ভোটার, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হচ্ছে না-জাপা প্রার্থী, নৌকার প্রার্থীর কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাট
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩
- / ১০৮২ বার পড়া হয়েছে
ভোটার, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হচ্ছে না-জাপা প্রার্থী, নৌকার প্রার্থীর কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাট
স্টাফ রিপোর্টারঃ

সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। তবে ভোট শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। আজ সোমবার সকাল ৮টা ২০ এ গোরস্থান রোড মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, সকাল থেকে আমি ফোন পাচ্ছি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ছেলেরা রাস্তায় ভোটারদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ২২ নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়াতে এই ঘটনা ঘটেছে। আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছি।
ইকবাল অভিযোগ করে আরও বলেন, কিছু কিছু কেন্দ্রে লাঙল মার্কার পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না। পাসপোর্ট সাইজের ছবি হবে না স্ট্যাম্প সাইজের ছবি লাগবে বলে অনেক পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
ভোট প্রদান পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ইকবাল বলেন, ভোট দিয়েছি, ইভিএমে ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলছিলো না। পরে প্রিসাইডিং অফিসার ফিঙ্গার দিয়ে ১ শতাংশের মধ্যে এনে আমাকে ভোট দিতে সহায়তা করেছেন। তাই একটু সময় লেগেছে।
ইভিএমের সমালোচনা করে ইকবাল বলেন, ইভিএমে এমনিতে ভোট দেওয়াটা সহজ। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য অ্যারেনজমেন্টে একটু সময় লাগে। নারী ও বৃদ্ধ ভোটারদের সমস্যা হতে পারে। ভোট বিলম্বও হতে পারে৷
সুষ্ঠু ভোটের শঙ্কা জানিয়েছেন লাঙল প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা আছে। উনারা চাচ্ছে যেন ভোটটা স্লো হয়। তাহলে উনাদের জন্য সুবিধা। তারা চাচ্ছে, শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরা এসে ভোট দেবে, অন্য কেউ যেন না দিতে পারে।
তবে ভোট সুষ্ঠু হলে তিনি ফলাফল মেনে নেবেন বলে জানিয়ে বলেন, ‘যদি দেখি কোথাও কোন অন্যায় হচ্ছে না তাহলে ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা মেনে নিবো।

বরিশাল নৌকার প্রার্থীর কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাট
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বরিশাল সরকারি কলেজ ভোট কেন্দ্রের ৫ নাম্বার বুথের একটি ইভিএম মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সেই মেশিনে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। বুথের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে ভোটারদের।
এই বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জিবা বিশ্বাস বলেন, ২৭টি ভোট নেওয়ার পর থেকে কাজ করছে না এই মেশিন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
ইভিএম ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, ৫ নাম্বার বুথের একটি ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গেছে। আমরা টেকনিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। চার্জার লাগানোর সময় এক ধরনের ত্রুটি থেকে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখন সেটা রিপ্লেস করা হচ্ছে। দ্রুতই সব ঠিক হয়ে যাবে আশা করি।
মেশিন নষ্ট থাকায় ভোটারদের অপেক্ষা বাড়ছে। এই নিয়ে বিরক্ত অনেকেই। এমন একজন মোঃ দুলাল হাওলাদার। ১৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকার এই বাসিন্দা বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেল লাইনে৷
একই ওয়ার্ডের মোঃ বাবুল হোসেন কাদির বলেন, ‘যারা ভোট দিয়ে আসছে তারা বলছে ইভিএম মেশিন নষ্ট। তাই দেরি হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন। সোমবার (১২ জুন) সকালে আলেকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী।
তিনি বলেন, আমার দুটি কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেখানে বলা হচ্ছে, এজেন্ট কার্ডে প্রার্থীর স্বাক্ষর না হলে হবে না, কিন্তু আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের স্বাক্ষর রয়েছে সেখানে। আবার বলা হচ্ছে, রাতে এজেন্টদের ফরম কেন দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমি জানি ভোটগ্রহণের আগে এজেন্ট ফরম দিলেই হয়। খবর পেয়ে আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকে পাঠানো হয়েছে।
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এ স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি রয়েছে। তবে ১২টার দিকে বলতে পারব অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে।
জয়ের ব্যাপারে বলেন, আমি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে, আর এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকতে পারে তাহলে ভোট সুষ্ঠু হবে। চাপিয়ে দেওয়া না হলে যেকোনো ফলাফল আমি মেনে নেব।






















