হালুয়াঘাটে চোরা কারবারি নিহতের জেরে সড়ক অবরোধ
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০২৮ বার পড়া হয়েছে
হালুয়াঘাটে চোরা কারবারি নিহতের জেরে সড়ক অবরোধ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গুলিতে নোমান মিয়া (৩০) নিহতর জেরে চলছে সড়ক অবরোধ। এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে নোমানকে গুলি করা হয়।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন ঝলঝলিয়া (জলজলিয়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবিতে সোমবার সকালে হালুয়াঘাট সদরে ময়মনসিংহ-আঞ্চলিক মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নুরুল আজিম বায়েজীদের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর পৌনে ৬ টার দিকে বিজিবির একটি টহলদল ঝলঝলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করে। জব্দ করা মালামাল নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা টহলদলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকায় বিজিবির এক সদস্য আহত হন। পরে নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হলে নোমান গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নোমানের মরদেহ হাসপাতালে নেওয়ার পর ঝলঝলিয়া এলাকার বাসিন্দারা হালুয়াঘাট সদরে এসে ময়মনসিংহ-আঞ্চলিক মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত নোমানের ছোট ভাই আবু রাইহানের অভিযোগ, রাতে এলাকায় বিজিবি সদস্যরা গরু খুঁজছিলেন। এ সময় ফোন পেয়ে তাঁর ভাই ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, ‘তাঁদের অভিযোগ মিথ্যা। নোমান আহত হওয়ার পরপরই তাঁকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে, তা সঠিক তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
আস্থা/এমএইচ



















