেলেকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তির আরেক ছেলে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। নিহতরা হলেন, আবুপাড়ার পাড়াপ্রধান কারবারী ল্যাংরুই ম্রো (৬০) এবং তার চার ছেলে রুংথুই ম্রো (৪০), লেংরুং ম্রো (৩৭), মেনওয়াই ম্রো (৩৫) ও রিংরাও ম্রো (২৫)।

এ ঘটনায় আবুপাড়ার ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে পাড়াপ্রধান ও তার চার ছেলেকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় তারা। প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার ক‌রে‌ তারা জানায়, ‘স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ’ ও তন্ত্রমন্ত্রের গুজব ছড়িয়ে তাদেরকে হত্যা করে।

২৬শে ফেব্রুয়ারি রোয়াংছ‌ড়ি‌ উপজেলায় বাড়ির পাশে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন জেএসএসের সাবেক সদস্য ও নতুন পাড়ার নিসামং মারমার ছেলে মং‌চিং শৈ (৪০)। ৪ঠা মার্চ জুম ক্ষেত থেকে ফেরার পথে মিষ্টি কুমড়া চুরির অপবাদ দি‌য়ে এক নারীকে (৪৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। একই দিন নোয়াপতং ইউনিয়নের মহিলা কারবারি পাড়া এলাকার ঝিরি থেকে থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৫ মার্চ তারাছা ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় জেএসএস (সন্তু) সশস্ত্র গ্রুপের নেতা অনুমং মারমা‌কে (৫০) গুলি ক‌রে হত্যা করা হয়।

৫ই মার্চ রুমা উপজেলার পাইন্দু‌ সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের দুই পক্ষের গোলাগু‌লিতে চার জন নিহত হয়। পরদিন সকালে রোয়াংছ‌ড়ির মংবাতং এলাকার সাঙ্গু নদীর তীরে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) জেলা সেক্রেটারি উবামং মারমা বলেন, দিন দিন অশান্ত হ‌য়ে উঠছে পাহাড়। আমরা এমন পরিবেশ বান্দরবানে দেখ‌তে চাই না। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়া জরুরি।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার জে‌রিন আখতার জানান, বান্দরবা‌নের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়। সবাইকে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তার বিষয়‌টি চিন্তা ক‌রে চল‌তে হবে। বান্দরবানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন, সামাজিক কুসংস্কারসহ বিভিন্ন কারণে এসব অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।

[irp]