সংবিধান ধর্ষণকারীদের মুখে সংবিধান সংরক্ষণের ধুয়া তোলা বড়ই বেমানান -হাজী সাইফুল এ্যাডভোকেট

21

সংবিধান ধর্ষণকারীদের মুখে সংবিধান সংরক্ষণের ধুয়া তোলা বড়ই বেমানান -হাজী সাইফুল এ্যাডভোকেট

চৌধুরী নুপুর নাহার তাজ, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ সাইফুল ইসলাম এ্যাডভোকেট বলেছেন, যারা সংবিধানকে ধর্ষণ করেছে, যারা বারের টাকা লুটপাট করেছে, যারা বারের টাকা নিজের স্বার্থে সংবিধান বর্হিভূতভাবে সাউথ বাংলা ব্যাংকে রেখেছে, তাদের মুখে সংবিধান সংরক্ষণের ধুয়া তোলা বড়ই বেমানান।

যে কমিটি ২৯ মাস দায়িত্ব পালনের পর ৮২৭ টাকা দিয়ে যায়, তাদের দ্বারা আর যাই হোক সংবিধান সংরক্ষণ বা দুর্নীতি দমন সম্ভব না। এ্যাডভোকেট সাইফুল বলেন, আমাদের টাকা কেউ মেরে খেয়ে যাবে, আমাদের গায়ে এক বিন্দু রক্ত থাকতে তা হতে দেয়া হবে না। যারা ১ হাজার ৮০০ টাকা দামের ফ্যান ক্রয় করে ২৭০০ টাকার ভাউচার দেয় তারা দুর্নীতি করে কি না আমার জানা নেই। শুধু তাই না গোটা বার ঘুরে আমি ৬৪টি ফ্যান পেলেও ভাউচারে ফ্যান ক্রয় করা হয়েছে ২৭৫টি।

বাকী ফ্যান কার ঘরে বা ড্রয়িং রুমে লাগানো হয়েছে সেটাও আমরা জানি না। সামান্য বৈদ্যুতিক বাল্ব কিনতেও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। একেকটা বাল্বের ভাউচারে মূল্য দেখানো হয়েছে ৭২০ টাকা। কিছু বাল্ব নষ্ট হবার পর ওয়ারেন্টিযুক্ত বাল্ব হওয়ায় আমরা সেগুলো নিয়ে গেলাম সংশ্লিষ্ট দোকানে। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম এটি ওয়ারেন্টিযুক্ত বাল্ব নয় এবং এগুলোর প্রতিটির মূল্য ২৯৫ টাকা। এভাবে প্রত্যেকটি বিভাগে দুর্নীতির রাহুগ্রাসে ছেয়ে ফেলা হয়েছে।

ওকালতনামা, হাজিরা ডেমি, জামিন নামাসহ চার প্রকারের জিনিস বিক্রয় আইনজীবী সমিতির আয়ের অন্যতম একটি উৎস। এগুলো ২৯ মাসে ৯ বার ছাপানো হয়েছে। আমরা ছাপাতে গিয়ে দেখলাম প্রতিবার অন্ততঃ দেড় লাখ টাকা করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আইনজীবী সমিতির টাকা আমাদের শ্রম, মেধা ও ঘামের টাকা। এ টাকা এভাবে তছরুপ হতে দেয়া যায় না। সম্মিলিতভাবে এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। ২ মার্চ মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ৩য় তলায় দূর্নীতি প্রতিরোধ কল্পে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

দূর্নীতি প্রতিরোধ ঐক্যজোট’র আহবায়ক সাবেক এমপি এ্যাড. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মাজহারুল ইসলাম সরকার, দূর্নীতি প্রতিরোধ ঐক্যজোটের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. আমিরুল ইসলাম তুফান, এ্যাড. কাজেম উদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এ্যাড. মাহফুজুর রহমান খান, এ্যাড. বরকত আলী, সদস্য এ্যাড. রবিউল ইসলাম রবি, এ্যাড. শামসুর রহমান পারভেজ, এ্যাড. তোহা, এ্যাড. আনোয়ারুল আজিম খোকন, এ্যাড. একেএম মনসুর রহমান, এ্যাড. রুহিনী কান্ত রায়, এ্যাড. আতাউর রহমান আতা, এ্যাড. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, এ্যাড. তৌহিদা ইয়াসমিন তানিম, এ্যাড. রাবেয়া ফেরদৌসী রুশী, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম-২, এ্যাড. শফিউল আলম, এ্যাড. আব্দুল হাকিম, এ্যাড. রেজাউল ইসলাম, এ্যাড. ইউসুফ আলী-২, এ্যাড. মিজানুর রহমান-৩, এ্যাড. মনজুর আলম মঞ্জুরুল, এ্যাড. শাহীনুর রহমান মানিক, এ্যাড. শরীয়াত হোসেন, এ্যাড. খুরশীদা পারভীন জলি, এ্যাড. ফিরোজ আহমেদ, এ্যাড. আইনুন নাহার বেগম, এ্যাড. আরজিনা বাঁধন, এ্যাড. রনজিৎ কুমার সরকার, এ্যাড. বিনয় কান্তি রায় জীবন, এ্যাড. ইকবাল রায়হান হোসেন, এ্যাড. অমল কুমার দেব শর্মা, এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক লাবু, এ্যাড. শফিকুর রহমান, এ্যাড. একরামুল হক, এ্যাড. আসিরউদ্দীন, এ্যাড. জাকারিয়া হোসেন, এ্যাড. আইনুল, এ্যাড. স্বপন কুমার, এ্যাড. শফিজুর রহমান, এ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন প্রমূখ। সভায় দূর্নীতি প্রতিরোধ ঐক্যজোটের ১৫১ জন সদস্যসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সমিতির দূর্নীতি প্রতিরোধে এবং দূর্নীতিবাজদের ধরে আইনের আওতায় আনতে সবাই একমত হোন।