ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo আবার মাইনাস তৎপরতায় ডিপ স্টেট: মাসুদ কামাল Logo বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র Logo পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন Logo পানছড়িতে অবৈধ কাঠ আটক করেছে বিজিবি Logo পানছড়িতে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়, উপহার ও চিকিৎসা সেবা প্রদান Logo কিশোরগঞ্জে রওজা মনি হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন Logo ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রেজাউল করিম খান চুন্নুর সমর্থকদের গণমিছিল Logo পানছড়িতে শিক্ষার্থীর হাতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের অনুদান তুলে দিলো স্বেচ্ছা সেবক দল Logo পানছড়িতে অসহায়, গরীব ও দুস্থের মাঝে ৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ Logo সীমান্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রেস বিফ্রিং করেছে পানছড়ি বিজিবি

নেত্রকোনার মাঠজুড়ে এখন সরিষার সোনালি আভা

Doinik Astha
Doinik Astha
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ১১০৬ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার মাঠজুড়ে এখন সরিষার সোনালি আভা। গত তিন বছরে জেলার ১০টি উপজেলায় সরিষা চাষ প্রায় ২.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো ফলনের অনুপ্রেরণায় কৃষকরা আমন ও বোরো ধানের মাঝের সময়টিতে সরিষা চাষকে কাজে লাগাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নেত্রকোনার ১৩,০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা সদরে ২,০০০ হেক্টর, পূর্বধলায় ২,৬৮৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৬০০ হেক্টর, কলমাকান্দায় ১,০৫০ হেক্টর, মোহনগঞ্জে ৫৩২ হেক্টর, বারহাট্টায় ৬৭৫ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ১,৪৭৮ হেক্টর, আটপাড়ায় ৮৫০ হেক্টর, মদনে ২,০১০ হেক্টর এবং খালিয়াজুরিতে ৩৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, ১৩,০৫১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্য থাকলেও, তিন দফা বন্যার কারণে জমি অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তা সামান্য কমে ১৩,০৫০ হেক্টরে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে সরিষা চাষ হয়েছিল ১০,৮৮০ হেক্টর জমিতে, যা থেকে ১৭,৭৭২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭,৪৫০ হেক্টর এবং ৯,৬৭৬ মেট্রিক টন। ২০২১ সালে ৫,২৫০ হেক্টর জমিতে ৬,৮২৬ মেট্রিক টন এবং ২০২০ সালে ৫,১৯২ হেক্টরে ৬,৬১৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়। উৎপাদন ও চাষাবাদের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে সরিষা এখন অনেক কৃষকের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং পতিত জমির ব্যবহার কমিয়ে এনেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, বর্তমানে প্রায় ১,০০,০০০ কৃষক সরিষা চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমন ধান কাটার পর কিছুদিন জমি পড়ে থাকত। এখন সরিষা চাষ করে জমি কাজে লাগানো যায় এবং আমরা বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেলের চাহিদাও পূরণ করতে পারি।”

একই এলাকার উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষক নাজমুল কবির সরকার বলেন, “চাকরি করার পাশাপাশি আমাদের পরিবারে চাষাবাদ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সরিষা এমন একটি ফসল, যার পরিচর্যা ও খরচ খুব কম। এটি চাষ করা সহজ, এবং আমি এ বিষয়টি বিভিন্ন সভা ও কর্মশালায় তুলে ধরি।” উপপরিচালক নুরুজ্জামান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিন বছর মেয়াদি এক পরিকল্পনার আওতায় সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, “এ পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরশীলতা ৪০% কমানো। কৃষকদের প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরিষা চাষকে উৎসাহিত করা হয়, যার ফলে উৎপাদন লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।”

নেত্রকোনার মাঠজুড়ে এখন সরিষার সোনালি আভা

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৫

নেত্রকোনার মাঠজুড়ে এখন সরিষার সোনালি আভা। গত তিন বছরে জেলার ১০টি উপজেলায় সরিষা চাষ প্রায় ২.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো ফলনের অনুপ্রেরণায় কৃষকরা আমন ও বোরো ধানের মাঝের সময়টিতে সরিষা চাষকে কাজে লাগাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নেত্রকোনার ১৩,০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা সদরে ২,০০০ হেক্টর, পূর্বধলায় ২,৬৮৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৬০০ হেক্টর, কলমাকান্দায় ১,০৫০ হেক্টর, মোহনগঞ্জে ৫৩২ হেক্টর, বারহাট্টায় ৬৭৫ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ১,৪৭৮ হেক্টর, আটপাড়ায় ৮৫০ হেক্টর, মদনে ২,০১০ হেক্টর এবং খালিয়াজুরিতে ৩৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, ১৩,০৫১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্য থাকলেও, তিন দফা বন্যার কারণে জমি অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তা সামান্য কমে ১৩,০৫০ হেক্টরে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে সরিষা চাষ হয়েছিল ১০,৮৮০ হেক্টর জমিতে, যা থেকে ১৭,৭৭২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭,৪৫০ হেক্টর এবং ৯,৬৭৬ মেট্রিক টন। ২০২১ সালে ৫,২৫০ হেক্টর জমিতে ৬,৮২৬ মেট্রিক টন এবং ২০২০ সালে ৫,১৯২ হেক্টরে ৬,৬১৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হয়। উৎপাদন ও চাষাবাদের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে সরিষা এখন অনেক কৃষকের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং পতিত জমির ব্যবহার কমিয়ে এনেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, বর্তমানে প্রায় ১,০০,০০০ কৃষক সরিষা চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমন ধান কাটার পর কিছুদিন জমি পড়ে থাকত। এখন সরিষা চাষ করে জমি কাজে লাগানো যায় এবং আমরা বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেলের চাহিদাও পূরণ করতে পারি।”

একই এলাকার উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষক নাজমুল কবির সরকার বলেন, “চাকরি করার পাশাপাশি আমাদের পরিবারে চাষাবাদ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সরিষা এমন একটি ফসল, যার পরিচর্যা ও খরচ খুব কম। এটি চাষ করা সহজ, এবং আমি এ বিষয়টি বিভিন্ন সভা ও কর্মশালায় তুলে ধরি।” উপপরিচালক নুরুজ্জামান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের তিন বছর মেয়াদি এক পরিকল্পনার আওতায় সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, “এ পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরশীলতা ৪০% কমানো। কৃষকদের প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরিষা চাষকে উৎসাহিত করা হয়, যার ফলে উৎপাদন লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।”