ফুলবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে
ফুলবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ
ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
সার সংকট সামাল দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে ১জন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তারই অংশ হিসাবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইজবুকে টাকা লেনদেনে চার জনের নামে পোষ্ট করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখতারুল আলম ফারুক ও পৌর বিএনপির আহবায়ক একেএম শমশের আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক কামরুজ্জামান মীর আজাদ, ইমরুল কায়েস এলিছ এর নামও রয়েছে।
পোষ্টে উল্লেখ্য করা হয়, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখতারুল আলম ফারুক সব ইউনিয়ন হতেই বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ করে নিয়েছেন। এখন যিনি ২০ লাখ দিবেন তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। বাকি টাকা ভাগ হবে উপজেলা প্রশাসনে। অভিযোগগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত বুধবার ‘ভয়েস অব ফুলবাড়িয়া’, কনটেমপোরারি পলিটিক্স ফুলবাড়িয়াসহ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলা হয়।
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগের অপসারণ দাবিতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহা. কামরুল হাসান মিলনের ছোট ভাই কিরণকে মারধর ও চত্বরে থাকা সংসদ সদস্যের বিলবোর্ড ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়নে নতুন কাঠামোর আওতায় সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি নীতিমালার আওতায় আবেদন যাচাই-বাছাই, স্থানীয় পর্যায়ে সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, ২০২৫ সালে ১শ ১৪, ২০২৬ নীতিমালা অনুযায়ী ১শ ২৭ মিলিয়ে মোট ২শ ৪১ জন আবেদন করেছেন। যাচাই বাছাই করে পৌরসভা ও প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন করে প্রার্থীর তালিকা তৈরি করে ৪২ জনের নাম জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে আবারো যাচাই বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকার আবেদনকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে জানা গেছে, তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কথাও বলা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, কোথায় কত টাকা লেনদেন হয়েছে কিংবা অভিযোগের সত্যতা কতটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আবেদনকারী বলেন, যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বদলে অর্থ ও রাজনৈতিক পরিচয়ে অনভিজ্ঞদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে সার ব্যবস্থাপনায় চরম নৈরাজ্য তৈরি হবে এবং কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
তারা আরও বলেন, শুনেছি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হচ্ছে। এভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হলে সার নিয়ে কৃষকদের যে দুর্গতি তা কোনোভাবেই কমবে না। এই নিয়োগ ঘিরে চলছে ঘুষ ও তদবির বাণিজ্য।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আখতারুল আলম ফারুক এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। ওয়্যাটসাপে ম্যাসেস দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ ফেইবুকে পোষ্টে লেখেন, সম্প্রতি ফেসবুকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উল্লেখিত কিছু ফেইজবুক আইডি সহ আরো কয়েকটি আইডি থেকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অসৌজন্যমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত অপেশাদার এবং ব্যাক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল।এ ধরনের কোনো ব্যাক্তি বা সংগঠনের সাথে ইউএনও র কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সকলকে দ্বায়িত্বশীল আচরণের জন্য বিনীত অনুরোধ করেন তিনি।
আস্থা/এমএইচ



















