ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহলে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন-প্রশ্ন মাসুদ কামালের

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / ১০১৮ বার পড়া হয়েছে

তাহলে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন-প্রশ্ন মাসুদ কামালের

আস্থা ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও তার আশপাশের এলাকাগুলো চেয়েছিল-শেখ হাসিনা বলেছিল, এগুলো যদি ব্যবহার করতে না দেই, তাহলে আমাকে হয়তো সরে যেতে হতে পারে। এখন আমরা দেখছি, শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন? এমন প্রশ্নই তুলেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যখন সকল মহলে কথা হচ্ছে- বিশেষজ্ঞ মহল, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছেন, সমালোচনা করছেন- তখন আমরা দেখছি এটা নিয়ে সরকার কোনো উচ্চবাচ্য করছে না, বিরোধী দল কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। সবাই একদম চুপ হয়ে আছে, তারা যেন কেমন একটা ভয় পাচ্ছে অথবা তারা যান ব্যাপারটাকে মেনে নিয়েছে।

মানুষ যেটা বলছে, আমরা যেটা সমালোচনা করছি, এটাকে তারা কোনো প্রতিবাদ না করায় মনে হচ্ছে যেন, তারা মনে করছে এটা নিয়ে প্রতিবাদ করার কিছু নেই।

মাসুদ কামাল বলেন, ‘যখন বাণিজ্যযুক্তি নিয়ে এত আলোচনা, তখন একই সঙ্গে আরো দুটি চুক্তির কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। বলা বাহুল্য, দুটোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি। একটা সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি (GSOMIA), আরেকটি অধিগ্রহণ ও পারস্পারিক সেবা চুক্তি (ACSA)। এই দুই চুক্তি সইয়ের একদম শেষ পর্যায়ে আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছে। আমিও তেমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাচ্ছিলাম না বলে কিছু বলতে পারছিলাম না।

কিন্তু আজ আমি দেখলাম যে, মেরিটাইম ইনসাইট নামক একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়াও এই চুক্তির কথা বলেছে। তাদের নিউজের শিরোনাম ছিল- ‘U.S Plans To Deploy Warships In Bangladesh, Closer To India & China’। এই চুক্তিটা হলে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, কি ঝামেলায় আমরা পড়তে পারি, সে সম্পর্কে একটা ইঙ্গিত এই নিউজে দেওয়া আছে যে, চীন এবং ভারত এটাকে সহজভাবে নাও নিতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো চুক্তিতে কি আছে? অনেক কথার মাঝে এখানে আছে, মার্কিন সামরিক জাহাজ বা যুদ্ধবিমান- এগুলো বাংলাদেশের বন্দর ও বিমান ঘাঁটিগুলো জ্বালানি সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করতে পারবে।

মানে, আমাদের নৌ-বন্দর, আমাদের বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে। তারা এগুলো ব্যবহার করে কি করবে? এগুলো কিন্তু একটা ব্যাসিক পয়েন্ট। এই বিষয়টাকে ভারত এবং চীন কিভাবে নেবে? তারা কি খুশি হবে?’

মাসুদ কামাল আরো বলেন, কথার কথা ধরা যাক, এই বন্দরগুলো আমরা যদি ভারতকে ব্যবহার করতে দিতাম-এখনকার কথা বাদ দেন, ধরা যাক শেখ হাসিনার আমলে। তখন যদি এই ঘাঁটিগুলো বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে ব্যবহার করতে দিত, সারা দেশে কি হত বলুনতো। একটা তুলকালাম কাণ্ড হয়ে যেত।

তারা বলতো, দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে, আমরা গোলামি চুক্তির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি, আমরা অন্য দেশের করদরাজ্যে পরিণত হচ্ছি। বলত কিন্তু। কারা বলত- সেই চেহারাগুলোও কিন্তু আপনারা জানেন। সেই লোকগুলো এখন কি করছে? সেই লোকগুলো কেউ কি প্রতিবাদ করেছে? কেউ কি একটা শব্দ উচ্চারণ করেছে?

যে গোলামি হয়নি, সেটা নিয়ে তাদের চিৎকার-চেচামেচি আমরা দেখেছি। কিন্তু যে গোলামি হয়ে যাচ্ছে, চুক্তির নাম সবই ঠিক হয়ে গেছে, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াগুলোতে লেখালেখি চলছে- সেগুলো নিয়ে আমাদের মিডিয়াও চুপ এবং আমাদের ওই দেশপ্রেমিক লোক, গোলামির কথা শুনলে যাদের গায়ের রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে, সেই লোকগুলো এখন হিমশীতল রক্ত নিয়ে চুপচাপ বিচরণ করছেন, হাসি মুখে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘কেবল এটাই না, এরপরও অন্যান্য সামরিক স্থাপনাও কিন্তু ব্যবহার করার জন্য দিতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

আপনাদের মনে আছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কক্সবাজারের ওখানে মার্কিন সেনারা মহড়া করার জন্য এসেছিল। তখন আমরা অনেকেই প্রতিবাদ করেছিলাম, এটা কেন করতে হচ্ছে। তখন ওই সরকার নানাভাবে ব্যখ্যা করেছিল যে, এটা রুটিন ওয়ার্ক।

আপনাদের এটাও মনে থাকার কথা, বিগত স্বৈরাচারী শাসক যাকে আমরা বলি শেখ হাসিনা, তার আমলে তিনি কিন্তু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-বাহিনীর ব্যবহারের জন্য, সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য আমাদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও তার আশপাশের এলাকাগুলো ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

বলেছিল, এগুলো ব্যবহার করতে দিলে শেখ হাসিনার কোনো সমস্যা হবে না, শেখ হাসিনাকে তারা ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে। এ সমস্ত কথা শেখ হাসিনা বলেছিল, আমরা বিশ্বাস করিনি। আমরা বলেছি, শেখ হাসিনা আমাদের একটা জুজুর ভয় দেখাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেছিল, এগুলো যদি আমি ব্যবহার করতে না দেই, তাহলে আমাকে হয়তো সরে যেতে হতে পারে। এখন আমরা কি দেখছি, শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলেও গেছেন। এটার পেছনে অন্য কারণও আছে।

আমি অবশ্যই বলব, শেখ হাসিনার অপশাসন, গণতন্ত্র হরণ, মানুষের ভোটাধিকার হরণ, অবাধ লুটপাটে সায় দেওয়া- এরকম অনেক কিছুই আছে, অপরাধের কোনো শেষ নেই। কিন্তু তারপরও যখন এই কথাট মিলে যায়, তখন কিন্তু অনেকে বলবেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের একটা ভূমিকা আছে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, কয়েকদিন আগে-জুলাই আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তি যিনি ছিলেন, তাদের যিনি গুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন মি. ফরহাদ মজহার, উনিও বলেছেন, এখন বুঝতে পেরেছেন যে, এই আন্দোলন অথবা শেখ হাসিনার পতন অথবা ক্ষমতার পরিবর্তন-যাই বলি না কেন, এর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় ভূমিকা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারেস্টটা কোথায়, সেগুলো আমরা ধীরে ধীরে টের পাচ্ছি। প্রথমে হলো বাণিজ্যচুক্তি এবং এখন হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তি। তাহলেতো সেই একই কথা হল, শেখ হাসিনাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলাম, আমরা বললাম শেখ হাসিনা জুজুর ভয় দেখাচ্ছে, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেগুলোই বাস্তবায়িত হচ্ছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

ট্যাগস :

তাহলে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন-প্রশ্ন মাসুদ কামালের

আপডেট সময় : ১২:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

তাহলে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন-প্রশ্ন মাসুদ কামালের

আস্থা ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও তার আশপাশের এলাকাগুলো চেয়েছিল-শেখ হাসিনা বলেছিল, এগুলো যদি ব্যবহার করতে না দেই, তাহলে আমাকে হয়তো সরে যেতে হতে পারে। এখন আমরা দেখছি, শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনাই কি সত্যি হলেন? এমন প্রশ্নই তুলেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যখন সকল মহলে কথা হচ্ছে- বিশেষজ্ঞ মহল, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছেন, সমালোচনা করছেন- তখন আমরা দেখছি এটা নিয়ে সরকার কোনো উচ্চবাচ্য করছে না, বিরোধী দল কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। সবাই একদম চুপ হয়ে আছে, তারা যেন কেমন একটা ভয় পাচ্ছে অথবা তারা যান ব্যাপারটাকে মেনে নিয়েছে।

মানুষ যেটা বলছে, আমরা যেটা সমালোচনা করছি, এটাকে তারা কোনো প্রতিবাদ না করায় মনে হচ্ছে যেন, তারা মনে করছে এটা নিয়ে প্রতিবাদ করার কিছু নেই।

মাসুদ কামাল বলেন, ‘যখন বাণিজ্যযুক্তি নিয়ে এত আলোচনা, তখন একই সঙ্গে আরো দুটি চুক্তির কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। বলা বাহুল্য, দুটোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি। একটা সামরিক তথ্যের সাধারণ নিরাপত্তা চুক্তি (GSOMIA), আরেকটি অধিগ্রহণ ও পারস্পারিক সেবা চুক্তি (ACSA)। এই দুই চুক্তি সইয়ের একদম শেষ পর্যায়ে আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছে। আমিও তেমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাচ্ছিলাম না বলে কিছু বলতে পারছিলাম না।

কিন্তু আজ আমি দেখলাম যে, মেরিটাইম ইনসাইট নামক একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়াও এই চুক্তির কথা বলেছে। তাদের নিউজের শিরোনাম ছিল- ‘U.S Plans To Deploy Warships In Bangladesh, Closer To India & China’। এই চুক্তিটা হলে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে, কি ঝামেলায় আমরা পড়তে পারি, সে সম্পর্কে একটা ইঙ্গিত এই নিউজে দেওয়া আছে যে, চীন এবং ভারত এটাকে সহজভাবে নাও নিতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো চুক্তিতে কি আছে? অনেক কথার মাঝে এখানে আছে, মার্কিন সামরিক জাহাজ বা যুদ্ধবিমান- এগুলো বাংলাদেশের বন্দর ও বিমান ঘাঁটিগুলো জ্বালানি সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করতে পারবে।

মানে, আমাদের নৌ-বন্দর, আমাদের বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে। তারা এগুলো ব্যবহার করে কি করবে? এগুলো কিন্তু একটা ব্যাসিক পয়েন্ট। এই বিষয়টাকে ভারত এবং চীন কিভাবে নেবে? তারা কি খুশি হবে?’

মাসুদ কামাল আরো বলেন, কথার কথা ধরা যাক, এই বন্দরগুলো আমরা যদি ভারতকে ব্যবহার করতে দিতাম-এখনকার কথা বাদ দেন, ধরা যাক শেখ হাসিনার আমলে। তখন যদি এই ঘাঁটিগুলো বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে ব্যবহার করতে দিত, সারা দেশে কি হত বলুনতো। একটা তুলকালাম কাণ্ড হয়ে যেত।

তারা বলতো, দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে, আমরা গোলামি চুক্তির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি, আমরা অন্য দেশের করদরাজ্যে পরিণত হচ্ছি। বলত কিন্তু। কারা বলত- সেই চেহারাগুলোও কিন্তু আপনারা জানেন। সেই লোকগুলো এখন কি করছে? সেই লোকগুলো কেউ কি প্রতিবাদ করেছে? কেউ কি একটা শব্দ উচ্চারণ করেছে?

যে গোলামি হয়নি, সেটা নিয়ে তাদের চিৎকার-চেচামেচি আমরা দেখেছি। কিন্তু যে গোলামি হয়ে যাচ্ছে, চুক্তির নাম সবই ঠিক হয়ে গেছে, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াগুলোতে লেখালেখি চলছে- সেগুলো নিয়ে আমাদের মিডিয়াও চুপ এবং আমাদের ওই দেশপ্রেমিক লোক, গোলামির কথা শুনলে যাদের গায়ের রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে, সেই লোকগুলো এখন হিমশীতল রক্ত নিয়ে চুপচাপ বিচরণ করছেন, হাসি মুখে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘কেবল এটাই না, এরপরও অন্যান্য সামরিক স্থাপনাও কিন্তু ব্যবহার করার জন্য দিতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

আপনাদের মনে আছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কক্সবাজারের ওখানে মার্কিন সেনারা মহড়া করার জন্য এসেছিল। তখন আমরা অনেকেই প্রতিবাদ করেছিলাম, এটা কেন করতে হচ্ছে। তখন ওই সরকার নানাভাবে ব্যখ্যা করেছিল যে, এটা রুটিন ওয়ার্ক।

আপনাদের এটাও মনে থাকার কথা, বিগত স্বৈরাচারী শাসক যাকে আমরা বলি শেখ হাসিনা, তার আমলে তিনি কিন্তু বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-বাহিনীর ব্যবহারের জন্য, সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য আমাদের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও তার আশপাশের এলাকাগুলো ব্যবহার করতে চেয়েছিল।

বলেছিল, এগুলো ব্যবহার করতে দিলে শেখ হাসিনার কোনো সমস্যা হবে না, শেখ হাসিনাকে তারা ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে। এ সমস্ত কথা শেখ হাসিনা বলেছিল, আমরা বিশ্বাস করিনি। আমরা বলেছি, শেখ হাসিনা আমাদের একটা জুজুর ভয় দেখাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেছিল, এগুলো যদি আমি ব্যবহার করতে না দেই, তাহলে আমাকে হয়তো সরে যেতে হতে পারে। এখন আমরা কি দেখছি, শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলেও গেছেন। এটার পেছনে অন্য কারণও আছে।

আমি অবশ্যই বলব, শেখ হাসিনার অপশাসন, গণতন্ত্র হরণ, মানুষের ভোটাধিকার হরণ, অবাধ লুটপাটে সায় দেওয়া- এরকম অনেক কিছুই আছে, অপরাধের কোনো শেষ নেই। কিন্তু তারপরও যখন এই কথাট মিলে যায়, তখন কিন্তু অনেকে বলবেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের একটা ভূমিকা আছে শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, কয়েকদিন আগে-জুলাই আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তি যিনি ছিলেন, তাদের যিনি গুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন মি. ফরহাদ মজহার, উনিও বলেছেন, এখন বুঝতে পেরেছেন যে, এই আন্দোলন অথবা শেখ হাসিনার পতন অথবা ক্ষমতার পরিবর্তন-যাই বলি না কেন, এর পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় ভূমিকা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারেস্টটা কোথায়, সেগুলো আমরা ধীরে ধীরে টের পাচ্ছি। প্রথমে হলো বাণিজ্যচুক্তি এবং এখন হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তি। তাহলেতো সেই একই কথা হল, শেখ হাসিনাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিলাম, আমরা বললাম শেখ হাসিনা জুজুর ভয় দেখাচ্ছে, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেগুলোই বাস্তবায়িত হচ্ছে।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ