ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চলে ধোঁয়া, পশ্চিমে দাবানল, দক্ষিণে বন্যা

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১০৩৮ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চলে ধোঁয়া, পশ্চিমে দাবানল, দক্ষিণে বন্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে তিন ধরনের আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। দেশের পূর্বাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের টেক্সাসে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাত কোটির বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সূত্র: রয়টার্স।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পূর্বাঞ্চলের গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে রাজধানী ওয়াশিংটন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আকস্মিক বন্যা অব্যাহত থাকে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রপাতের পর নতুন করে একাধিক দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। এক দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই ডজন দাবানল বেড়েছে। শুধু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই বজ্রপাতের পর নতুন করে ১৭টি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি কর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ এয়ার ট্যাংকার মোতায়েন করা হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর ভূমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস ১০ কোটির বেশি মানুষের জন্য বায়ুমান-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বায়ুদূষণের কারণে শিকাগো শহরের লেক মিশিগান-সংলগ্ন পার্ক ও সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল বা ঘরের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তাপমাত্রাও ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে টেক্সাসে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে কিছু এলাকায় ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক মানুষকে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বৃষ্টি কমলেও নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং সপ্তাহান্তজুড়ে বড় নদীগুলো বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে একই সময়ে এমন একাধিক চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল একদিকে মাটি ও উদ্ভিদের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নিয়ে দাবানলের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, অন্যদিকে একই বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করে অল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হচ্ছে। ফলে দাবানল ও আকস্মিক বন্যার মতো বিপরীতধর্মী দুর্যোগও একই সময়ে ঘটছে।(সূত্র:রয়টার্স)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চলে ধোঁয়া, পশ্চিমে দাবানল, দক্ষিণে বন্যা

আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চলে ধোঁয়া, পশ্চিমে দাবানল, দক্ষিণে বন্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে তিন ধরনের আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। দেশের পূর্বাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের টেক্সাসে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাত কোটির বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সূত্র: রয়টার্স।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পূর্বাঞ্চলের গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে রাজধানী ওয়াশিংটন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে টেক্সাসের হিল কান্ট্রি এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আকস্মিক বন্যা অব্যাহত থাকে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রপাতের পর নতুন করে একাধিক দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। এক দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই ডজন দাবানল বেড়েছে। শুধু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই বজ্রপাতের পর নতুন করে ১৭টি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি কর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ এয়ার ট্যাংকার মোতায়েন করা হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর ভূমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস ১০ কোটির বেশি মানুষের জন্য বায়ুমান-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার এবং ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বায়ুদূষণের কারণে শিকাগো শহরের লেক মিশিগান-সংলগ্ন পার্ক ও সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল বা ঘরের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তাপমাত্রাও ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে টেক্সাসে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে কিছু এলাকায় ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক মানুষকে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বৃষ্টি কমলেও নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং সপ্তাহান্তজুড়ে বড় নদীগুলো বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে একই সময়ে এমন একাধিক চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল একদিকে মাটি ও উদ্ভিদের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নিয়ে দাবানলের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, অন্যদিকে একই বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করে অল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হচ্ছে। ফলে দাবানল ও আকস্মিক বন্যার মতো বিপরীতধর্মী দুর্যোগও একই সময়ে ঘটছে।(সূত্র:রয়টার্স)।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ