ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:

শেখ হাসিনার প্রশ্নে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ?

Astha DESK
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০১৩ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনার প্রশ্নে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশাল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন। এই দিনে তাঁর সরব হওয়া বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে, ভারতের মতো একটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মাটি ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে রাজনৈতিক তাৎপর্য: কামব্যাক নাকি অস্তিত্বের লড়াই?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দুটি বার্তা দিতে চাইছেন। প্রথমত, তাঁর দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরা। সাকিব আল হাসানের মতো গ্লোবাল আইকনকে পাশে রেখে তিনি বোঝাতে চাইছেন যে, ক্রীড়া ও যুব সমাজ এখনো তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর প্রভাব
দিল্লির এই আয়োজন নিয়ে ঢাকার বর্তমান প্রশাসন (তারেক রহমান সরকার/অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা) চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বেগের পর ভারত সরকার এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

ভারতের উভয়সংকট: একদিকে পুরনো বন্ধু শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও সম্মান দেওয়া, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধী ফ্যাক্টর: ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ (গুঞ্জন অনুযায়ী) প্রমাণ করে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে, যা ঢাকার জন্য উদ্বেগের কারণ।

দলটির দাবি, দেশ এখন এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়। বিএনপি নেতারা এই আয়োজনকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জনগণের গণঅভ্যুত্থানকে অপমান করার একটি অপচেষ্টা। জাতিসংঘ থেকে তারেক রহমান সরকারকে দেওয়া সাম্প্রতিক চিঠির প্রেক্ষাপটে বিএনপি এখন অনেক বেশি সজাগ।

আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
মার্কিন দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর এবং ভারতের এই সাম্প্রতিক তৎপরতা একসূত্রে বাঁধলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার ‘নতুন সুর’ এবং ভারতের ‘পুরনো অবস্থান’ মিলে একটি বড় রাজনৈতিক ডিল বা সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। জাতিসংঘ যখন আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন দিল্লির এই অনুষ্ঠান সেই দাবির পালে হাওয়া দেবে।

৫ আগস্টের এই অনুষ্ঠানটি কেবল ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি সেশন নয়, এটি হতে পারে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরির প্রথম ধাপ। শেখ হাসিনা কি ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা দেবেন? নাকি দিল্লি থেকেই রিমোট কন্ট্রোলে রাজনীতি পরিচালনা করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া এখন দিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামের এ মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ

 

ট্যাগস :

শেখ হাসিনার প্রশ্নে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ?

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার প্রশ্নে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিশাল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন। এই দিনে তাঁর সরব হওয়া বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে, ভারতের মতো একটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মাটি ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দিয়েছে রাজনৈতিক তাৎপর্য: কামব্যাক নাকি অস্তিত্বের লড়াই?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দুটি বার্তা দিতে চাইছেন। প্রথমত, তাঁর দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরা। সাকিব আল হাসানের মতো গ্লোবাল আইকনকে পাশে রেখে তিনি বোঝাতে চাইছেন যে, ক্রীড়া ও যুব সমাজ এখনো তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর প্রভাব
দিল্লির এই আয়োজন নিয়ে ঢাকার বর্তমান প্রশাসন (তারেক রহমান সরকার/অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা) চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বেগের পর ভারত সরকার এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

ভারতের উভয়সংকট: একদিকে পুরনো বন্ধু শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও সম্মান দেওয়া, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধী ফ্যাক্টর: ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ (গুঞ্জন অনুযায়ী) প্রমাণ করে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে, যা ঢাকার জন্য উদ্বেগের কারণ।

দলটির দাবি, দেশ এখন এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়। বিএনপি নেতারা এই আয়োজনকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জনগণের গণঅভ্যুত্থানকে অপমান করার একটি অপচেষ্টা। জাতিসংঘ থেকে তারেক রহমান সরকারকে দেওয়া সাম্প্রতিক চিঠির প্রেক্ষাপটে বিএনপি এখন অনেক বেশি সজাগ।

আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
মার্কিন দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর এবং ভারতের এই সাম্প্রতিক তৎপরতা একসূত্রে বাঁধলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার ‘নতুন সুর’ এবং ভারতের ‘পুরনো অবস্থান’ মিলে একটি বড় রাজনৈতিক ডিল বা সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। জাতিসংঘ যখন আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন দিল্লির এই অনুষ্ঠান সেই দাবির পালে হাওয়া দেবে।

৫ আগস্টের এই অনুষ্ঠানটি কেবল ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি সেশন নয়, এটি হতে পারে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরির প্রথম ধাপ। শেখ হাসিনা কি ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা দেবেন? নাকি দিল্লি থেকেই রিমোট কন্ট্রোলে রাজনীতি পরিচালনা করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া এখন দিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামের এ মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়।

দৈনিক আস্থা/এমএইচ