ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুরের জাদুকরের ক্ষোভ

Iftekhar Ahamed
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১
  • / ১০৭৫ বার পড়া হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক:উপমহাদেশ তো বটেই পুরো বিশ্বজুড়েই বর্তমান সময়ের সুরের বিস্ময়কর এক জাদুকরের নাম আল্লাহ রাখা রহমান। যাকে সবাই চেনেন এ আর রহমান। ভারতীয় এই সুরকারের ৫৪তম জন্মদিন গেল ৬ জানুয়ারি। ভারতের মানুষ তাকে ডাকেন ‘দ্য মোৎসার্ট অব মাদ্রাজ’ নামে।

২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর মা করিমা বেগমকে হারিয়েছেন রহমান। সংগীতের অনেকখানিজুড়ে ছিলেন তার মা। ১৯৬৬ সালের ৬ জানুয়ারি চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পারিবারিক নাম ছিল এএস দিলীপ কুমার। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় আল্লাহ রাখা রহমান, যা সংক্ষেপে এ আর রহমান। ব্যক্তি জীবনে তার সহধর্মিণীর নাম সায়রা বানু।

উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী এ আর রহমান বলেছেন, আমি বলিউডের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কুনজরের শিকার। বলিউড থেকে আমাকে তাড়াতে বিরাট একটা গ্যাং সক্রিয়। সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার পর থেকেই বলিউডের অন্দরের নানা অজানা কথা সামনে আসতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগে গায়ক সোনু নিগম বলেছিলেন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকেও এমন আত্মহত্যার খবর পাবেন সবাই। এর মধ্যেই এ আর রহমান মুখ খুললেন বলিউডে তার অবস্থান নিয়ে। সুরের জাদুকরের মুখে এমন কথা শুনে অবশ্য চমকে উঠছেন তার ভক্তরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, এ আর রহমান ভারতের দক্ষিণী সিনেমায় নিয়মিত গান করেন; কিন্তু তাকে বলিউডে নিয়মিত পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন তাকে পাওয়া যায় না? সেই প্রসঙ্গে এই সংগীতশিল্পী বলেছেন, বলিউডে ‘গ্যাং’-এর আধিপত্য চলছে। তার কথায়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটা গ্যাং রয়েছে, যারা আমার সম্পর্কেও গুজব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ভালো ছবি না বলার ক্ষেত্রেই এরা এই গুজব ছড়িয়েছে।

সদ্য মুক্তি পাওয়া সুশান্ত সিং রাজপুতের শেষ ছবি, মুকেশ ছাবড়া পরিচালিত ‘দিল বেচারা’র সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যখন মুকেশ ছাবড়া আমার কাছে আসে, তাকে দু’দিনে চারটি গান দিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, অনেকে বলেছিল, রহমানের কাছে যেও না এবং আমাকে বিভিন্ন কথা শুনিয়েছে। আমি এটা শোনার পর বুঝতে পারি, কেন ভালো সিনেমাগুলোতে কাজের প্রস্তাব পাই না। একটি বড় চক্র আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং না জেনেই ক্ষতি করছে।

বলিউডে তাকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এ আর রহমান আরও জানান, অনেকে হয়তো চাইছেন আমি কাজ করি; কিন্তু সেই গ্যাং তাদের সেটা করতে বাধা দিচ্ছে ।তিনি জানালেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী, পরম করুণাময় আল্লাহতে বিশ্বাসী। আমি মনে করি ভালো কাজ আল্লাহতায়ালা দেন; কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই যে আমি সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই। অনেক ভালো ভালো ছবিতে কাজ করতে চাই। আমার দরজা সবার জন্য খোলা রইল।’

এ আর রহমানের সংগীত বলিউড সিনেমাকে দিয়েছে ভিন্ন স্বাদ ও অভিজ্ঞতা। জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন অস্কার। ২০০৯ সালের ৮১তম অস্কার আসরে ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’ সিনেমার জন্য মিউজিক কম্পোজার হিসেবে সেরা অরিজিনাল মিউজিক স্কোর ও সেরা অরিজিনাল সং ‘জয় হো’ গানের জন্য ডাবল অস্কার জেতেন তিনি। ২০১০ সালে ‘পদ্ম ভূষণ’-এ সম্মানিত হয়েছেন এ আর রহমান।

ট্যাগস :

সুরের জাদুকরের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১

বিনোদন ডেস্ক:উপমহাদেশ তো বটেই পুরো বিশ্বজুড়েই বর্তমান সময়ের সুরের বিস্ময়কর এক জাদুকরের নাম আল্লাহ রাখা রহমান। যাকে সবাই চেনেন এ আর রহমান। ভারতীয় এই সুরকারের ৫৪তম জন্মদিন গেল ৬ জানুয়ারি। ভারতের মানুষ তাকে ডাকেন ‘দ্য মোৎসার্ট অব মাদ্রাজ’ নামে।

২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর মা করিমা বেগমকে হারিয়েছেন রহমান। সংগীতের অনেকখানিজুড়ে ছিলেন তার মা। ১৯৬৬ সালের ৬ জানুয়ারি চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পারিবারিক নাম ছিল এএস দিলীপ কুমার। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় আল্লাহ রাখা রহমান, যা সংক্ষেপে এ আর রহমান। ব্যক্তি জীবনে তার সহধর্মিণীর নাম সায়রা বানু।

উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী এ আর রহমান বলেছেন, আমি বলিউডের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কুনজরের শিকার। বলিউড থেকে আমাকে তাড়াতে বিরাট একটা গ্যাং সক্রিয়। সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার পর থেকেই বলিউডের অন্দরের নানা অজানা কথা সামনে আসতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগে গায়ক সোনু নিগম বলেছিলেন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকেও এমন আত্মহত্যার খবর পাবেন সবাই। এর মধ্যেই এ আর রহমান মুখ খুললেন বলিউডে তার অবস্থান নিয়ে। সুরের জাদুকরের মুখে এমন কথা শুনে অবশ্য চমকে উঠছেন তার ভক্তরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, এ আর রহমান ভারতের দক্ষিণী সিনেমায় নিয়মিত গান করেন; কিন্তু তাকে বলিউডে নিয়মিত পাওয়া যায় না। কিন্তু কেন তাকে পাওয়া যায় না? সেই প্রসঙ্গে এই সংগীতশিল্পী বলেছেন, বলিউডে ‘গ্যাং’-এর আধিপত্য চলছে। তার কথায়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটা গ্যাং রয়েছে, যারা আমার সম্পর্কেও গুজব ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ভালো ছবি না বলার ক্ষেত্রেই এরা এই গুজব ছড়িয়েছে।

সদ্য মুক্তি পাওয়া সুশান্ত সিং রাজপুতের শেষ ছবি, মুকেশ ছাবড়া পরিচালিত ‘দিল বেচারা’র সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যখন মুকেশ ছাবড়া আমার কাছে আসে, তাকে দু’দিনে চারটি গান দিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, অনেকে বলেছিল, রহমানের কাছে যেও না এবং আমাকে বিভিন্ন কথা শুনিয়েছে। আমি এটা শোনার পর বুঝতে পারি, কেন ভালো সিনেমাগুলোতে কাজের প্রস্তাব পাই না। একটি বড় চক্র আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং না জেনেই ক্ষতি করছে।

বলিউডে তাকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এ আর রহমান আরও জানান, অনেকে হয়তো চাইছেন আমি কাজ করি; কিন্তু সেই গ্যাং তাদের সেটা করতে বাধা দিচ্ছে ।তিনি জানালেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী, পরম করুণাময় আল্লাহতে বিশ্বাসী। আমি মনে করি ভালো কাজ আল্লাহতায়ালা দেন; কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই যে আমি সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই। অনেক ভালো ভালো ছবিতে কাজ করতে চাই। আমার দরজা সবার জন্য খোলা রইল।’

এ আর রহমানের সংগীত বলিউড সিনেমাকে দিয়েছে ভিন্ন স্বাদ ও অভিজ্ঞতা। জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন অস্কার। ২০০৯ সালের ৮১তম অস্কার আসরে ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’ সিনেমার জন্য মিউজিক কম্পোজার হিসেবে সেরা অরিজিনাল মিউজিক স্কোর ও সেরা অরিজিনাল সং ‘জয় হো’ গানের জন্য ডাবল অস্কার জেতেন তিনি। ২০১০ সালে ‘পদ্ম ভূষণ’-এ সম্মানিত হয়েছেন এ আর রহমান।