ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ৩ দিনে আদায় ১৩ কোটি সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১০০৯ বার পড়া হয়েছে

পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ৩ দিনে আদায় ১৩ কোটি সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে। যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায়ের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বেশি হয়েছে।

গত শুক্রবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে প্রেরণকৃত এক প্রতিবেদন এতথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুতে গত ১৭ই মার্চ থেকে ১৯শে মার্চ পর্যন্ত ৩দিনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬শ ৮২টি যানবাহন পার হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিলো ১ লক্ষ ৮শ ২টি। এই ৩ দিনে মোট টোল আদায় হয় ১৩ কোটি ২১ লক্ষ ৫১ হাজার ৮শ টাকা। গত বছর টোল আদায় হয় ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪শ টাকা।

যমুনা সেতুতে এ বছর ১৮ই মার্চ ১দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩শ ৮৪টি যানবাহন পার হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩শ ৬৮টি। এ বছর ১দিনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫১ লক্ষ ৮২ হাজার ৬শ টাকা টোল আদায় হয়। গত বছর ছিল ৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৮শ ৫০টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এই বছর বড় কোন দুর্ঘটনা বা বড় ধরণের যানজট দেখা যায়নি।

ঈদুল ফিতরে পদ্মা সেতু এবং যমুনা সেতু এলাকায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, অত্যন্ত দক্ষ টোল কালেক্টরদের নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালুর ব্যবস্থা, মোটর সাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ETC চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫শ মিটার পর পর সার্বক্ষনিক সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ১টি ভারী রেকারসহ মোট ৩টি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত রেসকিউ কার্যক্রম সম্পন্নকরণ, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ৩২ হাজার
৬শ ৫ কোটি ৫ হাজার ১শ ৭৬ (বত্রিশ হাজার ছয়শত কোটি পাঁচ হাজার একশত ছিয়াত্তর) টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হয়। সেতুটির মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। এটি একটি দ্বিতল সেতু, যার ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক এবং নিচের স্তরে রেললাইন রয়েছে। সংযোগ সড়কসহ (ভায়াডাক্ট) সেতুর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.৩০ কিলোমিটার।

মূল সেতুর দৈর্ঘ্য: ৬.১৫ কিমি, প্রস্থ: ১৮.১০ মিটার (প্রতি লেনে ২.৫ মিটার করে মোট ৪ লেন)। পিলার সংখ্যা: ৪২টি। স্প্যান সংখ্যা ৪১টি। সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ৩ দিনে আদায় ১৩ কোটি সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ৩ দিনে আদায় ১৩ কোটি সাড়ে ২১ লক্ষ টাকা

মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ

পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে। যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায়ের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বেশি হয়েছে।

গত শুক্রবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে প্রেরণকৃত এক প্রতিবেদন এতথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদনে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুতে গত ১৭ই মার্চ থেকে ১৯শে মার্চ পর্যন্ত ৩দিনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬শ ৮২টি যানবাহন পার হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিলো ১ লক্ষ ৮শ ২টি। এই ৩ দিনে মোট টোল আদায় হয় ১৩ কোটি ২১ লক্ষ ৫১ হাজার ৮শ টাকা। গত বছর টোল আদায় হয় ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪শ টাকা।

যমুনা সেতুতে এ বছর ১৮ই মার্চ ১দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩শ ৮৪টি যানবাহন পার হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩শ ৬৮টি। এ বছর ১দিনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫১ লক্ষ ৮২ হাজার ৬শ টাকা টোল আদায় হয়। গত বছর ছিল ৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৮শ ৫০টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এই বছর বড় কোন দুর্ঘটনা বা বড় ধরণের যানজট দেখা যায়নি।

ঈদুল ফিতরে পদ্মা সেতু এবং যমুনা সেতু এলাকায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ প্রদান, অত্যন্ত দক্ষ টোল কালেক্টরদের নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালুর ব্যবস্থা, মোটর সাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ETC চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫শ মিটার পর পর সার্বক্ষনিক সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ১টি ভারী রেকারসহ মোট ৩টি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত রেসকিউ কার্যক্রম সম্পন্নকরণ, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ৩২ হাজার
৬শ ৫ কোটি ৫ হাজার ১শ ৭৬ (বত্রিশ হাজার ছয়শত কোটি পাঁচ হাজার একশত ছিয়াত্তর) টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হয়। সেতুটির মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার। এটি একটি দ্বিতল সেতু, যার ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক এবং নিচের স্তরে রেললাইন রয়েছে। সংযোগ সড়কসহ (ভায়াডাক্ট) সেতুর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.৩০ কিলোমিটার।

মূল সেতুর দৈর্ঘ্য: ৬.১৫ কিমি, প্রস্থ: ১৮.১০ মিটার (প্রতি লেনে ২.৫ মিটার করে মোট ৪ লেন)। পিলার সংখ্যা: ৪২টি। স্প্যান সংখ্যা ৪১টি। সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ