স্কুলে নামাজ বাধ্যতামূলক করে প্রশংসায় ভাসছেন হিন্দু শিক্ষক
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০১৬ বার পড়া হয়েছে
স্কুলে নামাজ বাধ্যতামূলক করে প্রশংসায় ভাসছেন হিন্দু শিক্ষক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজ বাধ্যতামূলক করার বার্তা দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শিরিন হক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়।
স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাঁর এই পদক্ষেপে অসাম্প্রদায়িকতার মেলবন্ধন খুঁজে পাচ্ছেন। তবে আরেকটি পক্ষ শিক্ষকের ওই বক্তব্য খণ্ডিত আকারে প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)-র অনুষ্ঠানে সমর কৃষ্ণ রায় নামাজ নিয়ে দীর্ঘ একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যে তাঁকে শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিতে শোনা যায়। বারবার তিনি নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একটি বাক্যে বলেন, নামাজ না পড়লে ১০ মার্ক কেটে নেওয়া হবে। এখানে ভুল করে ‘না’ শব্দটি বাদ পড়ে।
সমর কৃষ্ণের অভিযোগ, তাঁর প্রতিপক্ষরা বক্তব্যের এই অংশটুকু কেটে প্রচার করছেন। পুরো বক্তব্যের ভিডিও দেখে তিনি সবাইকে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।
এদিকে, রবিবার (১১ অক্টোবর) এ ঘোষনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা সঠিক তথ্য তুলে ধরার দাবি জানায়। প্রধান শিক্ষকও বক্তব্য দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ‘না’ শব্দটি বাদ পড়ার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম বলেন, ‘আমি এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং মুসলিম। সাংবাদিকতা আমাদের সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে মুসলিম ধর্মের প্রতি তাঁর আগ্রহ ও শ্রদ্ধা দেখেছি। তিনি মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করেন এবং ছাত্রীদের নামাজ পড়তে উৎসাহ দেন। সম্প্রতি নামাজের জন্য একটি কক্ষের ব্যবস্থা করেছেন এবং প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার জায়নামাজ কিনে দিয়েছেন বলে আমি জানি।
তিনি বলেন, কোনো ছাত্রী নামাজ না পড়লে পরীক্ষায় তার ১০ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। কিন্তু কিছু সাংবাদিক কী কারণে এমন একটি বক্তব্য প্রচার করেছেন, তা আমার বোধগম্য নয়। আমরা চাই, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হোক।’
আস্থা/এমএইচ



















