পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত আইন ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত।

23
  • পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত আইন ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত।

দেলোয়ার হোসাইন নয়ন, নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত আইন ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা সম্পর্কে গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দের সাথে দিনব্যাপী অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পঞ্চগড়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ডঃ সাবিনা ইয়াসমিন।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করন (২য় পর্যায়) প্রকল্প এ অবহিতকরন সভার আয়োজন করে।

অবহিতকরন সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান, এডিএম সরকার মোঃ রায়হান, গ্রাম আদালত সক্রিয় করন প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর আমির হোসেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওরঙ্গজেব, এবং গ্রাম আদালতে উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় গ্রাম আদালত আইন ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম, সাফল্য, স্থানীয় গণমাধ্যমের ভুমিকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। গ্রাম আদালত আরও কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ের উপরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

পঞ্চগড় জেলার ৫ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাস হতে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ২শ ৪০ টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে ৫শ ১৩টি মামলা গ্রাম আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। এ মামলাগুলোও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে ৬৯ টি মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলা গুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ৩হাজার ৭শ ৫০ শতক জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২কোটি ৮১ লক্ষ ৫১হাজার ৫৪ টাকা।

এসব মামলায় ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬শ ৮৯ টাকা ক্ষতি পূরন আদায় করা হয়েছে। গ্রাম আদালতে মামলা গুলোতে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

 

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ডঃ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছোট বড় অপরাধ নিরশনের জন্য গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ সালে গঠিত হয়। এ গ্রাম আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে আইনজীবী নিয়োগ করতে হয়না। বাদীর কথা বাদী নিজেই বলতে পারে। গ্রাম আদালতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট বিচারকের প্যানেল করা হয়। এতে বাদী বিবাদীর সদস্যসহ চেয়ারম্যানের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠন করা হয়। এতে বাদীর সময় ও অর্থ দুটিরও অপচয় কম হয়। অল্প খরচে অল্প সময়ের মধ্যেই সঠিক বিচার পাওয়া যায়। বাদী বিবাদী এতে সমান সুবিধা পাবে। নিজ ইউনিয়ন পরিষদেই সমাধান পাওয়া যায়। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ বা সমস্যার সমাধান হয় কিন্তু বিরোধ থেকে বড় ধরনের বিরোধ দেখা দেয়না। যেকোন ব্যক্তি সরাসরি গ্রাম আদালতে গিয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারে।