ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
Logo ময়মনসিংহ রাস্তা বন্ধ করে এনসিপির পথসভা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা Logo দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ নারী নিহত; আহত ৪০ Logo ফুলবাড়িয়ায় শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের Logo কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আটক Logo ২০১৮ সালের যুবলীগ নেতা হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি শেখ হাসিনা Logo আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া ছয় সমন্বয়ক মীর জাফর-মাসুদ কামাল Logo সুবর্ণচরে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি, থানায় জিডি Logo উত্তরের ৬ জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক Logo রাঙামাটিতে মায়ের দায়ের কোপে ছেলের মৃত্যু; বাবা-মা আটক Logo রিয়াদে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ

সন্তানকে নামাজি করে তুলতে পিতা-মাতা যা করবেন

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১
  • / ১১২১ বার পড়া হয়েছে

জান্নাত বা বেহেস্ত হলো চির-শান্তির স্থান। একজন ঈমান্দার ও নেককার বান্দাদের জন্য চির-শান্তির আবাস্থল হিসেবে বেহেস্ত তৈরি করে রেখেছেন আল্লাহ তায়ালা। আর নামাজ হলো বেহেস্তের চাবি। ঈমানের পর একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

নামাজ মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামাজের মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর সামনে পেশ করতে পারি। শিশু বয়স থেকে নামাজের অনুশীলন করলে পরবর্তী জীবনে এর বিরাট সুফল লাভ করা যায়।

মুসলিম মা-বাবা হিসেবে আপনি আপনার সন্তানের কাছে প্রথম উদাহরণ। আপনি যদি সবসময় ইবাদত-বন্দেগীকে অগ্রাধিকার দেন এবং এই ক্ষেত্রে কোনো অলসতা বা অবহেলা না করেন তাহলেই আপনার সন্তান নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজ শিক্ষা দাও, যখন তাদের বয়স থাকে সাত। আর যখন তারা দশ বছরে পৌঁছে যাবে তখন তোমারা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের জন্য প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও। (আবু দাউদ)

যদিও সাত বছর বয়সে শিশুরা নামাজ আদায় করতে বাধ্য নয়। তবে তারা সাত বছর থেকে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, তরুণ হওয়ার পরেও নামাজের বিষয়ে অনাগ্রহী হবে না।

বাসায় নামাজের জন্য একটি ঘরকে নির্দিষ্ট করে রাখুন। অথবা একটি ঘরের এক কোণায় সামান্য জায়গা নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রাখুন। যাতে করে আপনার সন্তান বুঝতে পারে নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যার কারণে একটা নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।

সন্তানদেরকে শিক্ষা দিন যে, এটা শুধু নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গা। এই জায়গাকে সব সময় পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে হবে। বাসায় ইসলামী ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। এটা সন্তানদের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করবে। কেননা ইসলামী ক্যালেন্ডারটি সন্তানের চাক্ষুষ অনুস্মারক হিসেবে কাজ করবে। আর প্রতিটি শুক্রবার তাকে স্মরণ করিয়ে দিন।

সন্তানের বয়স সাত বছর হলেই তাদেরকে নামাজের শিক্ষা দিন। তাদের জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে উৎসাহিত করার জন্য সন্তানের বন্ধুদের বাসায় আমন্ত্রণ জানান এবং তাদেরকে হিজাব, তাজবিহ অথবা আজান দেয় এমন এলার্ম ঘড়ি উপহার দিতে পারেন।

শৈশব থেকে আপনার সন্তানদের আল্লাহর বিষয়ে শিক্ষা দিন। আল্লাহ সবকিছু কীভাবে তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে আপনার সন্তানদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তৈরি হবে।

বাসায় নবীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। তাদের জীবনী পাঠ করুন এবং তাদের সিরাত নিয়ে কথা বলুন। এটা জীবনে দৈনিক একটা রুটিন বানিয়ে নিন। নবীদেরকে তাদের সামনে মডেল হিসেবে তুলে ধরুন। তাহলে তারা তার মতো হতে চেষ্টা করবে।

বাবা-মা সব সময়ই চায় সন্তানরা নামাজকে ভালোবাসুক। তবে এমন সময়ও আসবে যে, তারা অলসতা করবে এবং নামাজ পড়তে চাইবে না। মা-বাবা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হবে তারা যেন সব সময়ই নামাজ পড়ে; সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষত তাদের বয়স যখন দশ বছর হয়ে যায়। তখন নামাজ ছেড়ে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

নামাজের প্রতি অনুরাগ একটি ইতিবাচক মনোভাব। এটাকে উৎসাহিত করার একটি উপায় হচ্ছে, এটি নিয়ে একটি যৌথ অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন পরিবারিকভাবে কমপক্ষে একবার নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তান যদি আজান দিতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে আজান দেয়ার দায়িত্ব দিন।

ট্যাগস :

সন্তানকে নামাজি করে তুলতে পিতা-মাতা যা করবেন

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১

জান্নাত বা বেহেস্ত হলো চির-শান্তির স্থান। একজন ঈমান্দার ও নেককার বান্দাদের জন্য চির-শান্তির আবাস্থল হিসেবে বেহেস্ত তৈরি করে রেখেছেন আল্লাহ তায়ালা। আর নামাজ হলো বেহেস্তের চাবি। ঈমানের পর একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

নামাজ মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামাজের মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর সামনে পেশ করতে পারি। শিশু বয়স থেকে নামাজের অনুশীলন করলে পরবর্তী জীবনে এর বিরাট সুফল লাভ করা যায়।

মুসলিম মা-বাবা হিসেবে আপনি আপনার সন্তানের কাছে প্রথম উদাহরণ। আপনি যদি সবসময় ইবাদত-বন্দেগীকে অগ্রাধিকার দেন এবং এই ক্ষেত্রে কোনো অলসতা বা অবহেলা না করেন তাহলেই আপনার সন্তান নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজ শিক্ষা দাও, যখন তাদের বয়স থাকে সাত। আর যখন তারা দশ বছরে পৌঁছে যাবে তখন তোমারা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের জন্য প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও। (আবু দাউদ)

যদিও সাত বছর বয়সে শিশুরা নামাজ আদায় করতে বাধ্য নয়। তবে তারা সাত বছর থেকে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, তরুণ হওয়ার পরেও নামাজের বিষয়ে অনাগ্রহী হবে না।

বাসায় নামাজের জন্য একটি ঘরকে নির্দিষ্ট করে রাখুন। অথবা একটি ঘরের এক কোণায় সামান্য জায়গা নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রাখুন। যাতে করে আপনার সন্তান বুঝতে পারে নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যার কারণে একটা নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।

সন্তানদেরকে শিক্ষা দিন যে, এটা শুধু নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গা। এই জায়গাকে সব সময় পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে হবে। বাসায় ইসলামী ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। এটা সন্তানদের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করবে। কেননা ইসলামী ক্যালেন্ডারটি সন্তানের চাক্ষুষ অনুস্মারক হিসেবে কাজ করবে। আর প্রতিটি শুক্রবার তাকে স্মরণ করিয়ে দিন।

সন্তানের বয়স সাত বছর হলেই তাদেরকে নামাজের শিক্ষা দিন। তাদের জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে উৎসাহিত করার জন্য সন্তানের বন্ধুদের বাসায় আমন্ত্রণ জানান এবং তাদেরকে হিজাব, তাজবিহ অথবা আজান দেয় এমন এলার্ম ঘড়ি উপহার দিতে পারেন।

শৈশব থেকে আপনার সন্তানদের আল্লাহর বিষয়ে শিক্ষা দিন। আল্লাহ সবকিছু কীভাবে তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে আপনার সন্তানদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তৈরি হবে।

বাসায় নবীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। তাদের জীবনী পাঠ করুন এবং তাদের সিরাত নিয়ে কথা বলুন। এটা জীবনে দৈনিক একটা রুটিন বানিয়ে নিন। নবীদেরকে তাদের সামনে মডেল হিসেবে তুলে ধরুন। তাহলে তারা তার মতো হতে চেষ্টা করবে।

বাবা-মা সব সময়ই চায় সন্তানরা নামাজকে ভালোবাসুক। তবে এমন সময়ও আসবে যে, তারা অলসতা করবে এবং নামাজ পড়তে চাইবে না। মা-বাবা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হবে তারা যেন সব সময়ই নামাজ পড়ে; সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষত তাদের বয়স যখন দশ বছর হয়ে যায়। তখন নামাজ ছেড়ে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

নামাজের প্রতি অনুরাগ একটি ইতিবাচক মনোভাব। এটাকে উৎসাহিত করার একটি উপায় হচ্ছে, এটি নিয়ে একটি যৌথ অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন পরিবারিকভাবে কমপক্ষে একবার নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তান যদি আজান দিতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে আজান দেয়ার দায়িত্ব দিন।