মদনে শিক্ষক ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / ১০১৪ বার পড়া হয়েছে
মদনে শিক্ষক ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন
মোফাজ্জল হোসেন ইলিয়াছঃ
নেত্রকোণার মদনে মাদরাসাছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান গত ১৬ মে ঢাকার সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অফিসে গিয়ে ১৭ মে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা প্রদান করেন।
নেত্রকোণা সদরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে নেত্রকোণা থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে ১৭ মে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দিয়েছেন। বর্তমানে আসামি জেল হাজতে রয়েছেন। আগামী ২৮ জুন এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার আসামিকে ঢাকার সিআইডি অফিসে নিয়ে গিয়ে, তার ডিএনএর নমুনা দিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসলে আমরা আমাদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাকে মদন উপজেলা হাসপাতাল রোডের স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে নিয়ে গেলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল মেয়েটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে সাগরের ভাই আদালত থেকে জামিন নেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার মা আদালতের কাছে সুরক্ষার আবেদন জানান। মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে বিকেলে বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হোম) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন ও নিরাপদ হেফাজতে রয়েছে।
দৈনিক আস্থা/এমএইচ


















