দুই কর্মচারীকে শোকজ করা কর্মকর্তা বদলি
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে
দুই কর্মচারীকে শোকজ করা কর্মকর্তা বদলি
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মৃত মায়ের সরকারি পাওনার ১০ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী সন্তান শাহেদ শরীফ আহমেদ। এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। এই ক্ষোভ থেকেই সারাদেশের ঘুষের চিত্র তুলে ধরতে ‘ঘুষ.সাইট’ নামক এক ওয়েবসাইট তৈরি করে বসেন শাহেদ।
তার অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয় এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মুহাম্মদ মজিবুর রহমান নামে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে জমা হয় তদন্ত প্রতিবেদন। কিন্তু, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার তিন দিনের মাথায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে শোকজ করা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে বদলি করে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। ‘জনস্বার্থে’ এই বদলি বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে।
তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুই কর্মচারীকে শোকজ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা এবং এর পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাকে কেন বদলি করা হলো, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে আলোচনা।
‘ঘুষ.সাইট’ নির্মাতা শাহেদের অভিযোগ, তার মা আমিনা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর কল্যাণ তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরও ৮ লাখ টাকা পাওয়ার কথা তাদের পরিবারের। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা পেতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কাছে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ শাহেদের।
তার দাবি, ‘ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না’ বলেও তাদের জানানো হয়। পরে তিনি এ ঘটনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরি করেন এবং সেখানে অভিযোগ করেন।
অভিযোগটি সামনে আসার পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের স্বাক্ষরিত শো-কজ নোটিশে ২ কর্মচারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এর তিন দিনের মাথায়, ৯ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশে মনিকা পারভীনকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হারুন সিকদার বলেন, ‘আমাদের ৩ জনকে শোকজের বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন গত রোববার জমা দেওয়া হয়েছে। এর বেশি এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।’
বদলির বিষয়ে মনিকা পারভীন বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো কর্মকর্তা সরকারি আদেশে যেকোনো সময় বদলি হতে পারেন। শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলির পেছনে আলাদা কোনো কারণ আছে কি না, আমার জানা নেই।’
ঘুষ.সাইটে করা অভিযোগ ও দুই কর্মচারীকে শোকজের সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঘুষ.সাইটে অভিযোগ ও শোকজের কারণেও হতে পারে। আবার নান্দাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করে থাকতে পারেন, এ কারণেও হতে পারে।’
আস্থা/এমএইচ



















